ঢাকা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক ও অপরাধমুক্ত আধুনিক ওয়ার্ড গড়তে চান ইউপি সদস্য প্রার্থী মাকছুদুর রহমান গোয়ালন্দে মুক্তিযোদ্ধা-রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বোয়ালমারীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন আলফাডাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা দৌলতপুরে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর

পদ্মায় দূর্ধষ ডাকাতি, কোটি টাকার উপরে লুট, নদীতে ঝাপ দিয়ে নিখোঁজ-১

মো. সাজ্জাদ হোসেন-গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী):
  • আপডেট সময় : ০৭:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ মে ২০২৩ ৩৪৯ বার পঠিত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দিনদুপুরে পদ্মা নদীতে গরু ব্যাবসায়ীদের বহনকারী একটি ট্রলারে দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

স্পিডবোটে করে এসে সশস্ত্র ডাকাতরা ট্রলারে হানা দিয়ে বেশ কয়েকজন গরু ব্যাবসায়ীর কাছ থেকে কোটি টাকার উপরে লুটে নেয়। এ সময় ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় অন্তত ৫/৭ জন আহত হন।

ডাকাতদের হাত থেকে জীবন ও অর্থ বাঁচাতে নদীতে ঝাপ দিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন একজন।

গরু ব্যাবসায়ী মো. রফিক মন্ডল জানান, জীবন ও অর্থ বাঁচাতে তিনি এবং দুলাল পাল নামে তাদের এক সহযাত্রী নদীতে ঝাঁপ দেন।

এ সময় তার কাছে গামছায় বাঁধা ৩ লক্ষ টাকা ছিল। আমি কোন মতে সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছি। তবে গামছায় বাঁধা টাকা পানিতে হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু দুলাল পাল উঠতে পারেননি। তাকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। তার কাছে আড়াই লক্ষাধিক টাকা ছিল। তাদের দুজনেরই বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের আটদাপনিয়া এলাকায় বলে তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে জানান।

মঙ্গলবার (২ মে) বিকেল ৩ টার দিকে দৌলতদিয়ার পাঁচ নম্বর ফেরিঘাটের কাছাকাছি ডাকাতির এ দূর্ধর্ষ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে , মঙ্গলবার (২ মে) সকালে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ট্রলার বোঝাই করে অনেকগুলো গরু নিয়ে ব্যাবসায়ীরা মানিকগন্জের আরিচা ঘাট সংলগ্ন আরিচা গরুর হাটে বিক্রি করতে যান। দ্রুত বেচাকেনা শেষ করে ৪০/৪৫ জনের ব্যাবসায়ী দল দুপুর দেড়টার দিকে আরিচা ঘাট থেকে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ওই ট্রলারেই রওনা দেন। বেলা ৩ টার দিকে ট্রলারটি দৌলতদিয়া পাঁচ নম্বর ফেরিঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে ১৫/২০ জনের একটা ডাকাত দল স্পিডবোট যোগে পাবনার দিক থেকে দ্রুত এসে তাদের ট্রলারের সাথে ভেরে।

এ সময় তারা ট্রলারের ইন্জিন বন্ধ করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ট্রলারে থাকা ব্যাবসায়ীদের এলোপাতাড়ি কুপাতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যে তারা সবার কাছ থেকে টাকা লুট করে নিয়ে ফরিদপুরের দিকে চলে যায়। প্রায় ১৫/২০ মিনিট ধরে চলে এ ডাকাতি। এ সময় ব্যাবসায়ীরা আর্ত চিৎকার করলেও কোন ট্রলার, লঞ্চ বা ফেরি তাদের সহযোগীতায় এগিয়ে যায় নি।

ফেরি ঘাটের ওষুধ ব্যাবসায়ী আলিয়ার রহমান জানান, দিনদুপুরে পদ্মা নদীতে এ রকম ভয়ংকর ডাকাতির ঘটনা এ এলাকায় আগে কখনো তারা ঘটতে দেখেননি বা শোনেননি। তারা বহু মানুষ ঘাটে দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখলেও কারো কিছু করার ছিল না।
ডাকাতির শিকার রাজবাড়ীর সূর্যনগর এলাকার ব্যাবসায়ী মোঃ লোকমান মোল্লা (৬০) কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, তার কাছে থাকা গরু বিক্রির ৫ লক্ষাধিক টাকা ডাকাতেরা ছিনিয়ে নিয়েছে। অন্যদের কোপানো দেখে আমি প্রান ভয়ে টাকাগুলো দিয়ে দেই। এখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।

বানিবহ ইউনিয়নের মহিষ বাথান এলাকার ব্যাবসায়ী মোশাররফ হোসেন বলেন, এনজিও থেকে লোন নিয়ে ব্যাবসা করি ভাই। ডাকাতেরা আমার সব পুঁজি নিয়ে গেছে। এখন কিস্তি পরিশোধ করব কিভাবে। বৌ-বাচ্চাগোরে খাওয়ামু কি?

দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবির জানান, খবর পাওয়া মাত্রই তারা একটি স্পীডবোট নিয়ে ডাকাতদের পিছু ধাওয়া করেন। তবে মাওয়ার কাঁঠাল বাড়ি ঘাট পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসেন।সেখানকার নৌ-পুলিশ ডাকাতদের ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছে। এত টাকা নিয়ে এতগুলো ব্যাবসায়ীর এভাবে নৌপথে রওনা দেয়া ঠিক হয়নি। তাদের জানালে তারা নিরাপত্তা দিয়ে নদী পাড়ের ব্যবস্থা করতেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ট্রলারের চালক দৌলতদিয়ার বাসিন্দা বাবুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আহতরা গোয়ালন্দ হাসপাতালসহ স্হানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পদ্মায় দূর্ধষ ডাকাতি, কোটি টাকার উপরে লুট, নদীতে ঝাপ দিয়ে নিখোঁজ-১

আপডেট সময় : ০৭:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ মে ২০২৩

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দিনদুপুরে পদ্মা নদীতে গরু ব্যাবসায়ীদের বহনকারী একটি ট্রলারে দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

স্পিডবোটে করে এসে সশস্ত্র ডাকাতরা ট্রলারে হানা দিয়ে বেশ কয়েকজন গরু ব্যাবসায়ীর কাছ থেকে কোটি টাকার উপরে লুটে নেয়। এ সময় ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় অন্তত ৫/৭ জন আহত হন।

ডাকাতদের হাত থেকে জীবন ও অর্থ বাঁচাতে নদীতে ঝাপ দিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন একজন।

গরু ব্যাবসায়ী মো. রফিক মন্ডল জানান, জীবন ও অর্থ বাঁচাতে তিনি এবং দুলাল পাল নামে তাদের এক সহযাত্রী নদীতে ঝাঁপ দেন।

এ সময় তার কাছে গামছায় বাঁধা ৩ লক্ষ টাকা ছিল। আমি কোন মতে সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছি। তবে গামছায় বাঁধা টাকা পানিতে হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু দুলাল পাল উঠতে পারেননি। তাকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। তার কাছে আড়াই লক্ষাধিক টাকা ছিল। তাদের দুজনেরই বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের আটদাপনিয়া এলাকায় বলে তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে জানান।

মঙ্গলবার (২ মে) বিকেল ৩ টার দিকে দৌলতদিয়ার পাঁচ নম্বর ফেরিঘাটের কাছাকাছি ডাকাতির এ দূর্ধর্ষ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে , মঙ্গলবার (২ মে) সকালে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ট্রলার বোঝাই করে অনেকগুলো গরু নিয়ে ব্যাবসায়ীরা মানিকগন্জের আরিচা ঘাট সংলগ্ন আরিচা গরুর হাটে বিক্রি করতে যান। দ্রুত বেচাকেনা শেষ করে ৪০/৪৫ জনের ব্যাবসায়ী দল দুপুর দেড়টার দিকে আরিচা ঘাট থেকে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ওই ট্রলারেই রওনা দেন। বেলা ৩ টার দিকে ট্রলারটি দৌলতদিয়া পাঁচ নম্বর ফেরিঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে ১৫/২০ জনের একটা ডাকাত দল স্পিডবোট যোগে পাবনার দিক থেকে দ্রুত এসে তাদের ট্রলারের সাথে ভেরে।

এ সময় তারা ট্রলারের ইন্জিন বন্ধ করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ট্রলারে থাকা ব্যাবসায়ীদের এলোপাতাড়ি কুপাতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যে তারা সবার কাছ থেকে টাকা লুট করে নিয়ে ফরিদপুরের দিকে চলে যায়। প্রায় ১৫/২০ মিনিট ধরে চলে এ ডাকাতি। এ সময় ব্যাবসায়ীরা আর্ত চিৎকার করলেও কোন ট্রলার, লঞ্চ বা ফেরি তাদের সহযোগীতায় এগিয়ে যায় নি।

ফেরি ঘাটের ওষুধ ব্যাবসায়ী আলিয়ার রহমান জানান, দিনদুপুরে পদ্মা নদীতে এ রকম ভয়ংকর ডাকাতির ঘটনা এ এলাকায় আগে কখনো তারা ঘটতে দেখেননি বা শোনেননি। তারা বহু মানুষ ঘাটে দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখলেও কারো কিছু করার ছিল না।
ডাকাতির শিকার রাজবাড়ীর সূর্যনগর এলাকার ব্যাবসায়ী মোঃ লোকমান মোল্লা (৬০) কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, তার কাছে থাকা গরু বিক্রির ৫ লক্ষাধিক টাকা ডাকাতেরা ছিনিয়ে নিয়েছে। অন্যদের কোপানো দেখে আমি প্রান ভয়ে টাকাগুলো দিয়ে দেই। এখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।

বানিবহ ইউনিয়নের মহিষ বাথান এলাকার ব্যাবসায়ী মোশাররফ হোসেন বলেন, এনজিও থেকে লোন নিয়ে ব্যাবসা করি ভাই। ডাকাতেরা আমার সব পুঁজি নিয়ে গেছে। এখন কিস্তি পরিশোধ করব কিভাবে। বৌ-বাচ্চাগোরে খাওয়ামু কি?

দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবির জানান, খবর পাওয়া মাত্রই তারা একটি স্পীডবোট নিয়ে ডাকাতদের পিছু ধাওয়া করেন। তবে মাওয়ার কাঁঠাল বাড়ি ঘাট পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসেন।সেখানকার নৌ-পুলিশ ডাকাতদের ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছে। এত টাকা নিয়ে এতগুলো ব্যাবসায়ীর এভাবে নৌপথে রওনা দেয়া ঠিক হয়নি। তাদের জানালে তারা নিরাপত্তা দিয়ে নদী পাড়ের ব্যবস্থা করতেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ট্রলারের চালক দৌলতদিয়ার বাসিন্দা বাবুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আহতরা গোয়ালন্দ হাসপাতালসহ স্হানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।