ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

“শিশুটি কার?” — ভাইরাল ছবির আড়ালে বাস্তবতার চোখে জল

প্রতিদিনের ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৬:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫ ২২১ বার পঠিত

Oplus_131072

ঢাকার ব্যস্ত আগারগাঁও এলাকায় একদিন হঠাৎ দেখা যায় একটি ব্যতিক্রমী দৃশ্য—মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এক পরিশ্রান্ত নারী, কোলে ফুটফুটে এক সোনালি চুলের শিশুকন্যা। শিশুটির উজ্জ্বল গায়ের রঙ, বাদামি চোখ আর পরিচ্ছন্ন মুখশ্রী দেখে পথচারীদের মনে প্রশ্ন জাগে—”এই বাচ্চা কি সত্যিই ওনার?”
এই সন্দেহ থেকেই একজন পথচারী তুলেছিলেন একটি ছবি, ছড়িয়ে দেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সঙ্গে যুক্ত করেন একটি উসকানিমূলক মন্তব্য—”এই শিশুটি কি আদৌ তার?”
ছবিটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। কমেন্টে কমেনি ব্যঙ্গ, প্রশ্ন কিংবা অবিশ্বাস। কেউ কেউ বললেন শিশুটিকে ‘অপহৃত’, কেউ আবার বললেন ‘ভাড়া করা’।
কিন্তু এই ছবির পেছনে রয়েছে এক নির্মম বাস্তবতা।
শিশুটির নাম ইরা মনি, বয়স মাত্র এক বছর। আর কোলে যিনি ছিলেন, তিনি ইরার জন্মদাত্রী মা। থাকেন মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় এক কক্ষের ছোট্ট বাসায়। ভাড়া মাত্র তিন হাজার টাকা, সেটাও বাকি ছিল সেদিন। সন্তানকে কোলে নিয়েই বের হয়েছিলেন তিনি, কাজের সন্ধান আর কিছু টাকা জোগাড়ের আশায়।
মা জানান, “গর্ভবতী অবস্থায় আমার স্বামী আমাকে ছেড়ে চলে যান। মেয়ের সাত মাস বয়সে একবার ফিরেছিলেন, থেকেছিলেন মাত্র এক মাস। তারপর আর কোনো খোঁজ নেই।”
বাসাবাড়িতে কাজ করেই মেয়েকে বড় করছেন তিনি। কখনো কাজ থাকে, কখনো থাকে না। আর এখন? “বাচ্চা নিয়ে বাইরে গেলে সবাই সন্দেহ করে। মনে হয় যেন অপরাধ করছি… সবাই প্রশ্ন তোলে, ‘এই বাচ্চা কার?’ এমনও দিন গেছে, কোলের মেয়ে নিয়ে না খেয়ে ফিরে এসেছি।”
একটি ছবি, একটি পোস্ট—কখনো কখনো বাস্তবতাকে মিথ্যার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়। অথচ কারও গল্প শুনলে, কারও চোখে তাকালেই বোঝা যায়—ভালোবাসার রঙ কখনো গায়ের রঙে নির্ধারিত হয় না।
এই গল্প শুধুই ইরা মনির আর তার মায়ের নয়, এটি আমাদের সমাজেরও আয়না।
শেষ প্রশ্নটা তাই আমাদেরই: ‘এই শিশুটি কার?’—নাকি এই সমাজের বিবেকটা প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে আছে?

ট্যাগস :

“শিশুটি কার?” — ভাইরাল ছবির আড়ালে বাস্তবতার চোখে জল

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

ঢাকার ব্যস্ত আগারগাঁও এলাকায় একদিন হঠাৎ দেখা যায় একটি ব্যতিক্রমী দৃশ্য—মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এক পরিশ্রান্ত নারী, কোলে ফুটফুটে এক সোনালি চুলের শিশুকন্যা। শিশুটির উজ্জ্বল গায়ের রঙ, বাদামি চোখ আর পরিচ্ছন্ন মুখশ্রী দেখে পথচারীদের মনে প্রশ্ন জাগে—”এই বাচ্চা কি সত্যিই ওনার?”
এই সন্দেহ থেকেই একজন পথচারী তুলেছিলেন একটি ছবি, ছড়িয়ে দেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সঙ্গে যুক্ত করেন একটি উসকানিমূলক মন্তব্য—”এই শিশুটি কি আদৌ তার?”
ছবিটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। কমেন্টে কমেনি ব্যঙ্গ, প্রশ্ন কিংবা অবিশ্বাস। কেউ কেউ বললেন শিশুটিকে ‘অপহৃত’, কেউ আবার বললেন ‘ভাড়া করা’।
কিন্তু এই ছবির পেছনে রয়েছে এক নির্মম বাস্তবতা।
শিশুটির নাম ইরা মনি, বয়স মাত্র এক বছর। আর কোলে যিনি ছিলেন, তিনি ইরার জন্মদাত্রী মা। থাকেন মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় এক কক্ষের ছোট্ট বাসায়। ভাড়া মাত্র তিন হাজার টাকা, সেটাও বাকি ছিল সেদিন। সন্তানকে কোলে নিয়েই বের হয়েছিলেন তিনি, কাজের সন্ধান আর কিছু টাকা জোগাড়ের আশায়।
মা জানান, “গর্ভবতী অবস্থায় আমার স্বামী আমাকে ছেড়ে চলে যান। মেয়ের সাত মাস বয়সে একবার ফিরেছিলেন, থেকেছিলেন মাত্র এক মাস। তারপর আর কোনো খোঁজ নেই।”
বাসাবাড়িতে কাজ করেই মেয়েকে বড় করছেন তিনি। কখনো কাজ থাকে, কখনো থাকে না। আর এখন? “বাচ্চা নিয়ে বাইরে গেলে সবাই সন্দেহ করে। মনে হয় যেন অপরাধ করছি… সবাই প্রশ্ন তোলে, ‘এই বাচ্চা কার?’ এমনও দিন গেছে, কোলের মেয়ে নিয়ে না খেয়ে ফিরে এসেছি।”
একটি ছবি, একটি পোস্ট—কখনো কখনো বাস্তবতাকে মিথ্যার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়। অথচ কারও গল্প শুনলে, কারও চোখে তাকালেই বোঝা যায়—ভালোবাসার রঙ কখনো গায়ের রঙে নির্ধারিত হয় না।
এই গল্প শুধুই ইরা মনির আর তার মায়ের নয়, এটি আমাদের সমাজেরও আয়না।
শেষ প্রশ্নটা তাই আমাদেরই: ‘এই শিশুটি কার?’—নাকি এই সমাজের বিবেকটা প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে আছে?