ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

প্রশাসনকে প্রচ্ছন্ন হুমকি বাস মালিক গ্রুপ নেতার

ঈদুল আযহায় যানবাহন পারাপারে প্রস্তুতি সভা

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:১৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ১৬৯ বার পঠিত

Oplus_131072

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রশাসনকে প্রচ্ছন্ন হুমকির অভিযোগ উঠেছে রাজবাড়ী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের এক নেতার বিরুদ্ধে।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে রাজবাড়ী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মাহমুদুল হাসান জুয়েল বলেন,
“আমাদের পরিবহন সেক্টরের কেউ যদি কোনো ভুল বা অনিয়ম করে, আমাদেরকে বলবেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। প্রশাসন যদি সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নেয়, তাহলে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এটা কারও জন্যই ভালো হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “দৌলতদিয়া ঘাট টার্মিনালে প্রতিটি বাস থেকে ডিপার্চার (চাঁদা) বাবদ যে টাকা নেওয়া হয়, তা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। এছাড়া দুই ঈদে আদায় করা ওই টাকা দিয়ে প্রশাসনকে বিভিন্ন সহযোগিতা ও সামাজিক কাজেও খরচ করা হয়। এই টাকা যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হয় না, বাস মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে কোনো বাস মালিকের অভিযোগ নেই। তাই এ ব্যাপারে প্রশাসন বা কোনো সাংবাদিকের কিছু বলার নেই। কোনো সাংবাদিক ভুল ও অসত্য তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এসময় রাজবাড়ী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদ মোল্লা বলেন, “দৌলতদিয়া ঘাটে শতাধিক সাংবাদিক ভুল তথ্য দিয়ে অসত্য সংবাদ পরিবেশন করেন।” তিনি বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার দাবি জানান।
তবে শ্রমিক নেতাদের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান সভায় উপস্থিত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রতি ঈদে দৌলতদিয়া ঘাটে ডিপার্চারের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। অথচ কেউ কেউ এর পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন। ঈদে যাত্রী পরিবহনকারী বেশিরভাগ বাসেরই ফিটনেস থাকে না।”
তিনি আরও বলেন, “গত ঈদে বাসডুবির ঘটনায় তদন্ত কমিটির তথ্যানুযায়ী ত্রুটিপূর্ণ বাসের কারণেই ২৬টি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে।” এসময় তিনি কোন সাংবাদিক মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন তার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দাবি করেন।
সভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ বলেন, “ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপকে কেন্দ্র করে নানা উপায়ে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়, যা কারও কাম্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বাস মালিক সংগঠনের নামে কথিত ডিপার্চার বাবদ প্রতিটি যানবাহন থেকে কমপক্ষে ৭০০ টাকা, অনেক সময় এক থেকে দেড় হাজার টাকাও আদায় করা হয়। এটি বন্ধ হওয়া দরকার।”
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিনিধি, লঞ্চ মালিক সমিতির প্রতিনিধি এবং ঘাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন,
“কে কী বলল, সে ভাবে তো আর প্রশাসন চলবে না। প্রশাসন তার নিজস্ব গতিতে আইন অনুযায়ী কাজ করবে।”
তিনি জানান, আসন্ন ঈদে কোরবানির পশু পরিবহন, ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত এবং ঈদ শেষে কর্মস্থলগামী মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

প্রশাসনকে প্রচ্ছন্ন হুমকি বাস মালিক গ্রুপ নেতার

ঈদুল আযহায় যানবাহন পারাপারে প্রস্তুতি সভা

আপডেট সময় : ০৫:১৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রশাসনকে প্রচ্ছন্ন হুমকির অভিযোগ উঠেছে রাজবাড়ী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের এক নেতার বিরুদ্ধে।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে রাজবাড়ী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মাহমুদুল হাসান জুয়েল বলেন,
“আমাদের পরিবহন সেক্টরের কেউ যদি কোনো ভুল বা অনিয়ম করে, আমাদেরকে বলবেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। প্রশাসন যদি সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নেয়, তাহলে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এটা কারও জন্যই ভালো হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “দৌলতদিয়া ঘাট টার্মিনালে প্রতিটি বাস থেকে ডিপার্চার (চাঁদা) বাবদ যে টাকা নেওয়া হয়, তা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। এছাড়া দুই ঈদে আদায় করা ওই টাকা দিয়ে প্রশাসনকে বিভিন্ন সহযোগিতা ও সামাজিক কাজেও খরচ করা হয়। এই টাকা যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হয় না, বাস মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে কোনো বাস মালিকের অভিযোগ নেই। তাই এ ব্যাপারে প্রশাসন বা কোনো সাংবাদিকের কিছু বলার নেই। কোনো সাংবাদিক ভুল ও অসত্য তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এসময় রাজবাড়ী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদ মোল্লা বলেন, “দৌলতদিয়া ঘাটে শতাধিক সাংবাদিক ভুল তথ্য দিয়ে অসত্য সংবাদ পরিবেশন করেন।” তিনি বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার দাবি জানান।
তবে শ্রমিক নেতাদের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান সভায় উপস্থিত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রতি ঈদে দৌলতদিয়া ঘাটে ডিপার্চারের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। অথচ কেউ কেউ এর পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন। ঈদে যাত্রী পরিবহনকারী বেশিরভাগ বাসেরই ফিটনেস থাকে না।”
তিনি আরও বলেন, “গত ঈদে বাসডুবির ঘটনায় তদন্ত কমিটির তথ্যানুযায়ী ত্রুটিপূর্ণ বাসের কারণেই ২৬টি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে।” এসময় তিনি কোন সাংবাদিক মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন তার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দাবি করেন।
সভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ বলেন, “ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপকে কেন্দ্র করে নানা উপায়ে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়, যা কারও কাম্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বাস মালিক সংগঠনের নামে কথিত ডিপার্চার বাবদ প্রতিটি যানবাহন থেকে কমপক্ষে ৭০০ টাকা, অনেক সময় এক থেকে দেড় হাজার টাকাও আদায় করা হয়। এটি বন্ধ হওয়া দরকার।”
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিনিধি, লঞ্চ মালিক সমিতির প্রতিনিধি এবং ঘাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন,
“কে কী বলল, সে ভাবে তো আর প্রশাসন চলবে না। প্রশাসন তার নিজস্ব গতিতে আইন অনুযায়ী কাজ করবে।”
তিনি জানান, আসন্ন ঈদে কোরবানির পশু পরিবহন, ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত এবং ঈদ শেষে কর্মস্থলগামী মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।