ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

শেরপুরে বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসছেনা রোগীরা, ডাক্তারদের দাবী প্রচারনা অভাবেই মানুষ আসছেনা

শেখ সাঈদ আহমেদ সাবাব- শেরপুর:
  • আপডেট সময় : ০৪:০৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ এপ্রিল ২০২৩ ১৭৪ বার পঠিত

গত বৃহস্পতিবার দেশের কয়েকটি জেলা ও উপজেলার মতো শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালু হয়েছে চিকিৎসকদের বৈকালিক চেম্বার। আর প্রচারনার অভাবে রোগীরা সেবা নিতে আসছে না বলে জানালেন ডাক্তার,কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা। ফলে বিকেলের চেম্বারে চিকিৎসকরা বসে থাকলেও আসছেন না রোগী।

হাসপাতালের তথ্য বলছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ৩জন, বুধবার ৯জনসহ সব মিলিয়ে সাতদিনে বিকেলের চেম্বারে সেবা নিয়েছেন মাত্র ৩২ জন রোগী। হাসপাতাল
কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রচারণার কারণে রোগীর চাপ কম।

দেশের অন্যান্য হাসপাতালের মতো নকলা উপজেলার এই হাসপাতালে চিকিৎসকদের বৈকালিক চেম্বার চালু হয়েছে গত ৩০ মার্চ। এই চেম্বারে ২০০ টাকা থেকে শুরু
করে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ভিজিটে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর সুযোগ রয়েছে।

প্র‍তিদিন থাকছেন একজন মেডিকেল অফিসার। আর অন্যান্য দিন একজন করে গাইনি বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, চর্ম-যৌন বিশেষজ্ঞ আর শিশুও অর্থোপেডিক্স
বিশেষজ্ঞরা রোগী দেখেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নকলা উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে একজন মেডিক্যাল অফিসার, আরেকজন জুনিয়র প্রসুতি ও
গাইনি কনসালট্যান্টকে দেখা গেলেও বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে কোন রোগী নেই।

সারা বিকেল বেলায় মোট তিনজন রোগী এসেছিলো সেবা গ্রহণ করতে। তবে নিচতলায় জরুরী বিভাগে সাধারণ সেবা গ্রহণ করছে মানুষ। সেখান থেকেই ৫ টাকার টিকেটে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেই সন্তুষ্ট রোগীরা। আর তারা জানেইনা বৈকালিক স্বাস্থ্য সেবায় ডাক্তাররা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।

নকলার মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন,আমি আসছিলাম রোগীর সেলাই কাটাতে। জরুরি বিভাগ থেকে সেলাই কাটাইলাম। কিন্তু আমি তো জানি না টাকার বিনিময়ে বৈকালিক সেবা দেওয়া হয়। এইগুলা তো প্রচারও দেখি না।

গনপদ্দীর মোঃ আজাদ মিয়া বলেন, বৈকালিক সেবাটা কি আমি তো কিছুই বুঝতাছি না। সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার টেহায় নেয় না না নেয় আমি কি করে কমু। আমি ৫ টাকা দিয়া সিলিপ কইরা সেবা নিয়া গেলাম। বৈকালিক যে সেবা আছে এইটা আপনার মাধ্যমেই জানলাম।

রোগী না আসায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদেরও বিকেলে সেবা দিতে তেমন আগ্রহী দেখা যায়নি। জরুরী বিভাগে একজন মেডিক্যাল অফিসার চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। সেবা কেন্দ্রে ওই একই পদের একজন মেডিক্যাল অফিসারের কাছে টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিতে আগ্রহীও নেই রোগীদের। ডাক্তার ও নার্সদের দাবী প্রচারনা এবং জনসচেতনতার অভাবে রোগীরা সেবা নিতে আসছেননা।

নকলা উপজেলা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ওয়ালি উল্লাহ বলেন, বৈকালিক সেবাটা বর্তমান সরকারের নতুন পদক্ষেপ। আমাদের হাসপাতালে একটা রোগী সকালে ৫ টাকার টিকেটে দেখাতে পারে। আর এখন বিকেলে ৩০০ টাকা দিয়ে দেখাতে হচ্ছে।

মানুষ এখনও অব্যস্থ হয়ে ওঠেনি যে একই রুমে ৩শ টাকা ভিজিটে দেখাতে হবে। আমার মনে হয় বিকেলেও যে ডাক্তার থাকে এই জিনিসটা বিভিন্ন মাধ্যমে আরও
প্রচার- প্রচারণার দরকার আছে। আমরা ডাক্তাররা এসে বসে আছি কিন্তু রোগী নেই। কারণ মানুষ তো জানেই না। আস্তে আস্তে সময় গেলে প্রচার বাড়বে রোগীও
বাড়বে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: মো: মাহমুদুল হাসান বলেন, বৈকালিক সেবাটা আমাদের দেশের আমজনগনের উপকারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের দিক থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচরণার চালাচ্ছি।

এ সেবার কিছুটা দিন সময় লাগবে জানতে- বুঝতে। তবে মানুষজনের মধ্যে বিষয়টি
জানাজানি হলে তারা সেবা গ্রহণ করতে আসবেন। আশাকরি আশানুরুপ ফলাফল আসবে।

নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা জানান, রোজার দিন এমনিতেই রোগীরা চিকিৎসা কম নিতে আসে। এখনো সবাই জানেন না এ বৈকালিক সেবার কথা। এছাড়া হাসপাতালের সুযোগ- সুবিধা বৃদ্ধিসহ হাসপাতালেই সকল পরীক্ষা-নিরিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর সেইসাথে প্রচার- প্রচারণাও উদ্যোগ
নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি ঈদের পর থেকে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বাড়বে।

ট্যাগস :

শেরপুরে বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসছেনা রোগীরা, ডাক্তারদের দাবী প্রচারনা অভাবেই মানুষ আসছেনা

আপডেট সময় : ০৪:০৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ এপ্রিল ২০২৩

গত বৃহস্পতিবার দেশের কয়েকটি জেলা ও উপজেলার মতো শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালু হয়েছে চিকিৎসকদের বৈকালিক চেম্বার। আর প্রচারনার অভাবে রোগীরা সেবা নিতে আসছে না বলে জানালেন ডাক্তার,কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা। ফলে বিকেলের চেম্বারে চিকিৎসকরা বসে থাকলেও আসছেন না রোগী।

হাসপাতালের তথ্য বলছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ৩জন, বুধবার ৯জনসহ সব মিলিয়ে সাতদিনে বিকেলের চেম্বারে সেবা নিয়েছেন মাত্র ৩২ জন রোগী। হাসপাতাল
কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রচারণার কারণে রোগীর চাপ কম।

দেশের অন্যান্য হাসপাতালের মতো নকলা উপজেলার এই হাসপাতালে চিকিৎসকদের বৈকালিক চেম্বার চালু হয়েছে গত ৩০ মার্চ। এই চেম্বারে ২০০ টাকা থেকে শুরু
করে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ভিজিটে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর সুযোগ রয়েছে।

প্র‍তিদিন থাকছেন একজন মেডিকেল অফিসার। আর অন্যান্য দিন একজন করে গাইনি বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, চর্ম-যৌন বিশেষজ্ঞ আর শিশুও অর্থোপেডিক্স
বিশেষজ্ঞরা রোগী দেখেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নকলা উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে একজন মেডিক্যাল অফিসার, আরেকজন জুনিয়র প্রসুতি ও
গাইনি কনসালট্যান্টকে দেখা গেলেও বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে কোন রোগী নেই।

সারা বিকেল বেলায় মোট তিনজন রোগী এসেছিলো সেবা গ্রহণ করতে। তবে নিচতলায় জরুরী বিভাগে সাধারণ সেবা গ্রহণ করছে মানুষ। সেখান থেকেই ৫ টাকার টিকেটে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেই সন্তুষ্ট রোগীরা। আর তারা জানেইনা বৈকালিক স্বাস্থ্য সেবায় ডাক্তাররা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।

নকলার মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন,আমি আসছিলাম রোগীর সেলাই কাটাতে। জরুরি বিভাগ থেকে সেলাই কাটাইলাম। কিন্তু আমি তো জানি না টাকার বিনিময়ে বৈকালিক সেবা দেওয়া হয়। এইগুলা তো প্রচারও দেখি না।

গনপদ্দীর মোঃ আজাদ মিয়া বলেন, বৈকালিক সেবাটা কি আমি তো কিছুই বুঝতাছি না। সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার টেহায় নেয় না না নেয় আমি কি করে কমু। আমি ৫ টাকা দিয়া সিলিপ কইরা সেবা নিয়া গেলাম। বৈকালিক যে সেবা আছে এইটা আপনার মাধ্যমেই জানলাম।

রোগী না আসায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদেরও বিকেলে সেবা দিতে তেমন আগ্রহী দেখা যায়নি। জরুরী বিভাগে একজন মেডিক্যাল অফিসার চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। সেবা কেন্দ্রে ওই একই পদের একজন মেডিক্যাল অফিসারের কাছে টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিতে আগ্রহীও নেই রোগীদের। ডাক্তার ও নার্সদের দাবী প্রচারনা এবং জনসচেতনতার অভাবে রোগীরা সেবা নিতে আসছেননা।

নকলা উপজেলা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ওয়ালি উল্লাহ বলেন, বৈকালিক সেবাটা বর্তমান সরকারের নতুন পদক্ষেপ। আমাদের হাসপাতালে একটা রোগী সকালে ৫ টাকার টিকেটে দেখাতে পারে। আর এখন বিকেলে ৩০০ টাকা দিয়ে দেখাতে হচ্ছে।

মানুষ এখনও অব্যস্থ হয়ে ওঠেনি যে একই রুমে ৩শ টাকা ভিজিটে দেখাতে হবে। আমার মনে হয় বিকেলেও যে ডাক্তার থাকে এই জিনিসটা বিভিন্ন মাধ্যমে আরও
প্রচার- প্রচারণার দরকার আছে। আমরা ডাক্তাররা এসে বসে আছি কিন্তু রোগী নেই। কারণ মানুষ তো জানেই না। আস্তে আস্তে সময় গেলে প্রচার বাড়বে রোগীও
বাড়বে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: মো: মাহমুদুল হাসান বলেন, বৈকালিক সেবাটা আমাদের দেশের আমজনগনের উপকারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের দিক থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচরণার চালাচ্ছি।

এ সেবার কিছুটা দিন সময় লাগবে জানতে- বুঝতে। তবে মানুষজনের মধ্যে বিষয়টি
জানাজানি হলে তারা সেবা গ্রহণ করতে আসবেন। আশাকরি আশানুরুপ ফলাফল আসবে।

নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা জানান, রোজার দিন এমনিতেই রোগীরা চিকিৎসা কম নিতে আসে। এখনো সবাই জানেন না এ বৈকালিক সেবার কথা। এছাড়া হাসপাতালের সুযোগ- সুবিধা বৃদ্ধিসহ হাসপাতালেই সকল পরীক্ষা-নিরিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর সেইসাথে প্রচার- প্রচারণাও উদ্যোগ
নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি ঈদের পর থেকে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বাড়বে।