স্মৃতির প্রদীপে আলোকিত প্রাঙ্গণ : নাজির উদ্দিন স্কুলের ৮০ বছরে মিলনমেলার আবাহন
- আপডেট সময় : ১২:১৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৯৫ বার পঠিত

সময় পেরিয়ে যায়, কিন্তু কিছু স্মৃতি থেকে যায় হৃদয়ের গভীরে—ঠিক তেমনই এক স্মৃতির নাম গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। গৌরব,ঐতিহ্য আর আবেগের আট দশক পেরিয়ে ৮০ বছরে পা রাখতে যাচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। নতুন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় বৃহস্পতিবার উঠছে উৎসবের পর্দা।
উৎসবের আগের দিনেই আলোর ছোঁয়ায় বদলে গেছে বিদ্যালয় চত্বর। স্কুলের ফটক থেকে শুরু করে আশপাশের সড়ক—সবখানেই ঝলমলে আলোকসজ্জা। মাঠে মাঠে জড়ো হচ্ছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। কেউ খুঁজে ফিরছেন শৈশবের বেঞ্চসাথিকে,কেউ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ফিরিয়ে আনছেন স্কুলজীবনের হাসি-কান্না, দুষ্টুমি আর স্বপ্নের গল্প। আর মঞ্চে—চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, যেন আবেগের এক মহোৎসবের অপেক্ষা।
১৯৪৩ সালে যাত্রা শুরু করা এই বিদ্যালয় শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; তৈরি করেছে অসংখ্য মানুষ—যারা আজ শিক্ষক, প্রশাসক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, উদ্যোক্তা হিসেবে দেশ-বিদেশে আলো ছড়াচ্ছেন। অনেক পরিবারে বাবা থেকে ছেলে, ছেলে থেকে নাতি—প্রজন্মের পর প্রজন্ম বহন করে চলেছে নাজির উদ্দিন স্কুলের পরিচয়। এ যেন শুধু একটি বিদ্যালয় নয়, একটি জীবনের অংশ।
বৃহস্পতিবার সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হবে ৮০ বছর পূর্তি উৎসবের। সেই মুহূর্তে মিলবে অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ—একই বন্ধনে।
অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব আশরাফুল আলম বলেন,
“এই আয়োজন কোনো সাধারণ উৎসব নয়; এটি আমাদের শিকড়ের কাছে ফিরে আসার নাম। নাজির উদ্দিন স্কুল মানেই আবেগ, বন্ধন আর স্মৃতির ঠিকানা। সবার সঙ্গে একত্রিত হতে পারাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক ফকির মো.নুরুজ্জামান বলেন,
“দেশের নানা প্রান্তে কর্মরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আজ এক ছাদের নিচে মিলিত হচ্ছেন। এই ৮০ বছর পূর্তি আমাদের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে। এই বিদ্যালয় শুধু শিক্ষা দেয়নি—গড়ে দিয়েছে মানুষ, যারা দেশ ও বিদেশে নিজেদের কর্মক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। আশা করি, এই মিলনমেলা সবার হৃদয়ে দীর্ঘদিন রয়ে যাবে।”
আট দশকের পথচলায় নাজির উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আজ শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়—এটি স্মৃতি, গর্ব আর ভালোবাসার এক অনন্ত অধ্যায়।




















