ঢাকা ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

খোকসায় কৃষি বিভাগের আয়োজনে ধান কাটার নবান্ন উৎসব

পুলক সরকার- বিশেষ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০২৩ ৩৬০ বার পঠিত

কুয়াশা ভেদ করে যখন সূর্যের আলো প্রকৃতিতে আসে, তখন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে শুরু করে দিগন্তবিস্তৃত আমনের ক্ষেত। সোনামাখা রোদে মাঠে মাঠে ঝলমলিয়ে ওঠে সোনালি ধান। সেই ধানের ঝিলিক যেন ছড়িয়ে পড়েছে কুষ্টিয়ার খোকসার কৃষকদের চোখেমুখে।

২০’নভেম্বর সোমবার দুপুরে উপজেলার শোমসপুর মাঠে কৃষকের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের ধান কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের নবান্ন উৎসব। সেখানে এলাকার কৃষকদের সঙ্গে ধান কাটায় অংশ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন বিশ্বাস, কৃষি কর্মকর্তা সবুজ কুমার সাহা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিধান কান্তি হলদার, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সাহিনা বেগমসহ অনেকে।

খোকসা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬হাজার ৭২৫ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে।নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ১৭৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ বেশী হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপন বিশ্বাস বলেন, আমাদের দেশের অতিথি ঋতু শীতকাল। এই সময়ে প্রকৃতি আমাদের জীবন ধারার মাঝে ব্যাপক পরিবর্তন এনে দেয়। শীতে শহরের লোকজনের কাছে পরিচিত-কাকের ডাক, গাড়ির হর্ণ আর চায়ের কাপ। পক্ষান্তরে গ্রামের শীত মানে-কুয়াশার জালে ছিন্ন ভিন্ন করে রোদের স্পর্শ পা ভিজিয়ে দেয় দুবলা ঘাস। এ দিক থেকে গ্রামে যে নবান্ন উৎসব করা হয়, সেটাই মূলত প্রধান এবং আসল নবান্ন উৎসব। এখানে আমরা নতুন ধানকে স্পর্শ করতে পারি। খেতে পারি নানা রকম মুখরোচক পিঠা। সেই হিসেবে শহুরে জীবনে যে নবান্ন উৎসব করা হয়, সেটা একটা প্রতীকী মাত্র। আমরা যাতে আমাদের উৎসকে ভুলে না যাই এবং এটি সারা জীবন ধরে রাকতে পারি সে জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।

এর আগে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) বিধান কান্তি হলদার। তিনি কৃষি খাতে সরকারের নান রকম সহায়তা প্রদানের কথা তুলে ধরে উন্নত চাষাবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করেন।

খোকসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সবুজ কুমার সাহা বলেন, ‌‘এ উৎসব বাঙালি জাতিকে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ করে। বাংলাদেশ কৃষিতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এখন আমরা বিশ্বে ধান উৎপাদনে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম স্থান অধিকার করে আছি।’

খোকসায় কৃষি বিভাগের আয়োজনে ধান কাটার নবান্ন উৎসব

আপডেট সময় : ০৬:১৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০২৩

কুয়াশা ভেদ করে যখন সূর্যের আলো প্রকৃতিতে আসে, তখন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে শুরু করে দিগন্তবিস্তৃত আমনের ক্ষেত। সোনামাখা রোদে মাঠে মাঠে ঝলমলিয়ে ওঠে সোনালি ধান। সেই ধানের ঝিলিক যেন ছড়িয়ে পড়েছে কুষ্টিয়ার খোকসার কৃষকদের চোখেমুখে।

২০’নভেম্বর সোমবার দুপুরে উপজেলার শোমসপুর মাঠে কৃষকের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের ধান কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের নবান্ন উৎসব। সেখানে এলাকার কৃষকদের সঙ্গে ধান কাটায় অংশ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন বিশ্বাস, কৃষি কর্মকর্তা সবুজ কুমার সাহা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিধান কান্তি হলদার, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সাহিনা বেগমসহ অনেকে।

খোকসা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬হাজার ৭২৫ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে।নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ১৭৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ বেশী হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপন বিশ্বাস বলেন, আমাদের দেশের অতিথি ঋতু শীতকাল। এই সময়ে প্রকৃতি আমাদের জীবন ধারার মাঝে ব্যাপক পরিবর্তন এনে দেয়। শীতে শহরের লোকজনের কাছে পরিচিত-কাকের ডাক, গাড়ির হর্ণ আর চায়ের কাপ। পক্ষান্তরে গ্রামের শীত মানে-কুয়াশার জালে ছিন্ন ভিন্ন করে রোদের স্পর্শ পা ভিজিয়ে দেয় দুবলা ঘাস। এ দিক থেকে গ্রামে যে নবান্ন উৎসব করা হয়, সেটাই মূলত প্রধান এবং আসল নবান্ন উৎসব। এখানে আমরা নতুন ধানকে স্পর্শ করতে পারি। খেতে পারি নানা রকম মুখরোচক পিঠা। সেই হিসেবে শহুরে জীবনে যে নবান্ন উৎসব করা হয়, সেটা একটা প্রতীকী মাত্র। আমরা যাতে আমাদের উৎসকে ভুলে না যাই এবং এটি সারা জীবন ধরে রাকতে পারি সে জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।

এর আগে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) বিধান কান্তি হলদার। তিনি কৃষি খাতে সরকারের নান রকম সহায়তা প্রদানের কথা তুলে ধরে উন্নত চাষাবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করেন।

খোকসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সবুজ কুমার সাহা বলেন, ‌‘এ উৎসব বাঙালি জাতিকে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ করে। বাংলাদেশ কৃষিতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এখন আমরা বিশ্বে ধান উৎপাদনে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম স্থান অধিকার করে আছি।’