চৌদ্দগ্রামের তিন মামলায় খালেদা জিয়াকে অব্যাহতি
- আপডেট সময় : ০৮:৩২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫ ৩০৪ বার পঠিত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দায়েরকৃত হত্যা ও নাশকতার অভিযোগে করা তিনটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মামলাগুলোকে রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকার প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এতে করে চৌদ্দগ্রাম থানায় বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে আর কোনো মামলা নেই।
কুমিল্লা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু সোমবার (৭ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলায় ৮ জন নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করে। ওই দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ মোট ৭৮ জনের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাদী ছিলেন চৌদ্দগ্রাম থানার তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা নুরুজ্জামান হাওলাদার।
তদন্ত ও শুনানির পর প্রমাণের অভাবে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক মো. সফিকুল ইসলাম বেগম খালেদা জিয়াকে দুই মামলাতেই অব্যাহতি দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের নিজ বাসায় ছিলেন এবং তিনি পুলিশি অবরোধের মধ্যে ছিলেন।
এছাড়া, ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রামের হায়দারপুর এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়েরকৃত অপর এক মামলাতেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মামলায় প্রথমে ৩২ জন এবং পরে আরও ১০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলাটির বাদীও ছিলেন এসআই নুরুজ্জামান হাওলাদার।
এই মামলায়ও বেগম খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আফরোজা শিউলি তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
জেলা পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু আরও জানান, এই মামলাগুলো বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিবেচনায় নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয় আবেদন গ্রহণ করে মামলা তিনটি প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়।
তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসনসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় আর কোনো মামলা নেই।”




















