ঢাকা ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

সাভারে জাল নোট ও  তৈরীর সরঞ্জামাদি সহ গ্রেফতার ২ 

প্রতিদিনের খবর ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় : ১২:১৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩ ২৮৩ বার পঠিত

 

মোঃ শামীম আহমেদ(সাভার ঢাকা):

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল ঢাকার জেলার সাভার মডেল থানাধীন মজিদপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জালনোট তৈরী চক্রের মূল হোতা ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়।

এসময় ধৃত আসামীদের নিকট হতে ৪৯,০০০/- টাকা মূল্যমানের জাল নোট, ০৩টি মোবাইল ফোন, ০১টি ল্যাপটপ, ০১টি পিস্তল লাইটার, ০২টি চাকু, ০১টি প্রিন্টার, ০১টি পেন ড্রাইভ এবং নগদ ৬,৭৬০/- টাকাসহ জাল নোট তৈরীর বিপুল পরিমান সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা তাদের অপরাধ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়

ক। মোঃ মহিবুল্লাহ (২৩), জেলা-মাগুরা।
খ। মোঃ আব্দুল্লাহ আল তুহিন (২১), জেলা-রাজবাড়ী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায় যে, তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই জাল নোট তৈরী করে বিভিন্ন লোকদের কাছে স্বল্পমূল্যে জাল নোট বিক্রি করে আসছে। এ চক্রটির মূলহোতা গ্রেফতারকৃত মোঃ মহিবুল্ল্যাহ, মোঃ আব্দুল্লা আল তুহিন তার প্রধান সহযোগী । গ্রেফতারকৃতরা আরো জানায় যে, তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই জাল নোটের ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। এই চক্রের সাথে আরও ১৫-২০ জন সদস্য জড়িত রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত মোঃ মহিবুল্লাহ (২৩) মাগুরা জেলার শালিকা থানাধীন রামপুর গ্রামের বাসিন্দা। সে একটি পলি টেকনিক্যাল ইনসটিউট হতে ডিপ্লোমা সিভিল ইঞ্চিনিয়ারিং সম্পন্ন করে। এর পর হতে সে অনলাইন ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং কাজ করে। বর্তমানে সে স্বল্প সময়ের মধ্যে অধিক টাকা অর্জনের সহজ পন্থা হিসেবে জাল টাকা তৈরীর অবৈধ পথ বেছে নেয়। তৈরীকৃত জাল নোটগুলো তার চক্রে থাকা সহযোগী গ্রেফতারকৃত মোঃ আব্দুল্লাহ আল তুহিন এর মাধ্যমে বিক্রয় করে।

গ্রেফতারকৃত মোঃ আব্দুল্লাহ আল তুহিন (২১) রাজবাড়ী জেলার কালোখালি থানাধীন বড়কলকলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঢাকা আসার পর ফেসবুক এর মাধ্যমে জাল নোট তৈরীর মুল হোতা মহিবুল্ল্যার সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের এক পর্যায়ে মহিবুল্ল্যাল তাকে স্বল্প সময়ের মধ্যে অধিক টাকা অর্জনের সহজ পন্থা হিসেবে জাল টাকা ক্রয়-বিক্রয় এর প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে তৈরীকৃত জাল নোটগুলো দেশের বিভিন্ন জেলার ছড়িয়ে দিত।

এ চক্রের মূলহোতা মহিবুল্ল্যা নিজেই স্থানীয় বাজার হতে জাল নোট তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন টিস্যু পেপার, প্রিন্টার, ল্যাপটপ ও প্রিন্টারের কালি ক্রয় করে তার ভাড়া বাসায় গোপনে বিশেষ কৌশলে এ-৪ সাইজের ০২ টি টিস্যু পেপার একসাথে আঠা দিয়ে লাগিয়ে রঙ্গিন প্রিন্টারে ডিজাইনকৃত টাকা তৈরি করত। সে স্থানীয় বাজার থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দোকান হতে এসব জাল নোট তৈরির সরঞ্জামাদি ক্রয় করত। জাল নোট তৈরির পর সে তার সহযোগীকে তার কাছ থেকে জাল নোট নিয়ে যেতে বলত। প্রতি ০১ লক্ষ জাল নোট ১০-১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করত। তার সহযোগি মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ ও বিক্রি করত। টার্গেট বা চাহিদা অনুযায়ী মহিবুল্ল্যাহ প্রতিমাসে তার সহযোগীকে বোনাসও দিত। জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানায়, মহিবুল্ল্যাহ নিজেও এ জাল নোট স্থানীয় বাজারে ব্যবহার করত; কয়েকবার সে সাধারণ জনগণের হাতে ধরাও পরেছিল বলে সে জানায়। আসামীরা সাধারণত কোন মেলায়, ঈদে পশুর হাটে ও অধিক জন-সমাগম অনুষ্ঠানে তারা জাল নোট বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ব্যবহার করত। বর্তমানে বাণিজ্য মেলা ও শীতকালীন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন উৎসব ও মেলাকে কেন্দ্র করে বিপুল পমিান জাল টাকা তারা তৈরীর পরিকল্পনা করে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে গ্রেফতারকৃত মহিবুল্ল্যাহ জাল নোট প্রিন্টিং এর সময় কাগজের অব্যবহৃত ও নষ্ট অংশগুলো পুড়িয়ে ফেলত। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যাতে তাকে ধরতে না পারে সে জন্য গ্রেফতারকৃত মহিবুল্ল্যাহ ঘন ঘন বাসা পরিবর্তন করত।

গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রুজুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন এবং এই ধরণের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও র‌্যাবের জোড়ালো অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :

সাভারে জাল নোট ও  তৈরীর সরঞ্জামাদি সহ গ্রেফতার ২ 

আপডেট সময় : ১২:১৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩

 

মোঃ শামীম আহমেদ(সাভার ঢাকা):

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল ঢাকার জেলার সাভার মডেল থানাধীন মজিদপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জালনোট তৈরী চক্রের মূল হোতা ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়।

এসময় ধৃত আসামীদের নিকট হতে ৪৯,০০০/- টাকা মূল্যমানের জাল নোট, ০৩টি মোবাইল ফোন, ০১টি ল্যাপটপ, ০১টি পিস্তল লাইটার, ০২টি চাকু, ০১টি প্রিন্টার, ০১টি পেন ড্রাইভ এবং নগদ ৬,৭৬০/- টাকাসহ জাল নোট তৈরীর বিপুল পরিমান সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা তাদের অপরাধ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়

ক। মোঃ মহিবুল্লাহ (২৩), জেলা-মাগুরা।
খ। মোঃ আব্দুল্লাহ আল তুহিন (২১), জেলা-রাজবাড়ী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায় যে, তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই জাল নোট তৈরী করে বিভিন্ন লোকদের কাছে স্বল্পমূল্যে জাল নোট বিক্রি করে আসছে। এ চক্রটির মূলহোতা গ্রেফতারকৃত মোঃ মহিবুল্ল্যাহ, মোঃ আব্দুল্লা আল তুহিন তার প্রধান সহযোগী । গ্রেফতারকৃতরা আরো জানায় যে, তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই জাল নোটের ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। এই চক্রের সাথে আরও ১৫-২০ জন সদস্য জড়িত রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত মোঃ মহিবুল্লাহ (২৩) মাগুরা জেলার শালিকা থানাধীন রামপুর গ্রামের বাসিন্দা। সে একটি পলি টেকনিক্যাল ইনসটিউট হতে ডিপ্লোমা সিভিল ইঞ্চিনিয়ারিং সম্পন্ন করে। এর পর হতে সে অনলাইন ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং কাজ করে। বর্তমানে সে স্বল্প সময়ের মধ্যে অধিক টাকা অর্জনের সহজ পন্থা হিসেবে জাল টাকা তৈরীর অবৈধ পথ বেছে নেয়। তৈরীকৃত জাল নোটগুলো তার চক্রে থাকা সহযোগী গ্রেফতারকৃত মোঃ আব্দুল্লাহ আল তুহিন এর মাধ্যমে বিক্রয় করে।

গ্রেফতারকৃত মোঃ আব্দুল্লাহ আল তুহিন (২১) রাজবাড়ী জেলার কালোখালি থানাধীন বড়কলকলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঢাকা আসার পর ফেসবুক এর মাধ্যমে জাল নোট তৈরীর মুল হোতা মহিবুল্ল্যার সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের এক পর্যায়ে মহিবুল্ল্যাল তাকে স্বল্প সময়ের মধ্যে অধিক টাকা অর্জনের সহজ পন্থা হিসেবে জাল টাকা ক্রয়-বিক্রয় এর প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে তৈরীকৃত জাল নোটগুলো দেশের বিভিন্ন জেলার ছড়িয়ে দিত।

এ চক্রের মূলহোতা মহিবুল্ল্যা নিজেই স্থানীয় বাজার হতে জাল নোট তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন টিস্যু পেপার, প্রিন্টার, ল্যাপটপ ও প্রিন্টারের কালি ক্রয় করে তার ভাড়া বাসায় গোপনে বিশেষ কৌশলে এ-৪ সাইজের ০২ টি টিস্যু পেপার একসাথে আঠা দিয়ে লাগিয়ে রঙ্গিন প্রিন্টারে ডিজাইনকৃত টাকা তৈরি করত। সে স্থানীয় বাজার থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দোকান হতে এসব জাল নোট তৈরির সরঞ্জামাদি ক্রয় করত। জাল নোট তৈরির পর সে তার সহযোগীকে তার কাছ থেকে জাল নোট নিয়ে যেতে বলত। প্রতি ০১ লক্ষ জাল নোট ১০-১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করত। তার সহযোগি মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ ও বিক্রি করত। টার্গেট বা চাহিদা অনুযায়ী মহিবুল্ল্যাহ প্রতিমাসে তার সহযোগীকে বোনাসও দিত। জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানায়, মহিবুল্ল্যাহ নিজেও এ জাল নোট স্থানীয় বাজারে ব্যবহার করত; কয়েকবার সে সাধারণ জনগণের হাতে ধরাও পরেছিল বলে সে জানায়। আসামীরা সাধারণত কোন মেলায়, ঈদে পশুর হাটে ও অধিক জন-সমাগম অনুষ্ঠানে তারা জাল নোট বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ব্যবহার করত। বর্তমানে বাণিজ্য মেলা ও শীতকালীন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন উৎসব ও মেলাকে কেন্দ্র করে বিপুল পমিান জাল টাকা তারা তৈরীর পরিকল্পনা করে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে গ্রেফতারকৃত মহিবুল্ল্যাহ জাল নোট প্রিন্টিং এর সময় কাগজের অব্যবহৃত ও নষ্ট অংশগুলো পুড়িয়ে ফেলত। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যাতে তাকে ধরতে না পারে সে জন্য গ্রেফতারকৃত মহিবুল্ল্যাহ ঘন ঘন বাসা পরিবর্তন করত।

গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রুজুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন এবং এই ধরণের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও র‌্যাবের জোড়ালো অভিযান অব্যাহত থাকবে।