ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক ও অপরাধমুক্ত আধুনিক ওয়ার্ড গড়তে চান ইউপি সদস্য প্রার্থী মাকছুদুর রহমান গোয়ালন্দে মুক্তিযোদ্ধা-রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বোয়ালমারীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন আলফাডাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা দৌলতপুরে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর

পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে খোকসার চাষিরা

পুলক সরকার-(খোকসা),কুষ্টিয়া:
  • আপডেট সময় : ০৮:৪০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ২৭২ বার পঠিত

 

পান চাষে ব্যপক সম্ভাবনা থাকলেও কৃষি বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবসহ নানা কারণে দিন-দিন পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষীরা।

পান চাষীরা সরকারি বেসরকারি কোন সাহায্য সহায়তা পাচ্ছে না। একদিকে উৎপাদন খরচ বেশি অপরদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদেরকে সরকারি প্রণোদনা দেয়ার ব্যবস্থা না থাকা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় সুস্বাদু বাংলার পান চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কুষ্টিয়ার খোকসার পানচাষিরা। ফলে হারিয়ে যেতে পারে খোকসার এ ঐতিহ্য।

এ উপজেলায় পূর্ব পুরুষের পেশা হিসেবে এখনো যারা পানের বরজ নিয়ে আছেন তারা জানান, পান চাষের জন্য সরকারি কোন সাহায্য সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না।

ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে যে কোন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার তাদের সহায়তা করে কিন্তু পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে পান চাষীদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না।

জানা যায়, এখানকার উৎপাদিত পান খোকসা তথা কুষ্টিয়া জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হয় পাশ্ববর্তী জেলা ফরিদপুর, মাগুরা,ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে খোকসা বাজার থেকে সপ্তাহে দুই দিন পান সংগ্রহ করে নিয়ে যেত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। সপ্তাহের দু’দিন পাইকারদের চাহিদা অনুযায়ী পান বাজারজাত করতেন এই এলাকার পান চাষিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাধীনতার আগ থেকে খোকসা কিছু পান চাষী স্থানীয়ভাবে পান চাষ করে ব্যপক সাফল্য লাভ করেন। পরে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মাঝে পান চাষে আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

পর্যায়ক্রমে এই এলাকার চাষীরা পান চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং সফলতার মুখও দেখেন। । বর্তমানে চাষীরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ না থাকায় পান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

স্থানীয় চাষীরা জানান, সরকার কৃষকদের জন্য সারা দেশে বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ করলেও উপজেলার পান চাষীদের কপালে একশত গ্রাম সার-বীজ ও এক বোতল কীটনাশকও জোটেনি। তারা আরো জানান, পানের বরজ তৈরি করে পানের লতা লাগিয়ে ভাল ফলন পেলেও সার কীটনাশক ব্যবহারে পানের রোগ ঠেকাতে পারছেন না তারা। রোগবালাই কিংবা সমস্যা দেখা দিলে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা কিংবা ঔষধ বিক্রেতাদের সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা গ্রহন করেন।

উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের ইচলাট গ্রামের পানচাষি অংকুর বিশ্বাস জানান, পারিবারিকভাবে তারা ৫০ বছরের বেশি সময় পান চাষ করছেন। তার সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস পানের বরজ। কিন্তু বর্তমানে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় পান চাষ কমিয়ে সেই জমিতে অন্যান্য সবজি চাষ করেন।

ওই একই এলাকার পানচাষি দীনেশ সরকার জানান, নিজস্ব ৩০ শতক জমিতে পান চাষ করেন। উৎপাদন বাড়ানো, রোগব্যাধি নির্মূল, সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা না থাকায় নতুন করে পান চাষে কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। উপাদানের খরচের পরিমাণ বেশি হওয়ায় পুরোনোরাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পান চাষ থেকে। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে খোকসার এ পান শিল্প।

শিমুলিয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের পানচাষি কমল সরকার বলেন, পরিবারের ঐতিহ্য হিসেবে পূর্ব পুরুষদের ন্যায় আমরা মাত্র ত্রিশ শতক জমিতে পান চাষ অব্যহত রেখেছি। আগে দেড়-দুই একর জমিতে চাষ করতাম। সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে আবারো চাষাবাদ বৃদ্ধির ইচ্ছা আছে।

চাষীদেরকে বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হয় বলে জানান, খোকসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সবুজ কুমার সাহা।

পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে খোকসার চাষিরা

আপডেট সময় : ০৮:৪০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

 

পান চাষে ব্যপক সম্ভাবনা থাকলেও কৃষি বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবসহ নানা কারণে দিন-দিন পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষীরা।

পান চাষীরা সরকারি বেসরকারি কোন সাহায্য সহায়তা পাচ্ছে না। একদিকে উৎপাদন খরচ বেশি অপরদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদেরকে সরকারি প্রণোদনা দেয়ার ব্যবস্থা না থাকা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় সুস্বাদু বাংলার পান চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কুষ্টিয়ার খোকসার পানচাষিরা। ফলে হারিয়ে যেতে পারে খোকসার এ ঐতিহ্য।

এ উপজেলায় পূর্ব পুরুষের পেশা হিসেবে এখনো যারা পানের বরজ নিয়ে আছেন তারা জানান, পান চাষের জন্য সরকারি কোন সাহায্য সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না।

ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে যে কোন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার তাদের সহায়তা করে কিন্তু পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে পান চাষীদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না।

জানা যায়, এখানকার উৎপাদিত পান খোকসা তথা কুষ্টিয়া জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হয় পাশ্ববর্তী জেলা ফরিদপুর, মাগুরা,ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে খোকসা বাজার থেকে সপ্তাহে দুই দিন পান সংগ্রহ করে নিয়ে যেত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। সপ্তাহের দু’দিন পাইকারদের চাহিদা অনুযায়ী পান বাজারজাত করতেন এই এলাকার পান চাষিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাধীনতার আগ থেকে খোকসা কিছু পান চাষী স্থানীয়ভাবে পান চাষ করে ব্যপক সাফল্য লাভ করেন। পরে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মাঝে পান চাষে আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

পর্যায়ক্রমে এই এলাকার চাষীরা পান চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং সফলতার মুখও দেখেন। । বর্তমানে চাষীরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ না থাকায় পান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

স্থানীয় চাষীরা জানান, সরকার কৃষকদের জন্য সারা দেশে বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ করলেও উপজেলার পান চাষীদের কপালে একশত গ্রাম সার-বীজ ও এক বোতল কীটনাশকও জোটেনি। তারা আরো জানান, পানের বরজ তৈরি করে পানের লতা লাগিয়ে ভাল ফলন পেলেও সার কীটনাশক ব্যবহারে পানের রোগ ঠেকাতে পারছেন না তারা। রোগবালাই কিংবা সমস্যা দেখা দিলে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা কিংবা ঔষধ বিক্রেতাদের সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা গ্রহন করেন।

উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের ইচলাট গ্রামের পানচাষি অংকুর বিশ্বাস জানান, পারিবারিকভাবে তারা ৫০ বছরের বেশি সময় পান চাষ করছেন। তার সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস পানের বরজ। কিন্তু বর্তমানে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় পান চাষ কমিয়ে সেই জমিতে অন্যান্য সবজি চাষ করেন।

ওই একই এলাকার পানচাষি দীনেশ সরকার জানান, নিজস্ব ৩০ শতক জমিতে পান চাষ করেন। উৎপাদন বাড়ানো, রোগব্যাধি নির্মূল, সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা না থাকায় নতুন করে পান চাষে কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। উপাদানের খরচের পরিমাণ বেশি হওয়ায় পুরোনোরাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পান চাষ থেকে। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে খোকসার এ পান শিল্প।

শিমুলিয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের পানচাষি কমল সরকার বলেন, পরিবারের ঐতিহ্য হিসেবে পূর্ব পুরুষদের ন্যায় আমরা মাত্র ত্রিশ শতক জমিতে পান চাষ অব্যহত রেখেছি। আগে দেড়-দুই একর জমিতে চাষ করতাম। সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে আবারো চাষাবাদ বৃদ্ধির ইচ্ছা আছে।

চাষীদেরকে বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হয় বলে জানান, খোকসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সবুজ কুমার সাহা।