ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

জলাবদ্ধতা ঠেকাতে চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ

নাঈম ইকবাল-কুমিল্লা (চৌদ্দগ্রাম):
  • আপডেট সময় : ১২:০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫ ১৫৩ বার পঠিত

চৌদ্দগ্রামের সর্পনালা ও মিতল্লা খালসহ কয়েকটি নদীতে ভাঙারি দোকান ও ফলের আড়তের ময়লা ফেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে চরম জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে বাজার ও আশপাশের এলাকায়।

২০২৪ সালের বন্যায় চৌদ্দগ্রাম বাজারসংলগ্ন সর্পনালা খালে ময়লার স্তূপের কারণে পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাজারের শতাধিক দোকান, উপজেলা ভূমি অফিস,পৌর ভূমি অফিস, সরকারি হাসপাতালসহ বহু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিষয়টি মাথায় রেখে চলতি বছরের মে মাসে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জামাল হোসেন খাল পরিষ্কার অভিযানে নামেন।পরিষ্কার অভিযানে অধিকাংশ স্থানে ভাঙারি ও ইলেকট্রনিক্স দোকানের বর্জ্য জমা থাকতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের ডেকে সতর্ক করা হয়।

পরবর্তীতে পৌরসভার পক্ষ থেকে ২২ জুন মৌখিকভাবে ময়লা না ফেলার নির্দেশনা দিলেও তা মানা হয়নি। বরং খালে বর্জ্য ফেলা অব্যাহত থাকায় সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে ইউএনও মোঃ জামাল হোসেন পুনরায় অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে নতুন সড়ক সংলগ্ন খায়ের মার্কেটের দুটি ভাঙারি দোকান সিলগালা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পাশাপাশি সরকারি জায়গা দখল করে রাখা মালামাল সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া মহাসড়কের পাশে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়। চৌদ্দগ্রাম বাজারের বিভিন্ন অংশে অভিযান চালিয়ে মালামাল জব্দ করা হয়। আছু শাহ ফকির রোডে এক দোকানিকে ১ হাজার টাকা এবং তৃপ্তি হোটেলকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জামাল হোসেন প্রতিদিনের খবরকে বলেন,
“প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক মাস ধরে খাল ও ডোবা পরিষ্কার করা হয়েছে। এরপর বারবার সতর্ক করা হলেও নির্দেশনা অমান্য করে কেউ ময়লা ফেললে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনস্বার্থে এই অভিযান চলমান থাকবে।”

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক ইয়াছিন আরাফাত বলেন,
“এ ধরনের দূষণ রোধে সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা। প্রশাসন একা কিছু করতে পারবে না, জনগণকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। দোকানদাররা যদি খাল-নালাকে ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলে, তবে আগামী বর্ষাতেও এর চরম খেসারত দিতে হবে চৌদ্দগ্রামবাসীকে।”

জলাবদ্ধতা ঠেকাতে চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ

আপডেট সময় : ১২:০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫

চৌদ্দগ্রামের সর্পনালা ও মিতল্লা খালসহ কয়েকটি নদীতে ভাঙারি দোকান ও ফলের আড়তের ময়লা ফেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে চরম জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে বাজার ও আশপাশের এলাকায়।

২০২৪ সালের বন্যায় চৌদ্দগ্রাম বাজারসংলগ্ন সর্পনালা খালে ময়লার স্তূপের কারণে পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাজারের শতাধিক দোকান, উপজেলা ভূমি অফিস,পৌর ভূমি অফিস, সরকারি হাসপাতালসহ বহু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিষয়টি মাথায় রেখে চলতি বছরের মে মাসে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জামাল হোসেন খাল পরিষ্কার অভিযানে নামেন।পরিষ্কার অভিযানে অধিকাংশ স্থানে ভাঙারি ও ইলেকট্রনিক্স দোকানের বর্জ্য জমা থাকতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের ডেকে সতর্ক করা হয়।

পরবর্তীতে পৌরসভার পক্ষ থেকে ২২ জুন মৌখিকভাবে ময়লা না ফেলার নির্দেশনা দিলেও তা মানা হয়নি। বরং খালে বর্জ্য ফেলা অব্যাহত থাকায় সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে ইউএনও মোঃ জামাল হোসেন পুনরায় অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে নতুন সড়ক সংলগ্ন খায়ের মার্কেটের দুটি ভাঙারি দোকান সিলগালা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পাশাপাশি সরকারি জায়গা দখল করে রাখা মালামাল সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া মহাসড়কের পাশে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়। চৌদ্দগ্রাম বাজারের বিভিন্ন অংশে অভিযান চালিয়ে মালামাল জব্দ করা হয়। আছু শাহ ফকির রোডে এক দোকানিকে ১ হাজার টাকা এবং তৃপ্তি হোটেলকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জামাল হোসেন প্রতিদিনের খবরকে বলেন,
“প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক মাস ধরে খাল ও ডোবা পরিষ্কার করা হয়েছে। এরপর বারবার সতর্ক করা হলেও নির্দেশনা অমান্য করে কেউ ময়লা ফেললে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনস্বার্থে এই অভিযান চলমান থাকবে।”

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক ইয়াছিন আরাফাত বলেন,
“এ ধরনের দূষণ রোধে সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা। প্রশাসন একা কিছু করতে পারবে না, জনগণকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। দোকানদাররা যদি খাল-নালাকে ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলে, তবে আগামী বর্ষাতেও এর চরম খেসারত দিতে হবে চৌদ্দগ্রামবাসীকে।”