ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

রাজবাড়ীর মূলঘর ইউনিয়নের চুরির জব্দ কৃত গাছ রাতের আধারে পরিষদ থেকে উধাও

ইমরান হোসেন মনিম-রাজবাড়ী:
  • আপডেট সময় : ১০:২৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৬৭ বার পঠিত

রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের গত ২০২২ ও ২০২৩ সালে রাস্তার পাশের চুরি হওয়া জব্দকৃত গাছ রেজুলেশন করে রাখা ছিল মূলঘর ইউনিয়ন চত্তরের পাশে।

গত দুই বছরের চুরি হওয়া সরকারের জব্দকৃত গাছ গুলো হঠাৎ রাতের আধারে উধাও হয়ে যায়।

দুই বছরে এ ইউনিয়নে রাস্তার পাশের সরকারী বিভিন্ন ধরনের মোটা ও মাঝারি আকৃতির রয়না,শিশু ও মেহেগুনির মোটা ও মাঝারি গোলাকৃতির ২০/২৫ টি গাছ জব্দ করে রেজুলেশন করে গাছ মূলঘর ইউনিয়ন চেয়াম্যানের হেফাযতে রাখা হয়।এভাবেই গত দুই বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে থাকা মিনি রেস্ট হাউজের টিনশেড ঘরের পাশে স্তুপ করে রাখা হয়।অথচ গত তিন দিন ধরে রাতের আধারে গাছগুলো উধাও হয়ে গেল কেউ জানল না। স্বয়ং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য,গ্রাম পুলিশ,পরিষদের সামনে থাকা দোকানী কেউ জানেনা গাছ গুলো কি হল।তবে তারা জানায় গত কয়েকদিন আগেও গাছ গুলো এখানেই ছিল,এখন কি হল তা বলতে পারেননি।

গত বছর ও চলতি বছর বাঘিয়া সিরাদহ,বিলনয়াবাদ ও মূলঘর এ তিনটি স্থান থেকে রাতের আধারে চুরি যাওয়া গাছ গুলো জব্দ করে মূলঘর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে চেয়ারম্যান শেখ মো.ওহিদুজ্জামানের তত্বাবধানে রেজুলেশন করে হেফাজতে রাখেন সাবেক সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মার্জিয়া সুতানা। সে সময় তিনবার রাতের অন্ধকারে চুড়ি করে গাছ কেটে নেওয়ার সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক,নিউজ পোর্টাল ও স্থানীয় গনমাধ্যমে প্রকাশ পায়। কিন্তু গত ৩/৪ আগে চেয়ারম্যানের হেফাজতে থাকা গাছগুলো কোথায় কিভাবে উধাও হয়ে গেলো তা কেউই সঠিক ভাবে বলতে পারছেনা। তবে অত্র ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার সব শ্রেনী পেশার মানুষই গাছের কোন হদিস বা গাছ গুলো কি হল তা কেউ বলতে পারেননি।

মূলঘর ইউনিয়নের বিলনয়াবাদ ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আরশাদ আলী জানান,গত ৩/৪ ধরে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে রাখা গাছ গুলো তিনি দেখছেন না।এত গুলো গাছ কোথায় গেলো তাও তিনি বলতে পারছেন না।গত বছর রাস্তার পাশে ঝড়ে পড়ে ছিল বড় আকৃতির একটি শিশু গাছ।সব সময় চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমি এ গাছটি সহ বিলনয়াবাদ ও মূলঘর থেকে আরো বেশ কয়েকটি গাছ কেটে রেখেছিলাম। তবে আমাদের চেয়ারম্যান ভালে বলতে পারবে বলে জানান তিনি।

ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার রশরা গ্রামের রহমত কাজী ও আব্দুল সাত্তার জানান,কয়েকদিন আগেও পরিষদের সামবে ঘরের পাশে গাছগুলো দেখেছি এখনতো আর গাছগুলো দেখছিনা। কে বা কারা নিয়ে গেছে আমরা তা জানিনা।

এ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের দ্বায়িত্বে থাকা জাহাঙ্গীর আলম,আক্কাস মন্ডল বলেন,আমরা তো আর সবসময় ইউনিয়ন পরিষদে পরে থাকি না।গাছ গুলো চুরি হয়েছে না কেউ নিয়ে গেছে কিছুই বলতে পারবো না।

মূলঘর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে সদর উপজেলার নিচতলায় দেখা হলে তাকে জব্দ কৃত গাছ গুলো কোথায় জানতে চাইলে চাইলে প্রথমে তিনি গাছ গুলো অনেক দিন পড়ে থাকায় তা উই পোকায় নস্ট করছে ও পচন ধরেছিলো তাই তিনি বিক্রি করেছে বলে জানান।এর পর জব্দ করা মালামাল আপনার তত্বাবধানে রাখার পর আপনি কিভাবে বিক্রি করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তখন তার আগের বলা কথা ঘুরিয়ে পেচিয়ে ইউনিয়নের এক সদস্য গাছ গুলো বিক্রি করেছে,আমি কিছু জানিনা বলে বিদায় নিয়ে চলে যান।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সারমীন ইয়াছমিন বলেন,ইউনিয়ন পরিষদের তত্ববধানে কোন কিছু রাখা হলে চেয়ারম্যান তা ইউএনও ও এসিল্যান্ডের অনুমতি ব্যাতিত কোন কিছু করতে পারেন না।আর তিনি যদি অবহিত না করে সিদ্ধান্ত একাই গ্রহন করেন তাহলে উপযুক্ত প্রমান সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

রাজবাড়ীর মূলঘর ইউনিয়নের চুরির জব্দ কৃত গাছ রাতের আধারে পরিষদ থেকে উধাও

আপডেট সময় : ১০:২৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের গত ২০২২ ও ২০২৩ সালে রাস্তার পাশের চুরি হওয়া জব্দকৃত গাছ রেজুলেশন করে রাখা ছিল মূলঘর ইউনিয়ন চত্তরের পাশে।

গত দুই বছরের চুরি হওয়া সরকারের জব্দকৃত গাছ গুলো হঠাৎ রাতের আধারে উধাও হয়ে যায়।

দুই বছরে এ ইউনিয়নে রাস্তার পাশের সরকারী বিভিন্ন ধরনের মোটা ও মাঝারি আকৃতির রয়না,শিশু ও মেহেগুনির মোটা ও মাঝারি গোলাকৃতির ২০/২৫ টি গাছ জব্দ করে রেজুলেশন করে গাছ মূলঘর ইউনিয়ন চেয়াম্যানের হেফাযতে রাখা হয়।এভাবেই গত দুই বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে থাকা মিনি রেস্ট হাউজের টিনশেড ঘরের পাশে স্তুপ করে রাখা হয়।অথচ গত তিন দিন ধরে রাতের আধারে গাছগুলো উধাও হয়ে গেল কেউ জানল না। স্বয়ং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য,গ্রাম পুলিশ,পরিষদের সামনে থাকা দোকানী কেউ জানেনা গাছ গুলো কি হল।তবে তারা জানায় গত কয়েকদিন আগেও গাছ গুলো এখানেই ছিল,এখন কি হল তা বলতে পারেননি।

গত বছর ও চলতি বছর বাঘিয়া সিরাদহ,বিলনয়াবাদ ও মূলঘর এ তিনটি স্থান থেকে রাতের আধারে চুরি যাওয়া গাছ গুলো জব্দ করে মূলঘর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে চেয়ারম্যান শেখ মো.ওহিদুজ্জামানের তত্বাবধানে রেজুলেশন করে হেফাজতে রাখেন সাবেক সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মার্জিয়া সুতানা। সে সময় তিনবার রাতের অন্ধকারে চুড়ি করে গাছ কেটে নেওয়ার সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক,নিউজ পোর্টাল ও স্থানীয় গনমাধ্যমে প্রকাশ পায়। কিন্তু গত ৩/৪ আগে চেয়ারম্যানের হেফাজতে থাকা গাছগুলো কোথায় কিভাবে উধাও হয়ে গেলো তা কেউই সঠিক ভাবে বলতে পারছেনা। তবে অত্র ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার সব শ্রেনী পেশার মানুষই গাছের কোন হদিস বা গাছ গুলো কি হল তা কেউ বলতে পারেননি।

মূলঘর ইউনিয়নের বিলনয়াবাদ ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আরশাদ আলী জানান,গত ৩/৪ ধরে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে রাখা গাছ গুলো তিনি দেখছেন না।এত গুলো গাছ কোথায় গেলো তাও তিনি বলতে পারছেন না।গত বছর রাস্তার পাশে ঝড়ে পড়ে ছিল বড় আকৃতির একটি শিশু গাছ।সব সময় চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমি এ গাছটি সহ বিলনয়াবাদ ও মূলঘর থেকে আরো বেশ কয়েকটি গাছ কেটে রেখেছিলাম। তবে আমাদের চেয়ারম্যান ভালে বলতে পারবে বলে জানান তিনি।

ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার রশরা গ্রামের রহমত কাজী ও আব্দুল সাত্তার জানান,কয়েকদিন আগেও পরিষদের সামবে ঘরের পাশে গাছগুলো দেখেছি এখনতো আর গাছগুলো দেখছিনা। কে বা কারা নিয়ে গেছে আমরা তা জানিনা।

এ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের দ্বায়িত্বে থাকা জাহাঙ্গীর আলম,আক্কাস মন্ডল বলেন,আমরা তো আর সবসময় ইউনিয়ন পরিষদে পরে থাকি না।গাছ গুলো চুরি হয়েছে না কেউ নিয়ে গেছে কিছুই বলতে পারবো না।

মূলঘর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে সদর উপজেলার নিচতলায় দেখা হলে তাকে জব্দ কৃত গাছ গুলো কোথায় জানতে চাইলে চাইলে প্রথমে তিনি গাছ গুলো অনেক দিন পড়ে থাকায় তা উই পোকায় নস্ট করছে ও পচন ধরেছিলো তাই তিনি বিক্রি করেছে বলে জানান।এর পর জব্দ করা মালামাল আপনার তত্বাবধানে রাখার পর আপনি কিভাবে বিক্রি করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তখন তার আগের বলা কথা ঘুরিয়ে পেচিয়ে ইউনিয়নের এক সদস্য গাছ গুলো বিক্রি করেছে,আমি কিছু জানিনা বলে বিদায় নিয়ে চলে যান।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সারমীন ইয়াছমিন বলেন,ইউনিয়ন পরিষদের তত্ববধানে কোন কিছু রাখা হলে চেয়ারম্যান তা ইউএনও ও এসিল্যান্ডের অনুমতি ব্যাতিত কোন কিছু করতে পারেন না।আর তিনি যদি অবহিত না করে সিদ্ধান্ত একাই গ্রহন করেন তাহলে উপযুক্ত প্রমান সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।