ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দোকান ভাড়ার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: তোপের মুখে জেলা কমান্ডার মাহফুজ

আশিকুর রহমান শান্ত, ভোলা:
  • আপডেট সময় : ১০:৩৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ৭৬ বার পঠিত

নিয়ম অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দোকান ভাড়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি পরিচালিত হয় জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, কারো তোয়াক্কা না করেই সেই স্বাক্ষর পরিবর্তন করেছেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাহফুজুর রহমান বাচ্চু। শুধু তাই নয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রুপালী ব্যাংকের মহাজনপট্টি শাখা থেকে তড়িঘড়ি করে তুলে নেয়া হয়েছে এক লক্ষ টাকা।

রূপালী ব্যাংক মহাজনপট্টি শাখার ব্যবস্থাপক জহির উদ্দিন বলেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাহফুজুর রহমান এসে সিকিউরিটি চেইঞ্জ করে ১ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন।

এই অনিয়মের বিষয়ে অভিযুক্ত জেলা কমান্ডারের কাছে জানতে চাইলে তিনি মেজাজ হারান এবং সাংবাদিকদের হুমকি প্রদান করেন। একইসাথে তিনি নিজেকে এই অ্যাকাউন্টের মালিক দাবি করেন। তিনি বলেন, এই অ্যাকাউন্টের মালিক জেলা প্রশাসক নয়, এটির মালিক আমি। অহেতুক নিউজ প্রচার করলে ঝামেলায় পড়বেন।”

এদিকে এই অনৈতিক অর্থ উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন আরেক মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান। তার দাবি, সংগঠনের কাজেই এই টাকা ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন আমরা এই টাকা উত্তোলন করে ঢাকা মিছিল-মিটিংয়ে খরচ করছি।

পুরো বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানিয়েছেন, স্বাক্ষর পরিবর্তনের বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে এবং এর পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আমার অজান্তেই স্বাক্ষরটি পরিবর্তন করা হয়েছে। ব্যাংক ম্যানেজার ও সমাজসেবা কর্মকর্তাদের ডেকেছি। টাকা গুলো কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা বর্তমানে ঢাকায় আছেন, ফিরে আসলে তাদের ব্যাখ্যা জানবো।

সরকারি ফান্ডের অর্থ উত্তোলনে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ এখন জেলাজুড়ে আলোচনার বিষয়। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এই নিয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলে লিখিতো অভিযোগ দিয়েছেন ভোলা জেলা কমান্ড ইউনিটের সদস্য সচিব কেফায়েত উল্ল্যা নজির।

ট্যাগস :

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দোকান ভাড়ার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: তোপের মুখে জেলা কমান্ডার মাহফুজ

আপডেট সময় : ১০:৩৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

নিয়ম অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দোকান ভাড়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি পরিচালিত হয় জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, কারো তোয়াক্কা না করেই সেই স্বাক্ষর পরিবর্তন করেছেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাহফুজুর রহমান বাচ্চু। শুধু তাই নয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রুপালী ব্যাংকের মহাজনপট্টি শাখা থেকে তড়িঘড়ি করে তুলে নেয়া হয়েছে এক লক্ষ টাকা।

রূপালী ব্যাংক মহাজনপট্টি শাখার ব্যবস্থাপক জহির উদ্দিন বলেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাহফুজুর রহমান এসে সিকিউরিটি চেইঞ্জ করে ১ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন।

এই অনিয়মের বিষয়ে অভিযুক্ত জেলা কমান্ডারের কাছে জানতে চাইলে তিনি মেজাজ হারান এবং সাংবাদিকদের হুমকি প্রদান করেন। একইসাথে তিনি নিজেকে এই অ্যাকাউন্টের মালিক দাবি করেন। তিনি বলেন, এই অ্যাকাউন্টের মালিক জেলা প্রশাসক নয়, এটির মালিক আমি। অহেতুক নিউজ প্রচার করলে ঝামেলায় পড়বেন।”

এদিকে এই অনৈতিক অর্থ উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন আরেক মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান। তার দাবি, সংগঠনের কাজেই এই টাকা ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন আমরা এই টাকা উত্তোলন করে ঢাকা মিছিল-মিটিংয়ে খরচ করছি।

পুরো বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানিয়েছেন, স্বাক্ষর পরিবর্তনের বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে এবং এর পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আমার অজান্তেই স্বাক্ষরটি পরিবর্তন করা হয়েছে। ব্যাংক ম্যানেজার ও সমাজসেবা কর্মকর্তাদের ডেকেছি। টাকা গুলো কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা বর্তমানে ঢাকায় আছেন, ফিরে আসলে তাদের ব্যাখ্যা জানবো।

সরকারি ফান্ডের অর্থ উত্তোলনে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ এখন জেলাজুড়ে আলোচনার বিষয়। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এই নিয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলে লিখিতো অভিযোগ দিয়েছেন ভোলা জেলা কমান্ড ইউনিটের সদস্য সচিব কেফায়েত উল্ল্যা নজির।