ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

আলফাডাঙ্গায় ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে দুই যুবক আটক, মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রামবাসীর ক্ষোভ,

আজিজুর রহমান দুলাল,আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর):
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ৫৬ বার পঠিত

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া এলাকায় ইয়াবা কেনাবেচার অভিযোগে স্থানীয় যুবসমাজের হাতে দুই যুবক আটক হওয়ার পর তাদের থানায় সোপর্দ না করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আটক দুই যুবকের কাছ থেকে ২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হলেও আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর গ্রামবাসী ও স্থানীয় যুবসমাজ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৮টার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নওয়াপাড়া এলাকায় লিবার্টি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির সামনে ইয়াবা কেনাবেচার সময় স্থানীয় প্রায় ২০ থেকে ২২ জন যুবক দুইজনকে হাতেনাতে আটক করেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন চর নওয়াপাড়া গ্রামের সাইফারের ছেলে পারভেজ এবং পূর্ব নওয়াপাড়া এলাকার ছরোয়ার কাজীর ছেলে সোহাগ কাজী।
স্থানীয়দের দাবি, পারভেজের কাছ থেকে ২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ইয়াবাগুলো সোহাগের কাছ থেকে নেওয়ার কথা জানান। এরপর স্থানীয়রা সোহাগকেও আটক করেন। উপস্থিত কয়েকজনের দাবি, সোহাগও ইয়াবা বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নওয়াপাড়া গ্রামের এক যুবক বলেন, “আমরা নওয়াপাড়া স্কুল মাঠে ফুটবল খেলছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন একটি ভ্যানগাড়ির পেছনে ধাওয়া করে সেটি থামান। পরে পারভেজকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ২ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোহাগকেও আটক করা হয়।”
স্থানীয় যুবক আমীর হামজা ও শাকিল বলেন, আটক করার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান (হাসিব) ঘটনাস্থলে এসে থানায় নেওয়ার কথা বলে দুই যুবককে নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। পরদিন সকালে থানায় গিয়ে তারা জানতে পারেন, আটক দুই যুবককে থানায় নেওয়া হয়নি।
গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে একরামুল হক ও মফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয় যুবসমাজ ঝুঁকি নিয়ে মাদক বিক্রির অভিযোগে দুই যুবককে আটক করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান (হাসিব) বলেন, “আমি ফ্যাক্টরির ভেতরে ছিলাম। বাইরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে এসে দেখি দুই যুবককে মারধর করা হচ্ছে। পরে থানার ওসির সঙ্গে কথা বলি। তিনি আহত থাকলে আগে হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে হস্তান্তর করতে বলেন। পরে দুই যুবক ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজে জড়াবে না বলে মুচলেকা দেয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুল ইসলাম বলেন, “হাসিব আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি বলেছিলাম, আহত থাকলে আগে হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে হস্তান্তর করতে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে আটক দুই যুবককে থানায় আনা হয়নি।”
এদিকে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর নওয়াপাড়া দারোগাবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে গ্রামবাসী ও স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, স্থানীয় যুবকরা মাদকের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে ভূমিকা রাখলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় মসজিদে নামাজ শেষে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
তারা যুবসমাজের মাদকবিরোধী উদ্যোগের প্রশংসা করে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দেন।
প্রতিবাদ সভা থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় দায় নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মহলের হস্তক্ষেপে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

আলফাডাঙ্গায় ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে দুই যুবক আটক, মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রামবাসীর ক্ষোভ,

আপডেট সময় : ১১:০৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া এলাকায় ইয়াবা কেনাবেচার অভিযোগে স্থানীয় যুবসমাজের হাতে দুই যুবক আটক হওয়ার পর তাদের থানায় সোপর্দ না করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আটক দুই যুবকের কাছ থেকে ২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হলেও আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর গ্রামবাসী ও স্থানীয় যুবসমাজ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৮টার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নওয়াপাড়া এলাকায় লিবার্টি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির সামনে ইয়াবা কেনাবেচার সময় স্থানীয় প্রায় ২০ থেকে ২২ জন যুবক দুইজনকে হাতেনাতে আটক করেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন চর নওয়াপাড়া গ্রামের সাইফারের ছেলে পারভেজ এবং পূর্ব নওয়াপাড়া এলাকার ছরোয়ার কাজীর ছেলে সোহাগ কাজী।
স্থানীয়দের দাবি, পারভেজের কাছ থেকে ২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ইয়াবাগুলো সোহাগের কাছ থেকে নেওয়ার কথা জানান। এরপর স্থানীয়রা সোহাগকেও আটক করেন। উপস্থিত কয়েকজনের দাবি, সোহাগও ইয়াবা বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নওয়াপাড়া গ্রামের এক যুবক বলেন, “আমরা নওয়াপাড়া স্কুল মাঠে ফুটবল খেলছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন একটি ভ্যানগাড়ির পেছনে ধাওয়া করে সেটি থামান। পরে পারভেজকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ২ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোহাগকেও আটক করা হয়।”
স্থানীয় যুবক আমীর হামজা ও শাকিল বলেন, আটক করার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান (হাসিব) ঘটনাস্থলে এসে থানায় নেওয়ার কথা বলে দুই যুবককে নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। পরদিন সকালে থানায় গিয়ে তারা জানতে পারেন, আটক দুই যুবককে থানায় নেওয়া হয়নি।
গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে একরামুল হক ও মফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয় যুবসমাজ ঝুঁকি নিয়ে মাদক বিক্রির অভিযোগে দুই যুবককে আটক করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর হাসান (হাসিব) বলেন, “আমি ফ্যাক্টরির ভেতরে ছিলাম। বাইরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে এসে দেখি দুই যুবককে মারধর করা হচ্ছে। পরে থানার ওসির সঙ্গে কথা বলি। তিনি আহত থাকলে আগে হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে হস্তান্তর করতে বলেন। পরে দুই যুবক ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজে জড়াবে না বলে মুচলেকা দেয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুল ইসলাম বলেন, “হাসিব আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি বলেছিলাম, আহত থাকলে আগে হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে হস্তান্তর করতে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে আটক দুই যুবককে থানায় আনা হয়নি।”
এদিকে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর নওয়াপাড়া দারোগাবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে গ্রামবাসী ও স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, স্থানীয় যুবকরা মাদকের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে ভূমিকা রাখলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় মসজিদে নামাজ শেষে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
তারা যুবসমাজের মাদকবিরোধী উদ্যোগের প্রশংসা করে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দেন।
প্রতিবাদ সভা থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় দায় নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মহলের হস্তক্ষেপে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।