লাগামহীন দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি, বিপাকে দিশেহারা সাধারণ মানুষ
- আপডেট সময় : ০৮:০১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৩ ১৮২ বার পঠিত

অসাধু ব্যবসায়ী চক্র ও সিন্ডকেটের কারণে দ্রব্য মূল্যের বাজার এখন সাধারণ জনগণের নাগালের বাইরে। অস্থিরতা বিরাজ করছে নিন্ম আয়ের মানুষের মধ্যে।
এ জেনো দেখার কেউ নেই, ভোক্তা অধিকারের কর্তাব্যক্তিরা মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান দিলে তা যেনো কোনো কাজেই আসছে না৷ ফলে লাগামহীন দ্রব্য মূল্য উর্ধ্বগতির ফলে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির নিম্ন আয়ের মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্য মূল্যের দাম বৃদ্ধিতে সাধারন মানুষের মাঝে এখন হতাশা বিরাজ করছে। বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হচ্ছে দ্রব্য মূল্যের উর্ধধগতি। দ্রব্য বা সেবার ক্রমাগত দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। সম্প্রতি চাল, ডাল, তেল, আটা, ডিম, আলু, রসুন, পিয়াজ ও সবজি থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। কোন ভাবেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের লাগাম টানা যাচ্ছে না। এতে করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে চরম দূর্দশা দেখা দিচ্ছ।
শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) বালিয়াকান্দি উপজেলার বাজারসহ আশেপাশের বাজারের খোঁজ নিয়ে ও ক্রেতাদের কাছ থেকে জানা যায় যে, সব দ্রব্য মূল্যের দাম উর্ধ্বমুখী, তবে যতই দিন যাচ্ছে ততোই বাজারে দ্রব্য মূল্যের দাম বাড়ছে বৈ কমছে না। তবে দ্রব্য মূল্যের দাম না কমায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে দরিদ্র শ্রেণির মানুষদের। তবে সিন্ডিকেট ভাঙ্গলে সকল প্রকার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রসহ সকল শাক-সবজি দাম নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলে ধারনা করেন সকল ক্রেতা বিক্রেতারা। বাজার ব্যবস্থাপনা তথ্য সুত্রে থেকে জানা যায়, প্রতিনিয়তই চলে চাল, ডাল, আটা, তৈল, ডিম, আলুসহ সকল প্রকার নিত্য পণ্যের দাম বাড়ছে,
২০২০ সালে সয়াবিন তৈল প্রতি কেজি পাইকারি মূল্য ছিল ৮৮ টাকা, ২০২২ সালে ১১৫ টাকা ও চলতি বছরে সয়াবিনের দাম ১৪৮ টাকা। ২০২১ সালে মোটা মসুর ডালের মূল্য ছিল, প্রতি কেজি ৭০ টাকা, চলতি বছরে ১২০ টাকা। ২০২২ সালে দেশি মসুর ডালের দাম ছিল ৯০ টাকা, চলতি বছরে ১৪০ টাকা। ২০২২ সালে বিদেশি চিনির দাম ছিল ৫৭ টাকা, বর্তমানে ১৪০ টাকা। ২০২২ সালে আটার দাম ছিল ২২ টাকা, বর্তমানে আটার দাম প্রতি কেজি ৪৫ টাকা। ২০২২ সালে ডিম প্রতি হালির দাম ছিল ২৫-৩০ টাকা, বর্তমানে প্রতি হালি ডিমের দাম ৫০-৬০ টাকা। ২০২১-২০২২ সালে জিরার দাম ছিল ৪০০ টাকা, বর্তমানে জিরার দাম ১২০০ টাকা। বালিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় – আলু, টমেটো, লাউ, বেগুন, করলা,পটল, পেঁপে, শসা, গাজর, ফুলকপি, বরবটি, চিচিংগা, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙ্গা, কচুর লতি, ঢেরস,লাউ শাক, পালন শাক, মূলা শাক, কলমী শাক, কচুশাকসহ সব ধরনের সবজির বাজার আকাশ ছোঁয়া থাকলেও বর্তমানে সবজির দাম কিছু টা কমেছে বলে ধারনা করছে ক্রেতারা, যাহা ক্রয় ক্ষমতার বাইরে থাকলেও সাধারণ মানুষের মনে কয়েক দিন গেলে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে বলে ধারনা করছেন। এছাড়া বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. হাফেজ সেখ, মো. হারিজ সেখ, মো. বারেক সেখ বলেন, আমরা বেশি দামে কিনেছি তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। তবে কয়েক দিন গেলে শীত মৌসুমে অনেক সবজি বাজারে উঠলে দাম কমে যাবে, তবে বালিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে মাছের দাম উর্ধ্বগতি, প্রতি কেজি রুই ৩০০-৩৫০ টাকা, মাঝারি রুই-২৫০-২৭০ টাকা। কাতলা-৩০০-৪০০ টাকা। বড় পাঙ্গাশ প্রতি কেজি ২০০-২৫০ টাকা। পাপদা মাছ-৪০০ টাকা। গলদা চিংড়ি আকার ভেদে ৬০০-৭৫০টাকা ও সিং মাছ ৪৫০-৫০০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। বাজার দরের ব্যাপারে অনেকে মনে করেন বর্তমানে ব্যবসা চলে গেছে সিন্ডিকেট ধারিদের হাতে। ওরা শুধু সুযোগের অপেক্ষায় থাকে, কখন দাম বৃদ্ধি করা যায়। সারা দেশের ব্যবসায়িরা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দ্রব্য মূল্যের দাম বৃদ্ধি করছে সাধারণ মানুষ ও তাই মনে করেন।














