ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

জলাবদ্ধতা ঠেকাতে চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ

নাঈম ইকবাল-কুমিল্লা (চৌদ্দগ্রাম):
  • আপডেট সময় : ১২:০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫ ১৬৫ বার পঠিত

চৌদ্দগ্রামের সর্পনালা ও মিতল্লা খালসহ কয়েকটি নদীতে ভাঙারি দোকান ও ফলের আড়তের ময়লা ফেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে চরম জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে বাজার ও আশপাশের এলাকায়।

২০২৪ সালের বন্যায় চৌদ্দগ্রাম বাজারসংলগ্ন সর্পনালা খালে ময়লার স্তূপের কারণে পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাজারের শতাধিক দোকান, উপজেলা ভূমি অফিস,পৌর ভূমি অফিস, সরকারি হাসপাতালসহ বহু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিষয়টি মাথায় রেখে চলতি বছরের মে মাসে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জামাল হোসেন খাল পরিষ্কার অভিযানে নামেন।পরিষ্কার অভিযানে অধিকাংশ স্থানে ভাঙারি ও ইলেকট্রনিক্স দোকানের বর্জ্য জমা থাকতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের ডেকে সতর্ক করা হয়।

পরবর্তীতে পৌরসভার পক্ষ থেকে ২২ জুন মৌখিকভাবে ময়লা না ফেলার নির্দেশনা দিলেও তা মানা হয়নি। বরং খালে বর্জ্য ফেলা অব্যাহত থাকায় সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে ইউএনও মোঃ জামাল হোসেন পুনরায় অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে নতুন সড়ক সংলগ্ন খায়ের মার্কেটের দুটি ভাঙারি দোকান সিলগালা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পাশাপাশি সরকারি জায়গা দখল করে রাখা মালামাল সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া মহাসড়কের পাশে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়। চৌদ্দগ্রাম বাজারের বিভিন্ন অংশে অভিযান চালিয়ে মালামাল জব্দ করা হয়। আছু শাহ ফকির রোডে এক দোকানিকে ১ হাজার টাকা এবং তৃপ্তি হোটেলকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জামাল হোসেন প্রতিদিনের খবরকে বলেন,
“প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক মাস ধরে খাল ও ডোবা পরিষ্কার করা হয়েছে। এরপর বারবার সতর্ক করা হলেও নির্দেশনা অমান্য করে কেউ ময়লা ফেললে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনস্বার্থে এই অভিযান চলমান থাকবে।”

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক ইয়াছিন আরাফাত বলেন,
“এ ধরনের দূষণ রোধে সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা। প্রশাসন একা কিছু করতে পারবে না, জনগণকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। দোকানদাররা যদি খাল-নালাকে ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলে, তবে আগামী বর্ষাতেও এর চরম খেসারত দিতে হবে চৌদ্দগ্রামবাসীকে।”

জলাবদ্ধতা ঠেকাতে চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ

আপডেট সময় : ১২:০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫

চৌদ্দগ্রামের সর্পনালা ও মিতল্লা খালসহ কয়েকটি নদীতে ভাঙারি দোকান ও ফলের আড়তের ময়লা ফেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে চরম জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে বাজার ও আশপাশের এলাকায়।

২০২৪ সালের বন্যায় চৌদ্দগ্রাম বাজারসংলগ্ন সর্পনালা খালে ময়লার স্তূপের কারণে পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাজারের শতাধিক দোকান, উপজেলা ভূমি অফিস,পৌর ভূমি অফিস, সরকারি হাসপাতালসহ বহু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিষয়টি মাথায় রেখে চলতি বছরের মে মাসে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জামাল হোসেন খাল পরিষ্কার অভিযানে নামেন।পরিষ্কার অভিযানে অধিকাংশ স্থানে ভাঙারি ও ইলেকট্রনিক্স দোকানের বর্জ্য জমা থাকতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের ডেকে সতর্ক করা হয়।

পরবর্তীতে পৌরসভার পক্ষ থেকে ২২ জুন মৌখিকভাবে ময়লা না ফেলার নির্দেশনা দিলেও তা মানা হয়নি। বরং খালে বর্জ্য ফেলা অব্যাহত থাকায় সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে ইউএনও মোঃ জামাল হোসেন পুনরায় অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে নতুন সড়ক সংলগ্ন খায়ের মার্কেটের দুটি ভাঙারি দোকান সিলগালা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পাশাপাশি সরকারি জায়গা দখল করে রাখা মালামাল সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া মহাসড়কের পাশে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়। চৌদ্দগ্রাম বাজারের বিভিন্ন অংশে অভিযান চালিয়ে মালামাল জব্দ করা হয়। আছু শাহ ফকির রোডে এক দোকানিকে ১ হাজার টাকা এবং তৃপ্তি হোটেলকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জামাল হোসেন প্রতিদিনের খবরকে বলেন,
“প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক মাস ধরে খাল ও ডোবা পরিষ্কার করা হয়েছে। এরপর বারবার সতর্ক করা হলেও নির্দেশনা অমান্য করে কেউ ময়লা ফেললে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনস্বার্থে এই অভিযান চলমান থাকবে।”

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক ইয়াছিন আরাফাত বলেন,
“এ ধরনের দূষণ রোধে সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা। প্রশাসন একা কিছু করতে পারবে না, জনগণকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। দোকানদাররা যদি খাল-নালাকে ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলে, তবে আগামী বর্ষাতেও এর চরম খেসারত দিতে হবে চৌদ্দগ্রামবাসীকে।”