ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমবায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দ্রুত আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে গড়ে তোলা যাবে- প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ খোকসা জনতা ব্যাংক থেকে জাল স্বাক্ষর করে দুই লাখ সত্তর হাজার টাকা উত্তলোনের অভিযোগ আলফাডাঙ্গায় নানা আয়োজনে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন সালথায় সমবায় দিবসের সভায় সমিতির কার্যক্রম নিয়ে নীরব কর্মকর্তা, অতিথিদের ক্ষোভ মথুরাপুরে ফরজ উল্লাহর পক্ষে ৪৩৫ মোটরসাইকেলের বিশাল শোডাউন মাদক ও অপরাধমুক্ত আধুনিক ওয়ার্ড গড়তে চান ইউপি সদস্য প্রার্থী মাকছুদুর রহমান গোয়ালন্দে মুক্তিযোদ্ধা-রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বোয়ালমারীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন আলফাডাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা দৌলতপুরে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা

সালথায় সমবায় দিবসের সভায় সমিতির কার্যক্রম নিয়ে নীরব কর্মকর্তা, অতিথিদের ক্ষোভ

শরিফুল হাসান,সালথা (ফরিদপুর):
  • আপডেট সময় : ০৮:০৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ২৮ বার পঠিত

Oplus_131072

করব সমবায়,গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরের সালথায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে দিবসটির আলোচনা সভায় উপজেলার সমবায় সমিতিগুলোর কার্যক্রম, সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেন। এমনকি স্বাগত বক্তব্যে মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের নামও উল্লেখ করেননি তিনি। এ ঘটনায় সভায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

আজ রবিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও সমবায় বিভাগের যৌথ আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেন। তবে তাঁর বক্তব্যে সমবায় বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রম, উপজেলার বিভিন্ন সমবায় সমিতির বর্তমান অবস্থা, সদস্যদের সমস্যা কিংবা সমবায় খাতের উন্নয়নে গৃহীত উদ্যোগ সম্পর্কে কোনো তথ্য উঠে আসেনি। সমিতিগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষণে দপ্তরের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও তিনি কিছু বলেননি।

এ সময় সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ সমবায় কর্মকর্তাকে তাঁর দপ্তরের কার্যক্রম ও উপজেলার সমিতিগুলোর সার্বিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু এরপরও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি ওই কর্মকর্তা। এতে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিজভী আহমেদ সবুজ, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসার আজাদ, উপজেলা যুবদল নেতা কামরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মুরাদুর রহমান মুরাদ, সাফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জাতীয় সমবায় দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো সমবায় আন্দোলনকে শক্তিশালী করা, সমবায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমবায় খাতের অবদান তুলে ধরা। সে বিবেচনায় উপজেলা পর্যায়ে সমবায় বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেনের কাছ থেকে উপজেলার সমিতিগুলোর সার্বিক চিত্র, অর্জন, সীমাবদ্ধতা, সদস্যদের সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার প্রত্যাশা ছিল উপস্থিত ব্যক্তিদের। কিন্তু এসব বিষয়ে কোনো আলোচনা না হওয়ায় দিবসটির আয়োজন অনেকটা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেনের বিরুদ্ধে সমবায় সমিতির সদস্যদের হয়রানি, ঘুষ লেনদেনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সচেতন মহলের মতে, জাতীয় সমবায় দিবস কেবল র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জিত হবে না। সমবায় সমিতিগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি, সদস্যদের অধিকার ও আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং সমবায়ীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তাঁদের প্রশ্ন, যে দিবসের মূল প্রতিপাদ্য সমবায়, সেই দিবসের আলোচনা সভাতেই যদি সমবায় সমিতিগুলোর বাস্তব সমস্যা, কার্যক্রম ও সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য না থাকে, তাহলে দিবসটি পালনের সার্থকতা কতটুকু? তাঁরা উপজেলা সমবায় বিভাগের কার্যক্রম ও কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
সালথা উপজেলায় কৃষক সমিতি ও যুব সমিতি না থাকা এবং বিদ্যমান সমিতিগুলোর কার্যক্রম সচল না থাকায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি অল্প সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

এদিকে সমিতির সদস্যদের হয়রানি, ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো মিথ্যা। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করতে পারবেন না।

সালথায় সমবায় দিবসের সভায় সমিতির কার্যক্রম নিয়ে নীরব কর্মকর্তা, অতিথিদের ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৮:০৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

করব সমবায়,গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরের সালথায় ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে দিবসটির আলোচনা সভায় উপজেলার সমবায় সমিতিগুলোর কার্যক্রম, সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেন। এমনকি স্বাগত বক্তব্যে মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের নামও উল্লেখ করেননি তিনি। এ ঘটনায় সভায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

আজ রবিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও সমবায় বিভাগের যৌথ আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেন। তবে তাঁর বক্তব্যে সমবায় বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রম, উপজেলার বিভিন্ন সমবায় সমিতির বর্তমান অবস্থা, সদস্যদের সমস্যা কিংবা সমবায় খাতের উন্নয়নে গৃহীত উদ্যোগ সম্পর্কে কোনো তথ্য উঠে আসেনি। সমিতিগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষণে দপ্তরের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও তিনি কিছু বলেননি।

এ সময় সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ সমবায় কর্মকর্তাকে তাঁর দপ্তরের কার্যক্রম ও উপজেলার সমিতিগুলোর সার্বিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু এরপরও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি ওই কর্মকর্তা। এতে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিজভী আহমেদ সবুজ, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসার আজাদ, উপজেলা যুবদল নেতা কামরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মুরাদুর রহমান মুরাদ, সাফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জাতীয় সমবায় দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো সমবায় আন্দোলনকে শক্তিশালী করা, সমবায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমবায় খাতের অবদান তুলে ধরা। সে বিবেচনায় উপজেলা পর্যায়ে সমবায় বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেনের কাছ থেকে উপজেলার সমিতিগুলোর সার্বিক চিত্র, অর্জন, সীমাবদ্ধতা, সদস্যদের সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার প্রত্যাশা ছিল উপস্থিত ব্যক্তিদের। কিন্তু এসব বিষয়ে কোনো আলোচনা না হওয়ায় দিবসটির আয়োজন অনেকটা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেনের বিরুদ্ধে সমবায় সমিতির সদস্যদের হয়রানি, ঘুষ লেনদেনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সচেতন মহলের মতে, জাতীয় সমবায় দিবস কেবল র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জিত হবে না। সমবায় সমিতিগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি, সদস্যদের অধিকার ও আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং সমবায়ীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তাঁদের প্রশ্ন, যে দিবসের মূল প্রতিপাদ্য সমবায়, সেই দিবসের আলোচনা সভাতেই যদি সমবায় সমিতিগুলোর বাস্তব সমস্যা, কার্যক্রম ও সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য না থাকে, তাহলে দিবসটি পালনের সার্থকতা কতটুকু? তাঁরা উপজেলা সমবায় বিভাগের কার্যক্রম ও কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
সালথা উপজেলায় কৃষক সমিতি ও যুব সমিতি না থাকা এবং বিদ্যমান সমিতিগুলোর কার্যক্রম সচল না থাকায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সৈয়দ ইশতিয়াক হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি অল্প সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

এদিকে সমিতির সদস্যদের হয়রানি, ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো মিথ্যা। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করতে পারবেন না।