ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

লিবিয়ায় যুবককে নির্যাতন করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা: ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

শরিফুল হাসান -সালথা(ফরিদপুর):
  • আপডেট সময় : ০১:০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪ ২০১ বার পঠিত

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যুবক শাকিল মিয়াকে (২২) ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার শাকিল (২৮) উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বিভাগদী গ্রামের বাসিন্দা।

শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে সালথা থানায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সালথা থানায় জিম্মি শাকিলের বাবা মো. টুটুল মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন একই গ্রামের লিবিয়াপ্রবাসী মুকুল ঠাকুর, তাঁর স্ত্রী নাসি বেগম, মেয়ে জামাই শাকিল (ছাত্রলীগ নেতা) এবং চার ভাই, আকরাম ঠাকুর, বকুল ঠাকুর, জামান ঠাকুর ও মোকিবুল ঠাকুর। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওসি বলেন, ‘শাকিলকে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনা চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর তাঁর বাবা গতকাল একটি মামলা করেছে। পরে মূল অভিযুক্ত মুকুল ঠাকুরের মেয়ের জামাই শাকিলকে আজ সকালে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।’
ওসি আরও বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি, সে অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি এবং শাকিলকে উদ্ধারের জন্য অতি শিগগিরই আমাদের জোর তৎপরতা শুরু হবে।’

এ নিয়ে ২৪ মার্চ ‘আব্বা আরও ১৫ লাখ টাকা দিতেই হবে, নাইলে মাইর‍্যা ফেলবে—মানব পাচারের শিকার ইতালিগামী যুবকের ফোন’ শিরোনামে দৈনিক জাতীয় কয়েকটি
পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

শাকিলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুকুল ঠাকুরের প্ররোচনায় ১২ লাখ টাকায় লিবিয়া হয়ে ইতালি যেতে চান শাকিল। পরে গত ৪ জানুয়ারি প্রথমে শাকিলকে ভারতে নেওয়া হয়। পরে দুবাই হয়ে ১৪ জানুয়ারি লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছিল। কয়েক দিন স্বাভাবিক কথাবার্তাও চলে। এরপর ১১ মার্চ থেকে তাঁর ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু হয় এবং মুক্তিপণের জন্য আরও ১৫ লাখ টাকা দাবি করছে চক্রটি। প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে টাকার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান। এমনকি মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ সরিয়ে নেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ‘ইতালি পাঠানোর উদ্দেশ্যে শাকিল মিয়াসহ মোট চারজনকে মুকুল ঠাকুর লিবিয়া নেয়। এর মধ্যে তিনজন লিবিয়াতে মুকুল ঠাকুরের বাসায় আছে এবং আমার ছেলে লিবিয়া থেকে ইতালিতে যাওয়ার গেমে লিবিয়া পুলিশের কাছে ধরা পড়ে। পরবর্তীতে লিবিয়া পুলিশ মাফিয়া চক্রের কাছে আমার ছেলে শাকিল মিয়াকে হস্তান্তর করে দেয়। উক্ত মাফিয়া চক্র আমার ছেলের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মুকুলের মাধ্যমেই টাকা চাচ্ছে। বাংলাদেশে থাকা মুকুলের ভাইয়েরা আমার কাছে সেই টাকা সংগ্রহ করে লিবিয়ায় পাঠানোর জন্য বারবার চাপ প্রয়োগ করছে।’

আব্বা আরও ১৫ লাখ টাকা দিতেই হবে, নাইলে মাইর‍্যা ফেলবে—মানবপাচারের শিকার ইতালিগামী যুবকের ফোন।
এজাহারে আরও উল্লেখ রয়েছে, ‘লিবিয়ার মাফিয়ারা আমার সঙ্গে ইমোতে যোগাযোগ করে আমার ছেলে শাকিলকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। অন্যথায় তারা আমার ছেলেকে মারপিটসহ বড় ধরনের ক্ষতি করবে মর্মে হুমকি দেয় এবং দ্রুত টাকা পরিশোধ করার জন্য বারবার চাপ দিচ্ছে।

লিবিয়ায় যুবককে নির্যাতন করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা: ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০১:০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যুবক শাকিল মিয়াকে (২২) ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার শাকিল (২৮) উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের বিভাগদী গ্রামের বাসিন্দা।

শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে সালথা থানায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সালথা থানায় জিম্মি শাকিলের বাবা মো. টুটুল মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন একই গ্রামের লিবিয়াপ্রবাসী মুকুল ঠাকুর, তাঁর স্ত্রী নাসি বেগম, মেয়ে জামাই শাকিল (ছাত্রলীগ নেতা) এবং চার ভাই, আকরাম ঠাকুর, বকুল ঠাকুর, জামান ঠাকুর ও মোকিবুল ঠাকুর। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওসি বলেন, ‘শাকিলকে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনা চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর তাঁর বাবা গতকাল একটি মামলা করেছে। পরে মূল অভিযুক্ত মুকুল ঠাকুরের মেয়ের জামাই শাকিলকে আজ সকালে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।’
ওসি আরও বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি, সে অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি এবং শাকিলকে উদ্ধারের জন্য অতি শিগগিরই আমাদের জোর তৎপরতা শুরু হবে।’

এ নিয়ে ২৪ মার্চ ‘আব্বা আরও ১৫ লাখ টাকা দিতেই হবে, নাইলে মাইর‍্যা ফেলবে—মানব পাচারের শিকার ইতালিগামী যুবকের ফোন’ শিরোনামে দৈনিক জাতীয় কয়েকটি
পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

শাকিলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুকুল ঠাকুরের প্ররোচনায় ১২ লাখ টাকায় লিবিয়া হয়ে ইতালি যেতে চান শাকিল। পরে গত ৪ জানুয়ারি প্রথমে শাকিলকে ভারতে নেওয়া হয়। পরে দুবাই হয়ে ১৪ জানুয়ারি লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছিল। কয়েক দিন স্বাভাবিক কথাবার্তাও চলে। এরপর ১১ মার্চ থেকে তাঁর ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু হয় এবং মুক্তিপণের জন্য আরও ১৫ লাখ টাকা দাবি করছে চক্রটি। প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে টাকার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান। এমনকি মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ সরিয়ে নেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ‘ইতালি পাঠানোর উদ্দেশ্যে শাকিল মিয়াসহ মোট চারজনকে মুকুল ঠাকুর লিবিয়া নেয়। এর মধ্যে তিনজন লিবিয়াতে মুকুল ঠাকুরের বাসায় আছে এবং আমার ছেলে লিবিয়া থেকে ইতালিতে যাওয়ার গেমে লিবিয়া পুলিশের কাছে ধরা পড়ে। পরবর্তীতে লিবিয়া পুলিশ মাফিয়া চক্রের কাছে আমার ছেলে শাকিল মিয়াকে হস্তান্তর করে দেয়। উক্ত মাফিয়া চক্র আমার ছেলের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মুকুলের মাধ্যমেই টাকা চাচ্ছে। বাংলাদেশে থাকা মুকুলের ভাইয়েরা আমার কাছে সেই টাকা সংগ্রহ করে লিবিয়ায় পাঠানোর জন্য বারবার চাপ প্রয়োগ করছে।’

আব্বা আরও ১৫ লাখ টাকা দিতেই হবে, নাইলে মাইর‍্যা ফেলবে—মানবপাচারের শিকার ইতালিগামী যুবকের ফোন।
এজাহারে আরও উল্লেখ রয়েছে, ‘লিবিয়ার মাফিয়ারা আমার সঙ্গে ইমোতে যোগাযোগ করে আমার ছেলে শাকিলকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। অন্যথায় তারা আমার ছেলেকে মারপিটসহ বড় ধরনের ক্ষতি করবে মর্মে হুমকি দেয় এবং দ্রুত টাকা পরিশোধ করার জন্য বারবার চাপ দিচ্ছে।