শ্রীবরদীতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য, টাকা লেনদেনের ভিডিও ফাঁস
- আপডেট সময় : ০৫:৪২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫ ১৭৩ বার পঠিত
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও ঘুষ বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট। নামজারি, খারিজ, সার্টিফিকেট প্রদান কিংবা লিজ নবায়নের মতো সেবাগুলোর প্রতিটি পর্যায়ে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না—এমন অভিযোগ জানাচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা।
ভূমি অফিস সংশ্লিষ্ট ঘুষ লেনদেনের একাধিক ভিডিও এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে খড়িয়াকাজিরচর ইউনিয়নের উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানাকে হাসিমুখে এক স্থানীয় দালালের কাছ থেকে নগদ টাকা নিতে দেখা যায়। আরেক ভিডিওতে দেখা গেছে, এক বৃদ্ধ সেবা নিতে এসে কর্মকর্তাকে টাকা দিচ্ছেন এবং সেই কর্মকর্তা টাকা নিজের পার্সে রেখে যাচাই না করেই কাজ সম্পন্নের আশ্বাস দিচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ে কিছু দালাল ও দলিল লেখকদের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট, যারা নিয়মিত ঘুষ লেনদেনের মধ্য দিয়ে ভূমি অফিসে ‘সেবা’ নিশ্চিত করে।
স্থানীয় বাসিন্দা এডভোকেট মো. শাহজাহান বলেন, “এই অফিসের দুর্নীতি আগের মতোই বহাল আছে। বরং এখন ঘুষ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না।” পল্লী চিকিৎসক নিজাম উদ্দিন জানান, “দুই বছর ধরে টাকা দিয়েও কাজ করাতে পারিনি।” অপরদিকে কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, “নায়েব ১০ হাজার টাকা চাইলেও না দিতে পারায় আমার খারিজ হয়নি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, টাকা ছাড়া কোনও কাজ সম্ভব নয়, আর এই দালালরাই বড় বড় অনিয়মের মূল হোতা। টাকা নেওয়ার পরেও দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানি পিছু ছাড়ে না।
বিষয়টি জানতে চাইলে অভিযুক্ত উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান এবং পরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই হয়রানির অভিযোগ তোলেন।
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ তপন সারোয়ার বলেন, “দুর্নীতি সমাজের রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। এভাবে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন হলে সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায় বাড়বে।”
বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী রাজিয়া সামাদ ডালিয়া বলেন, “ডিজিটাল সেবা চালুর পরেও হাতে টাকা লেনদেন চলতে পারে না। এসব কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা উচিত।”
এ বিষয়ে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাবের আহমেদ বলেন, “সরকার ভূমি সেবাকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছেন। অনলাইন প্রক্রিয়ায় টাকা লেনদেনের সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















