ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক ও অপরাধমুক্ত আধুনিক ওয়ার্ড গড়তে চান ইউপি সদস্য প্রার্থী মাকছুদুর রহমান গোয়ালন্দে মুক্তিযোদ্ধা-রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বোয়ালমারীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন আলফাডাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা দৌলতপুরে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর

গোয়ালন্দে বাল্যবিয়ে ও দারিদ্রতায় ঝড়ে পড়ল ৪১ পরিক্ষার্থীর জীবন

প্রতিদিনের খবর ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুন ২০২৩ ২৪৫ বার পঠিত

সদ্য সমাপ্ত এসএসসি পরিক্ষায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় বাল‍্য বিয়ে ও দারিদ্র্য তার কারণে ঝড়ে পড়েছে ৪১ জন শিক্ষার্থী।

ফরম পূরন করার পরও তারা পরীক্ষা দিতে পারেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেয়েদের অধিকাংশই বাল্য বিয়ের শিকার হওয়ায় এবং ছেলেরা দারিদ্রতার কারণে সংসারের হাল ধরতে কাজে চলে যাওয়ায় পরিক্ষা দিতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া গেলে ভবিষ্যতে ঝড়ে পড়ার এ হার কমে আসত বলে তাদের অভিমত।

পরীক্ষা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এসএসসি পরিক্ষায় ১ হাজার ১৫৮ জন পরিক্ষার্থী ছিল। তবে এর মধ্যে ২০ জন ছাত্রী এবং ৭ জন ছাত্র পরিক্ষায় অনুপস্থিত ছিল।

 মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১২৫ জনের মধ্যে ২ জন ছাত্রী এবং কারিগরি শিক্ষায় ৭৩ জনের মধ্যে ৮ জন ছাত্রী ও ৪ জন ছাত্র অনুপস্থিত থাকে।

দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাইস্কুলের এসএসসি পরিক্ষার্থী মৌসুমি আক্তার জানান, তার বান্ধবী যুথি আক্তারের পরিক্ষার কিছুদিন আগে বিয়ে হয়ে যায়। এ কারণে সে পরিক্ষা দিতে পারেনি। তার বর ফরিদপুর জাজ কোর্টে চাকরি করে। 

জামতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী জোহানা আক্তার জানান, তাদের সহপাঠী সখিনার বাবা দরিদ্র রিক্সাচালক। পরিক্ষার মাত্র এক মাস আগে তার বিয়ে হয়ে যায়।

দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহম্মদ সহিদুল ইসলাম জানান, তার স্কুলের একটি মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এসএসসি পরিক্ষা দিতে পারেনি। আমরা এসব ক্ষেত্রে সচেতনতাধর্মী কাজ করে থাকি। তবে শতভাগ সফল হওয়া কঠিন। এ ক্ষেত্রে কখনো কখনো আইনের কঠোর বাস্তবায়ন করা জরুরি।

গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এসএসসি কেন্দ্রের সচিব মিজানুর রহমান বলেন, তার কেন্দ্রে মোট পরিক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ১৫৮ জন। এর মধ্যে বিভিন্ন স্কুলের ২০ জন মেয়ে ও ৭ জন ছেলে অনুপস্থিত থাকে। 

খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, মেয়েদের অধিকাংশের বাল্য বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এবং ছেলেরা সংসারে অভাব-অনটনের কারণে কাজে যোগ দিয়ে এলাকার বাইরে চলে গেছে।

এসএসসি’র ফরম পূরন করেও পরিক্ষা না দিয়ে তাদের এভাবে ঝড়ে পড়াটা খুবই দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গোয়ালন্দে বাল্যবিয়ে ও দারিদ্রতায় ঝড়ে পড়ল ৪১ পরিক্ষার্থীর জীবন

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুন ২০২৩

সদ্য সমাপ্ত এসএসসি পরিক্ষায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় বাল‍্য বিয়ে ও দারিদ্র্য তার কারণে ঝড়ে পড়েছে ৪১ জন শিক্ষার্থী।

ফরম পূরন করার পরও তারা পরীক্ষা দিতে পারেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেয়েদের অধিকাংশই বাল্য বিয়ের শিকার হওয়ায় এবং ছেলেরা দারিদ্রতার কারণে সংসারের হাল ধরতে কাজে চলে যাওয়ায় পরিক্ষা দিতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া গেলে ভবিষ্যতে ঝড়ে পড়ার এ হার কমে আসত বলে তাদের অভিমত।

পরীক্ষা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এসএসসি পরিক্ষায় ১ হাজার ১৫৮ জন পরিক্ষার্থী ছিল। তবে এর মধ্যে ২০ জন ছাত্রী এবং ৭ জন ছাত্র পরিক্ষায় অনুপস্থিত ছিল।

 মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১২৫ জনের মধ্যে ২ জন ছাত্রী এবং কারিগরি শিক্ষায় ৭৩ জনের মধ্যে ৮ জন ছাত্রী ও ৪ জন ছাত্র অনুপস্থিত থাকে।

দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাইস্কুলের এসএসসি পরিক্ষার্থী মৌসুমি আক্তার জানান, তার বান্ধবী যুথি আক্তারের পরিক্ষার কিছুদিন আগে বিয়ে হয়ে যায়। এ কারণে সে পরিক্ষা দিতে পারেনি। তার বর ফরিদপুর জাজ কোর্টে চাকরি করে। 

জামতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী জোহানা আক্তার জানান, তাদের সহপাঠী সখিনার বাবা দরিদ্র রিক্সাচালক। পরিক্ষার মাত্র এক মাস আগে তার বিয়ে হয়ে যায়।

দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহম্মদ সহিদুল ইসলাম জানান, তার স্কুলের একটি মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এসএসসি পরিক্ষা দিতে পারেনি। আমরা এসব ক্ষেত্রে সচেতনতাধর্মী কাজ করে থাকি। তবে শতভাগ সফল হওয়া কঠিন। এ ক্ষেত্রে কখনো কখনো আইনের কঠোর বাস্তবায়ন করা জরুরি।

গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এসএসসি কেন্দ্রের সচিব মিজানুর রহমান বলেন, তার কেন্দ্রে মোট পরিক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ১৫৮ জন। এর মধ্যে বিভিন্ন স্কুলের ২০ জন মেয়ে ও ৭ জন ছেলে অনুপস্থিত থাকে। 

খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, মেয়েদের অধিকাংশের বাল্য বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এবং ছেলেরা সংসারে অভাব-অনটনের কারণে কাজে যোগ দিয়ে এলাকার বাইরে চলে গেছে।

এসএসসি’র ফরম পূরন করেও পরিক্ষা না দিয়ে তাদের এভাবে ঝড়ে পড়াটা খুবই দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।