ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ খুলনার সাবেক ২ এমপির বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০৯:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৪ ২৫১ বার পঠিত

খুলনার সাবেক ২ এমপির বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগে খুলনা প্রেসক্লাবে শনিবার দুপুর ১২ টায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন নগরীর খানজাহান আলী থানা এলাকার বাসিন্দা মোল্লা হারুন অর রশিদ।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান ও খুলনা ৩ আসনের সাবেক এমপি এস এম কামাল হোসেন এর সহযোগিতায় খানজাহান আলী থানার মিরেরডাঙ্গা সাবেক নসু খান এর ভাটা সহ অন্যন্য জমি জোরপুর্ব উচ্ছেদ করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে জমি দখল করা হয়েছে।
তিনি বলেন ,খুলনার খানজাহান আলী থানার মিরেরডাঙ্গা নসু খান এর ভাটার মুল মালিক সিরাজুল ইসলাম ওরফে নসু খান , তার বড় স্ত্রী ওমেদা ইসলাম খান, ২য় স্ত্রী, সাইদা সুলতানা মেয়ে, রাশিদা খান পুত্র সালাউদ্দিন খান এদের নিকট থেকে ২০০৪ সালে আমি মোল্লা হারুন অর রশিদ। ৪/১০/২০০৪ এবং ৬/৭/২০০৪ ইং তরিখে মোট ৩ টি দলিলমুলে সাব:রেজি:দৌলতপুর-দলিল নং-২৮৯৩,২৮৯২ ,২০৯২ মোট:-১৬বিঘা ২৪শতক মিরেরডাঙ্গা পেট্রোলিয়াম সাভির্স সহ ক্রয় করি।
পুর্বের মুল মালিক ১৯৬৬ সালের ১৬ মার্চ বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের নিকট থেকে ১৪লাখ ৮৮হাজার ৫শত টাকা লোন নেয় উক্ত লোন মূল মালিকের ওয়ারেশগন ১৯৮২ সালের ২৬ এপ্রিল সম্পুর্ন টাকা ব্যাংকের সুদ সহ পরিশোধ করে। ১৯৯২ সালে শিল্প ব্যাংকের ম্যানেজার আঃ রশিদ প্রতারনার মাধ্যমে সিরাজুল ইসলাম মজুমদার ও আবুল খায়ের চৌধুরীকে খুলনা সাবঃ রেজিঃ অফিস থেকে ২৮ বিঘা ১৮ শতক জমি ৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন ।
এ ঘটনায় ২৩/০৭/১৯৯৬ সালে মূল মালিকের ওয়ারেশ গণ শিল্প ব্যাংকের ম্যানেজার সহ ৪ জনকে আসামী করে খুলনা সাব জজ আদালতে মামলা করেন যার নং ৪৩৯৬ মামলা চলমান।
মামলা চলমান অবস্থায় ভূয়া দলিল করে নেয়া আবুল খায়ের চৌধুরী বিক্রি করে আ:হাই বাহার সাহেবের নিকট-১৪ বিঘা ৯শতক বাকী ১৪ বিঘা ৯শতক বিক্রি করে সিরাজুল ইসলাম মজুমদার ওয়ারেশ বিক্রি করে যাহা মাহাবুব ব্রাদার্স ক্রয় করেন। দলিল করার পর দিঘলিয়া উপজেলা ভূমি অফিস ।উক্ত তফসিল বর্ণিত সম্পত্তিতে কোন মামলা মকদ্দমা নাই বলে রিপোর্ট দাখিল করার পর উক্ত জমির নাম পত্তন করে খাজনাদি সম্পন্ন করে মাহাবুব ব্রাদার্স । বর্তমানে মামলা চলমান বিভাগীয় কমিশনার বয়রা যার মামলা নং ১০২৪ ।
উক্ত জমি-আমার নিকট থেকে সাবেক মন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান এর পৌষ্য পুত্র ও যোগিপোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: সাজ্জাদুর রহমান লিংকন মৌখিকভাবে বলে উক্ত জমিতে সার রাখে এবং এ বাবদ প্রতি মাসে আমাদেরকে সে ভাড়া প্রদান করে এবং প্রতি বছর ঈদুল আযহার সময়ে গরুরহাট করার জন্য লিখিতভাবে আমাদের কাছ থেকে চুক্তিপত্র করে।
লিংকন এর বাহিনী শেখ তরিকুল ইসলাম এর নেতৃত্বে দখলবাজিতে অংশ নেয় এছাড়া শেখ তরিকুল এর নেতৃত্বে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ শত লোকের সমাগম ঘটতো এবং তাদের সকল প্রকার অর্থনৈতিক লেনদেন তরিকুল এর হাত দিয়ে হতো।
দুখঃজনক হলেও সত্য যে সেই লিংকন সাহেবই আমার উক্ত জমিতে গত সংসদ নির্বাচনের পর খুলনা ৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন এর সহযোগিতায় মাহবুব ব্রাদাসর্কে গত ২ মার্চ আমার জমির ভিতরে থাকা সকল স্থাপনা ব্লুড্রেজার দিয়ে ভেঙ্গে রাতারাতি ক্ষমতার দাপটে দখল করে নেয় ।
এবং সেখানে সীমান প্রাচীর দেয় এ বিষয়ে আমি তৎকালীন খানজাহান আলী থানার ওসি মোমতাজুল হক সাহেবের কাছে গেলে তিনি আমাদেরকে কোন ধরনের সহযোগিতা না করে মাহাবুব ব্রাদার্স এর নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা গ্রহন কওে সরাসরি তাদের অবৈধ দখলদারিতে সহযোগিতা করে।
উক্ত জমির উপর দৌলতপুর সহকারী জজ আদালত ৩/৩/২৪ ইং তারিখে ১৮ দিনের জন্য স্থীতিশীল বজায় রাখার জন্য আদেশ দেন। পরবর্তিতে মামলা নং-১১৪৯(২০২৪) উক্ত আদালত ১০/০৬/২০২৪ইং তারিখে জমির উপর ৬ মাসের জন্য স্থীতিশীল বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির আদেশ দেন। উক্ত আদেশের তোয়াক্কা না করে মাহাবুব ব্রাদার্স তার ক্ষমতার দাপটে ২মার্চ সকাল থেকে জায়গার উপর যা কিছু ছিল বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে এবং আশপাশের সরকারি জমিও রাতারাতি দখল করে নেয়।
উল্লেখ থাকে যে শিল্প ব্যাংকের ম্যানেজারের নিকট থেকে ক্রয় কৃত সম্পত্তি আবুল খায়ের চৌধুরী ও সিরাজুল ইসলাম মজুমদার এর মামলা নং-১০৩/২০১০সহকারী জর্জ আদালত দৌলতপুর মামলা নং ১১৫/৭ আদালত কাগজপত্র যাচাই বাছাই পূর্বক তাদের দলিলটি যার দলিল নং-২৬১-২৬/১/১৯৯২ তারিখের দলিলটি আইনগত সম্পূর্ণ অবৈধ ও অকার্যকর বলে রায় প্রদান করেন। আপনাদের মাধ্যমে আমি বর্তমান অন্তবর্তীকালিন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা সহ প্রশাসনের সর্বস্থরের সহযোগিতা কামনা করছি, শুধুমাত্র ক্ষমতার দাপটে বিজ্ঞ আদালতের রায়কে অমান্য করে আমার জমিতে যারা প্রবেশ করেছে এবং যারা এ অবৈধ দখলদারিতে সহযোগিতা করেছে তাদেরকে অতিদ্রত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ থাকে আজকে আমি এখানে যে সাংবাদিক সম্মেলন করছি সেটা যেন না করি এছাড়া আওয়ামী সরকার পতনের পর মাহাবুব ব্রাদার্স মুঠোফোনে আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি সহ প্রাননাশের হুমকি প্রদান করছে।
২০১৭ সালে মাহবুব ব্রাদার্স অবৈধভাবে পাঁচটি দলিল সৃষ্টি করে ২০ দিনের মাথায় মামলা চলমান থাকা অব¯’ায় দিঘলিয়া ভূমি অফিস থেকে মোটা অংকের ঘুষ প্রদানে নিজেদের নামে রেকর্ড সংশোধন করিয়ে নেন।বিগত সরকারের আমলে আমি এই ভুমি দস্যু এবং তাদের দোসরদের চাপে ধরে নিয়েছিলাম হয়ত আমার ন্যায্য সম্পদ আর পাব না। এই বিষয়ে কোন কথাও হয়ত আর বলা হবে না। আমাদের ছাত্রসমাজের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ যে আজ সকলের সামনে আমি ন্যায্য অধিকারের কথা বলার শক্তি পেয়েছি ।




















