ঢাকা ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে ভোগান্তিতে ক্রেতা-ব্যবসায়ী

রাজু আহমেদ-ঢাকা:
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জুন ২০২৩ ২২৯ বার পঠিত

আগামীকাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদুল আযহা। ঈদুল আযহাকে ঘিরে শেষ মূহুর্তে এসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জমজমাট হয়ে উঠেছে পশুর হাটগুলোও। গবাদিপশু বেচা বিক্রি করতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উৎসবমুখর পদচারণায় মুখরিত পশুর হাট। গেলো বছরের তুলনায় এ বছর পশুর দাম নিয়ে বেশি অভিযোগ ক্রেতাদের। অন্যদিকে গো-খাদ্যের উচ্চ মূল্যে লোকসানের আশঙ্কা করছেন বিক্রেতারা।

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ও ইজারাদারদের সমন্বয়ে পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজধানীর মোট ১৯ স্থানে কোরবানির পশুর হাটগুলোর মধ্যে যথাক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০টি ও দক্ষিণে ৯ টি স্থানে বসেছে গবাদি পশুর হাট।
তবে উত্তর সিটি করপোরেশনের সর্ববৃহৎ পশুর হাট হিসেবে গাবতলী পশুর হাট,ইস্টার্ন হাউসিং ও মোহাম্মদপুরের বসিলা পশুর হাটই উল্লেখযোগ্য।

২৮ জুন (বুধবার) রাজধানীর গাবতলি পশুর হাটে গিয়ে জানা গেছে,গেলো কয়েকদিন ধরেই ক্রেতারা হাটে এসে দাম যাচাই-বাছাই করে ফিরে গেলেও সোমবার থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে বেচা-বিক্রি।
তবে এদিন (মঙ্গলবার) সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি নামায় পুরো পশুর হাটজুড়ে কর্দমাক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে চরম জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। মূল হাটের ভেতরে তাবু ও টাঙানো ছাউনির নিচে অবস্থানকারী পশু,পশু ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভোগান্তি একটু কম হলেও হাটের বাইরের অংশগুলোতে অবস্থানকারী গবাদিপশু,ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের পোহাতে হচ্ছে চরম জনদূর্ভোগ। তদুপরি সেটির কোনো তোয়াক্কা না করেই অসংখ্য ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখা গেছে। উল্টো বৃষ্টি জনত কারণে সৃষ্ট জনদূর্ভোগ এড়াতে অনেক ক্রেতাই এদিন হাটে উপস্থিত থাকতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলেও জানিয়েছেন হাট সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, গবাদি পশুর দাম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও নিজেদের পছন্দের প্রশু কিনে নিয়েই ফিরছেন ক্রেতাগণ। তবে এবারে বড় আকারের পশুর চাইতে ছোট ও মাঝারি আকারের পশুর চাহিদা বেশি। অপরদিকে অসময়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি অব্যহত থাকলে অত্যাধিক পরিমাণে জনদূর্ভোগ সৃষ্টিসহ পশু বেচাকেনায় স্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ নিশ্চিতকরণ অপেক্ষাকৃত কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ফলে সেটি পশু বেচাকেনায় হাট সংশ্লিষ্ট সকল মহলেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশংকা প্রকাশ করেছেন গাবতলি পশুর হাট সংশ্লিষ্ট ইজারাদারগণ।

এসময় গাবতলী পশুর হাটে প্রবেশ করে সামান্য ভেতরে প্রবেশ করে দেখা গেলো,ফরিদপুরের চরাঞ্চল থেকে ছয়টি গরু বিক্রি করতে এসেছেন লিয়াকত মৃধা নামে এক খামারি। এসময়ে এক ক্রেতা মাঝারি সাইজের একটি গরুর দাম জানতে চাইলে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেন লিয়াকত মৃধা। এতে করে ওই ক্রেতা হঠাৎই ক্ষেপে গিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন ওই বিক্রেতার সাথে।
এসময় মিরপুর এলাকার বাসিন্দা ওই ক্রেতা “গরুটি থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য মাংসের পরিমাণ জিজ্ঞেস করে দামের সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে কিনা” উল্লেখ করে প্রশ্নটি ছুঁড়ে দেন বিক্রেতা লিয়াকত মৃধার উদ্দেশ্যে।
জবাবে খামারি লিয়াকত মৃধা গরুটি থেকে প্রায় ১১৮ কেজি মাংস পাওয়া যাবে দাবি করে ওই পশুটির পেছনের খরচের হিসাব উল্লেখ করে জানান, একদিকে এধরনের একটি মাঝারি আকারের পশুপালননে পশুটির পেছনে প্রতিদিন ২০০-২৫০ টাকা খরচ হয়েছে। একটি বড় আকারের গরুর পেছনে খরচ হয়েছে ৩০০-৩৫০ টাকা। অপরদিকে চলতি বছর ৩০-৪০ শতাংশ দাম বেড়েছে গোখাদ্যের। বর্তমানে বাজারে প্রতি বস্তা গমের ভুষি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ টাকা,ধানের কুড়া প্রতি বস্তা ৭০০ টাকা এমনকি ডালের খৈল প্রতি বস্তা প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আাকার ভেদে গরুটির যে দাম চাওয়া হয়েছে,সেই দামে বিক্রি হলে সামান্যই লাভ থাকবে। অন্যথায় লোকসান হবে বলেও যোগ করেন এই বিক্রেতা।

এবিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ রেয়াজুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত সোমবার রাজধানীর ১৯টি পশুর হাটে মোট ৪৫ হাজার পশু বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ২০ হাজারটি এবং ছাগল ও ভেড়া ২৫ হাজারটি। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে সোমবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ২৫ লাখ গবাদি পশু বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৫৬ হাজার পশু বিক্রি হয়েছে অনলাইনে। গবাদি পশুর স্বাস্থ্যের বিষয় চিন্তা করে প্রতিটি গবাদি পশুর হাটে পানি সম্পদ অধিদপ্তরের নেতৃত্বে ভেটেরিনারী টিম বসানো হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপব্যবস্থাপক জিনাত সুলতানা জানান, গেলো বছর ঈদুল আযহাকে ঘিরে মোট ৯০ লক্ষ ৮৩ গবাদি পশু কোরবানি দেয়া হয়েছিলো। তবে এবারের ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে প্রায় এক কোটি ২১ লাখ গবাদি পশু কোরবানি দেয়া হতে পারে। বিগত বছরের তুলনায় এবছর ৩৩ শতাংশ বেশি পশু বেচাবিক্রি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।

এবছর গবাদিপশুর হাটে জাল টাকার বিস্তার রোধসহ অবৈধ ও চোরাই গরু বেচা বিক্রি রোধে পুলিশেরতা ব্যাপক তৎপরতা রয়েছে উল্লেখ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের দারুস সালাম জনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মফিজুর রহমান পলাশ বলেন,যানযট নিরসন ও জনদূর্ভোগ লাঘবে গাবতলী পশুর হাটসহ আশপাশের পশুর হাটগুলোতে যত্রতত্র কুরবানীর পশু ওঠানামা রোধ,কোরবানির পশু বেচাকেনায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ,পশুর হাট সংশ্লিষ্ট ইজারাদার কর্তৃক নির্ধারিত হাসিল হার প্রদর্শন করা,পশুর হাটে জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন,যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখাসহ ইত্যাদি বিষয়াদি নিশ্চিতকরণে পুলিশের উর্ধতন মহলের বিশেষ নির্দেশনায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, কোরবানির পশু পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনে চাঁদাবাজি রোধ,কোরবানির পশুর কৃত্রিম সংকট তৈরীর অপচেষ্টাকারী,অতিরিক্ত হাসিল আদায়কারী,কোরবানির পশুর হাটে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করণের চেষ্টা, পশুরহাট কেন্দ্রিক অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সম্ভাব্য অপতৎপরতা রুখতে ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশের সাথে সাদা পোশাকে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্যরা নজরদারিতে রয়েছেন।

ট্যাগস :

রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে ভোগান্তিতে ক্রেতা-ব্যবসায়ী

আপডেট সময় : ০৮:০৬:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জুন ২০২৩

আগামীকাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদুল আযহা। ঈদুল আযহাকে ঘিরে শেষ মূহুর্তে এসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জমজমাট হয়ে উঠেছে পশুর হাটগুলোও। গবাদিপশু বেচা বিক্রি করতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উৎসবমুখর পদচারণায় মুখরিত পশুর হাট। গেলো বছরের তুলনায় এ বছর পশুর দাম নিয়ে বেশি অভিযোগ ক্রেতাদের। অন্যদিকে গো-খাদ্যের উচ্চ মূল্যে লোকসানের আশঙ্কা করছেন বিক্রেতারা।

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ও ইজারাদারদের সমন্বয়ে পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজধানীর মোট ১৯ স্থানে কোরবানির পশুর হাটগুলোর মধ্যে যথাক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০টি ও দক্ষিণে ৯ টি স্থানে বসেছে গবাদি পশুর হাট।
তবে উত্তর সিটি করপোরেশনের সর্ববৃহৎ পশুর হাট হিসেবে গাবতলী পশুর হাট,ইস্টার্ন হাউসিং ও মোহাম্মদপুরের বসিলা পশুর হাটই উল্লেখযোগ্য।

২৮ জুন (বুধবার) রাজধানীর গাবতলি পশুর হাটে গিয়ে জানা গেছে,গেলো কয়েকদিন ধরেই ক্রেতারা হাটে এসে দাম যাচাই-বাছাই করে ফিরে গেলেও সোমবার থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে বেচা-বিক্রি।
তবে এদিন (মঙ্গলবার) সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি নামায় পুরো পশুর হাটজুড়ে কর্দমাক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে চরম জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। মূল হাটের ভেতরে তাবু ও টাঙানো ছাউনির নিচে অবস্থানকারী পশু,পশু ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভোগান্তি একটু কম হলেও হাটের বাইরের অংশগুলোতে অবস্থানকারী গবাদিপশু,ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের পোহাতে হচ্ছে চরম জনদূর্ভোগ। তদুপরি সেটির কোনো তোয়াক্কা না করেই অসংখ্য ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখা গেছে। উল্টো বৃষ্টি জনত কারণে সৃষ্ট জনদূর্ভোগ এড়াতে অনেক ক্রেতাই এদিন হাটে উপস্থিত থাকতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলেও জানিয়েছেন হাট সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, গবাদি পশুর দাম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও নিজেদের পছন্দের প্রশু কিনে নিয়েই ফিরছেন ক্রেতাগণ। তবে এবারে বড় আকারের পশুর চাইতে ছোট ও মাঝারি আকারের পশুর চাহিদা বেশি। অপরদিকে অসময়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি অব্যহত থাকলে অত্যাধিক পরিমাণে জনদূর্ভোগ সৃষ্টিসহ পশু বেচাকেনায় স্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ নিশ্চিতকরণ অপেক্ষাকৃত কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ফলে সেটি পশু বেচাকেনায় হাট সংশ্লিষ্ট সকল মহলেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশংকা প্রকাশ করেছেন গাবতলি পশুর হাট সংশ্লিষ্ট ইজারাদারগণ।

এসময় গাবতলী পশুর হাটে প্রবেশ করে সামান্য ভেতরে প্রবেশ করে দেখা গেলো,ফরিদপুরের চরাঞ্চল থেকে ছয়টি গরু বিক্রি করতে এসেছেন লিয়াকত মৃধা নামে এক খামারি। এসময়ে এক ক্রেতা মাঝারি সাইজের একটি গরুর দাম জানতে চাইলে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেন লিয়াকত মৃধা। এতে করে ওই ক্রেতা হঠাৎই ক্ষেপে গিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন ওই বিক্রেতার সাথে।
এসময় মিরপুর এলাকার বাসিন্দা ওই ক্রেতা “গরুটি থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য মাংসের পরিমাণ জিজ্ঞেস করে দামের সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে কিনা” উল্লেখ করে প্রশ্নটি ছুঁড়ে দেন বিক্রেতা লিয়াকত মৃধার উদ্দেশ্যে।
জবাবে খামারি লিয়াকত মৃধা গরুটি থেকে প্রায় ১১৮ কেজি মাংস পাওয়া যাবে দাবি করে ওই পশুটির পেছনের খরচের হিসাব উল্লেখ করে জানান, একদিকে এধরনের একটি মাঝারি আকারের পশুপালননে পশুটির পেছনে প্রতিদিন ২০০-২৫০ টাকা খরচ হয়েছে। একটি বড় আকারের গরুর পেছনে খরচ হয়েছে ৩০০-৩৫০ টাকা। অপরদিকে চলতি বছর ৩০-৪০ শতাংশ দাম বেড়েছে গোখাদ্যের। বর্তমানে বাজারে প্রতি বস্তা গমের ভুষি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ টাকা,ধানের কুড়া প্রতি বস্তা ৭০০ টাকা এমনকি ডালের খৈল প্রতি বস্তা প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আাকার ভেদে গরুটির যে দাম চাওয়া হয়েছে,সেই দামে বিক্রি হলে সামান্যই লাভ থাকবে। অন্যথায় লোকসান হবে বলেও যোগ করেন এই বিক্রেতা।

এবিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ রেয়াজুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত সোমবার রাজধানীর ১৯টি পশুর হাটে মোট ৪৫ হাজার পশু বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ২০ হাজারটি এবং ছাগল ও ভেড়া ২৫ হাজারটি। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে সোমবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ২৫ লাখ গবাদি পশু বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৫৬ হাজার পশু বিক্রি হয়েছে অনলাইনে। গবাদি পশুর স্বাস্থ্যের বিষয় চিন্তা করে প্রতিটি গবাদি পশুর হাটে পানি সম্পদ অধিদপ্তরের নেতৃত্বে ভেটেরিনারী টিম বসানো হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপব্যবস্থাপক জিনাত সুলতানা জানান, গেলো বছর ঈদুল আযহাকে ঘিরে মোট ৯০ লক্ষ ৮৩ গবাদি পশু কোরবানি দেয়া হয়েছিলো। তবে এবারের ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে প্রায় এক কোটি ২১ লাখ গবাদি পশু কোরবানি দেয়া হতে পারে। বিগত বছরের তুলনায় এবছর ৩৩ শতাংশ বেশি পশু বেচাবিক্রি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।

এবছর গবাদিপশুর হাটে জাল টাকার বিস্তার রোধসহ অবৈধ ও চোরাই গরু বেচা বিক্রি রোধে পুলিশেরতা ব্যাপক তৎপরতা রয়েছে উল্লেখ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের দারুস সালাম জনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মফিজুর রহমান পলাশ বলেন,যানযট নিরসন ও জনদূর্ভোগ লাঘবে গাবতলী পশুর হাটসহ আশপাশের পশুর হাটগুলোতে যত্রতত্র কুরবানীর পশু ওঠানামা রোধ,কোরবানির পশু বেচাকেনায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ,পশুর হাট সংশ্লিষ্ট ইজারাদার কর্তৃক নির্ধারিত হাসিল হার প্রদর্শন করা,পশুর হাটে জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন,যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখাসহ ইত্যাদি বিষয়াদি নিশ্চিতকরণে পুলিশের উর্ধতন মহলের বিশেষ নির্দেশনায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, কোরবানির পশু পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনে চাঁদাবাজি রোধ,কোরবানির পশুর কৃত্রিম সংকট তৈরীর অপচেষ্টাকারী,অতিরিক্ত হাসিল আদায়কারী,কোরবানির পশুর হাটে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করণের চেষ্টা, পশুরহাট কেন্দ্রিক অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সম্ভাব্য অপতৎপরতা রুখতে ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশের সাথে সাদা পোশাকে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্যরা নজরদারিতে রয়েছেন।