ঢাকা ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক ও অপরাধমুক্ত আধুনিক ওয়ার্ড গড়তে চান ইউপি সদস্য প্রার্থী মাকছুদুর রহমান গোয়ালন্দে মুক্তিযোদ্ধা-রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বোয়ালমারীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন আলফাডাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা দৌলতপুরে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে খোকসা থানার ওসি মোল্লা জাকির

নিজস্ব সংবাদদাতা,কুষ্টিয়া:
  • আপডেট সময় : ০১:১৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০৭ বার পঠিত

যোগদানের পর থেকেই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমে অনন্য নজির স্থাপন করে সাধারণ মানুষের মন জয় করেছেন কুষ্টিয়ার খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন।
দালালমুক্ত থানা পরিচালনা, অপরাধ দমন এবং দ্রুত আইনি সেবা নিশ্চিত করায় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে এক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) বা অভিযোগ করতে আসা মানুষের সাথে সদাচরণ ও গুরুত্বের সাথে তাদের কথা শোনার সংস্কৃতি চালু করেছেন এই কর্মকর্তা। দালাল বা মধ্যস্থতাকারীদের প্রভাব ছাড়াই সরাসরি ওসির সাথে কথা বলে সেবা পাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় সেবাগ্রহীতারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ছোটখাটো বিরোধ ও পারিবারিক কলহগুলো স্থানীয়ভাবে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে দ্রুত সমাধান করার ফলে থানায় মামলার জটও কমে এসেছে।

এলাকা থেকে মাদক, চুরি, ছিনতাই এবং ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে ওসি মোল্লা জাকির হোসেন-এর ভূমিকা অত্যন্ত কঠোর ও প্রশংসনীয়। নিয়মিত টহল জোরদার এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। পাশাপাশি তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে তিনি বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছেন।

জানা যায়, খোকসা থানার ওসি হিসেবে মোল্লা জাকির হোসেন যোগদানের পর কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে তাঁর একান্ত চেষ্টায় এ অঞ্চলে সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধ কমে এসেছে।

ওসি মোল্লা জাকির হোসেনের বিচক্ষণতায় উপজেলার ওসমানপুরে ডবল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন। সেই দিনই এজাহার নামীয় আসামিদের গ্রেফতার, খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নাফিজ আহমেদ রাজু’র উপর হামলাকারীকে আটক, কালিশংকরপুরের ডাকাতির ঘটনায় তিনজনকে আটক, উপজেলার এক্তারপুর বাজারে দস্যুতার ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

এ ছাড়া ওসি খোকসা থানার দায়িত্ব নিয়েই সন্ত্রাস ও নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে অভিযান শুরু করেন।

সন্ত্রাসীদের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘থানায় এসে আত্মসমর্পণ করতে হবে, নয়তো খোকসা থানা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে, অন্যথায় গ্রেপ্তার হয়ে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

ওসি মোল্লা জাকির হোসেনকে প্রায় রাতেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ডিউটিরত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। পৌর শহরসহ উপজেলার ক্রাইম জোন হিসেবে চিহ্নিত স্পটগুলোতে প্রতি রাতে ওসি মোল্লা জাকির হোসেন নিজে পুলিশের গাড়ি নিয়ে টহল দেন।

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন ওসি মোল্লা জাকির হোসেন। জানা গেছে, গত তিন মাসে ওসি মোল্লা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে খোকসা থানা পুলিশ উপজেলার প্রায় ২০ জন মাদক কারবারি ও মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করে।

থানায় সেবা নিতে আসা উপজেলার এক্তারপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দার আলী বলেন, ‘এত সুন্দর মন মানসিকতার ওসি এর আগে আমরা পাইনি। তাকে কখনও পুলিশ মনে হয় না। মনে হয় আমাদের পরিবারেরই একজন। তবে কঠিন এবং কোমল দুটো রূপই তার রয়েছে। অপরাধীদের কাছে তিনি আতঙ্ক।’

আরেক সেবা প্রার্থী জুয়েল রানা বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন সবাই মনে করতেন, থানা মানেই হয়রানি আর ঘুষের কারবার। কিন্তু আমাদের সেই ধারণা এখন পাল্টে গেছে। থানাকে এখন সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা মনে হচ্ছে। এটার কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে বর্তমান ওসি সাহেবের।’

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে খোকসা থানার ওসি মোল্লা জাকির

আপডেট সময় : ০১:১৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যোগদানের পর থেকেই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমে অনন্য নজির স্থাপন করে সাধারণ মানুষের মন জয় করেছেন কুষ্টিয়ার খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন।
দালালমুক্ত থানা পরিচালনা, অপরাধ দমন এবং দ্রুত আইনি সেবা নিশ্চিত করায় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে এক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) বা অভিযোগ করতে আসা মানুষের সাথে সদাচরণ ও গুরুত্বের সাথে তাদের কথা শোনার সংস্কৃতি চালু করেছেন এই কর্মকর্তা। দালাল বা মধ্যস্থতাকারীদের প্রভাব ছাড়াই সরাসরি ওসির সাথে কথা বলে সেবা পাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় সেবাগ্রহীতারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ছোটখাটো বিরোধ ও পারিবারিক কলহগুলো স্থানীয়ভাবে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে দ্রুত সমাধান করার ফলে থানায় মামলার জটও কমে এসেছে।

এলাকা থেকে মাদক, চুরি, ছিনতাই এবং ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে ওসি মোল্লা জাকির হোসেন-এর ভূমিকা অত্যন্ত কঠোর ও প্রশংসনীয়। নিয়মিত টহল জোরদার এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। পাশাপাশি তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে তিনি বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছেন।

জানা যায়, খোকসা থানার ওসি হিসেবে মোল্লা জাকির হোসেন যোগদানের পর কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে তাঁর একান্ত চেষ্টায় এ অঞ্চলে সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধ কমে এসেছে।

ওসি মোল্লা জাকির হোসেনের বিচক্ষণতায় উপজেলার ওসমানপুরে ডবল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন। সেই দিনই এজাহার নামীয় আসামিদের গ্রেফতার, খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নাফিজ আহমেদ রাজু’র উপর হামলাকারীকে আটক, কালিশংকরপুরের ডাকাতির ঘটনায় তিনজনকে আটক, উপজেলার এক্তারপুর বাজারে দস্যুতার ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

এ ছাড়া ওসি খোকসা থানার দায়িত্ব নিয়েই সন্ত্রাস ও নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে অভিযান শুরু করেন।

সন্ত্রাসীদের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘থানায় এসে আত্মসমর্পণ করতে হবে, নয়তো খোকসা থানা এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে, অন্যথায় গ্রেপ্তার হয়ে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

ওসি মোল্লা জাকির হোসেনকে প্রায় রাতেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ডিউটিরত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। পৌর শহরসহ উপজেলার ক্রাইম জোন হিসেবে চিহ্নিত স্পটগুলোতে প্রতি রাতে ওসি মোল্লা জাকির হোসেন নিজে পুলিশের গাড়ি নিয়ে টহল দেন।

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন ওসি মোল্লা জাকির হোসেন। জানা গেছে, গত তিন মাসে ওসি মোল্লা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে খোকসা থানা পুলিশ উপজেলার প্রায় ২০ জন মাদক কারবারি ও মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করে।

থানায় সেবা নিতে আসা উপজেলার এক্তারপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দার আলী বলেন, ‘এত সুন্দর মন মানসিকতার ওসি এর আগে আমরা পাইনি। তাকে কখনও পুলিশ মনে হয় না। মনে হয় আমাদের পরিবারেরই একজন। তবে কঠিন এবং কোমল দুটো রূপই তার রয়েছে। অপরাধীদের কাছে তিনি আতঙ্ক।’

আরেক সেবা প্রার্থী জুয়েল রানা বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন সবাই মনে করতেন, থানা মানেই হয়রানি আর ঘুষের কারবার। কিন্তু আমাদের সেই ধারণা এখন পাল্টে গেছে। থানাকে এখন সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা মনে হচ্ছে। এটার কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে বর্তমান ওসি সাহেবের।’