ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমবায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দ্রুত আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে গড়ে তোলা যাবে- প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ খোকসা জনতা ব্যাংক থেকে জাল স্বাক্ষর করে দুই লাখ সত্তর হাজার টাকা উত্তলোনের অভিযোগ আলফাডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন সালথায় সমবায় দিবসের সভায় সমিতির কার্যক্রম নিয়ে নীরব কর্মকর্তা, অতিথিদের ক্ষোভ মথুরাপুরে ফরজ উল্লাহর পক্ষে ৪৩৫ মোটরসাইকেলের বিশাল শোডাউন মাদক ও অপরাধমুক্ত আধুনিক ওয়ার্ড গড়তে চান ইউপি সদস্য প্রার্থী মাকছুদুর রহমান গোয়ালন্দে মুক্তিযোদ্ধা-রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বোয়ালমারীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন আলফাডাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা দৌলতপুরে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা

পাটের বাম্পার ফলন হলেও দাম নিয়ে হতাশ পাট চাষিরা

শেখ মাসুদ পারভেজ-নড়াইল:
  • আপডেট সময় : ০২:০৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৩ ৬৩০ বার পঠিত

নড়াইলেের লোহাগড়ায় চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন হলেও দাম নিয়ে হতাশ পাট চাষিরা।

পাট জাগ ও দাম নিয়ে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে পাট চাষি কৃষকের কপালে। এ ছাড়া শ্রমিক ও পানির অভাবে জাগ দিতে না পারায় অনেক কৃষকের পাট এখনও ক্ষেতেই রয়ে গেছে। কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক মন পাট ঘরে তুলতে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। বর্তমান বাজারে ১৮০০ -২০০০ টাকা দরে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ অঞ্চলের কৃষকের প্রধান ফসল পাট। গত দুই বছরে কাঙ্খিত দাম পেয়ে এবার অধিক জমিতে পাট চাষ করেছেন কৃষকেরা।

চলতি মৌসুমে লোহাগড়া উপজেলায় প্রায় ছয় হাজার ১২১৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে বারো থেকে চৌদ্দ মন পর্যন্ত ফলন। নদী তীরবতী ও বিল অঞ্চলের আশ পাশের কৃষকরা পাট কেটে জাগ দিতে পারলেও উপজেলার বেশি ভাগ কৃষক এখনও পাট কেটে ক্ষেতেই রেখে দিয়েছেন। সাধারনত পাটের মৌসুম শেষ হলে কৃষকরা জমিতে ধান আবাদ করে থাকেন। কিন্তু জাগ দেওয়ার সমস্যা, শ্রমিক সংকট ও বাজারে প্রত্যাশিত দাম না থাকায় অনেকে পাট বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে বীজতলা প্রস্তুত থাকলেও চাষিদের অনেকে এখনও ধান রোপন করতে পারেননি। এতে কৃষকদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

কোটাকোল ইউনিয়নের ঘাঘা গ্রামের কৃষক সোনা মিয়া শেখ বলেন, গত দুই বছরে পাটের দাম ভালো থাকায় এ বছর তিনি দশ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। বীজ রোপন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রতিমন পাট ঘরে তুলতে প্রায় ১৮০০-২০০০ টাকা খরচ হয়েছে। সে পাট এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে মন প্রতি সর্বচ্চো দুই হাজার টাকা লোকসান দিয়েই পাট বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। একই ইউনিয়নের ধলাইতলা তিনু গাজী জানান, দাম কম থাকায় এ বছর ক্ষেত থেকে পাট কাটতে ইচ্ছে করছে না তাঁর। তিনি জানান একজন শ্রমিককে রোজ সাত শত থেকে আট শত টাকা দিয়ে পাট কাটতে হচ্ছে। ক্ষেতের আশপাশে পানি না থাকায় দূরে নিয়ে জাগ দিতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাবদ আঁটি প্রতি পাঁচ- ছয় টাকা খরচ হচ্ছে। অনেকে পুকুর ভাড়া করে পাট জাগ দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে এ বছর পাট চাষে কৃষকদের কোন লাভ হবে না বরং বর্গা চাষীদের ক্ষতির সম্ভাবনা রকয়েছ একই ইউনিয়নের মধ্য কোটাকোল গ্রামের আকরাম শেখ বলেন, কয়েক বছরের তুলনায় এ বছরই পাটের দাম অনেক কম। পানি না থাকায় পাট জাগ দেওয়া অনেক কষ্টের ব্যাপার। এসব কষ্ট কথা বলে শেষ নাই।

উপজেলা কৃষি অফিসার ফারজানা আক্তার জানান, গত দুই বছর পাটের দাম ভালো হওয়ায় এ বছর কৃষকেরা বেশি পাট চাষ করেছেন। উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়েছে।পানির অভাবে কৃষকের পাট জাগ দিতে সমস্যা হচ্ছে।তবে কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি হলে এ সমস্যা থাকবে না।পাটের দাম কিছু দিনের মধ্যে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

পাটের বাম্পার ফলন হলেও দাম নিয়ে হতাশ পাট চাষিরা

আপডেট সময় : ০২:০৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৩

নড়াইলেের লোহাগড়ায় চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন হলেও দাম নিয়ে হতাশ পাট চাষিরা।

পাট জাগ ও দাম নিয়ে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে পাট চাষি কৃষকের কপালে। এ ছাড়া শ্রমিক ও পানির অভাবে জাগ দিতে না পারায় অনেক কৃষকের পাট এখনও ক্ষেতেই রয়ে গেছে। কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক মন পাট ঘরে তুলতে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। বর্তমান বাজারে ১৮০০ -২০০০ টাকা দরে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ অঞ্চলের কৃষকের প্রধান ফসল পাট। গত দুই বছরে কাঙ্খিত দাম পেয়ে এবার অধিক জমিতে পাট চাষ করেছেন কৃষকেরা।

চলতি মৌসুমে লোহাগড়া উপজেলায় প্রায় ছয় হাজার ১২১৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে বারো থেকে চৌদ্দ মন পর্যন্ত ফলন। নদী তীরবতী ও বিল অঞ্চলের আশ পাশের কৃষকরা পাট কেটে জাগ দিতে পারলেও উপজেলার বেশি ভাগ কৃষক এখনও পাট কেটে ক্ষেতেই রেখে দিয়েছেন। সাধারনত পাটের মৌসুম শেষ হলে কৃষকরা জমিতে ধান আবাদ করে থাকেন। কিন্তু জাগ দেওয়ার সমস্যা, শ্রমিক সংকট ও বাজারে প্রত্যাশিত দাম না থাকায় অনেকে পাট বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে বীজতলা প্রস্তুত থাকলেও চাষিদের অনেকে এখনও ধান রোপন করতে পারেননি। এতে কৃষকদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

কোটাকোল ইউনিয়নের ঘাঘা গ্রামের কৃষক সোনা মিয়া শেখ বলেন, গত দুই বছরে পাটের দাম ভালো থাকায় এ বছর তিনি দশ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। বীজ রোপন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রতিমন পাট ঘরে তুলতে প্রায় ১৮০০-২০০০ টাকা খরচ হয়েছে। সে পাট এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে মন প্রতি সর্বচ্চো দুই হাজার টাকা লোকসান দিয়েই পাট বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। একই ইউনিয়নের ধলাইতলা তিনু গাজী জানান, দাম কম থাকায় এ বছর ক্ষেত থেকে পাট কাটতে ইচ্ছে করছে না তাঁর। তিনি জানান একজন শ্রমিককে রোজ সাত শত থেকে আট শত টাকা দিয়ে পাট কাটতে হচ্ছে। ক্ষেতের আশপাশে পানি না থাকায় দূরে নিয়ে জাগ দিতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাবদ আঁটি প্রতি পাঁচ- ছয় টাকা খরচ হচ্ছে। অনেকে পুকুর ভাড়া করে পাট জাগ দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে এ বছর পাট চাষে কৃষকদের কোন লাভ হবে না বরং বর্গা চাষীদের ক্ষতির সম্ভাবনা রকয়েছ একই ইউনিয়নের মধ্য কোটাকোল গ্রামের আকরাম শেখ বলেন, কয়েক বছরের তুলনায় এ বছরই পাটের দাম অনেক কম। পানি না থাকায় পাট জাগ দেওয়া অনেক কষ্টের ব্যাপার। এসব কষ্ট কথা বলে শেষ নাই।

উপজেলা কৃষি অফিসার ফারজানা আক্তার জানান, গত দুই বছর পাটের দাম ভালো হওয়ায় এ বছর কৃষকেরা বেশি পাট চাষ করেছেন। উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়েছে।পানির অভাবে কৃষকের পাট জাগ দিতে সমস্যা হচ্ছে।তবে কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি হলে এ সমস্যা থাকবে না।পাটের দাম কিছু দিনের মধ্যে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।