ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পুরো একটি গ্রাম

মোঃ শাহাদাত হোসাইন,শরণখোলা (বাগেরহাট):
  • আপডেট সময় : ০১:০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫ ১৮৭ বার পঠিত

প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়ন এর সুন্দরবন ঘেষা বগী গ্রামটি ধীরে ধীরে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

ভৌগোলিকভাবে বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী হওয়ায় ইতোমধ্যেই বগী গ্রামের তিন ভাগের দুই ভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বলেশ্বর নদী গ্রাস করে নিয়েছে গ্রামটির মানুষের ভিটেমাটি ও শেষ সম্বলটুকুও।

একসময় সাউথখালী ইউনিয়ন এর অন্যতম একটি বড় গ্রাম হিসেবে থাকলেও বর্তমানে এটি রুপ নিয়েছে সাউথখালী ইউনিয়ন এর সবচেয়ে ছোট গ্রামে।

ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে ওই গ্রামের জনসংখ্যাও। বাস্তুহারা হয়ে কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন পার্শ্ববর্তী গ্রামে৷ আবার অনেকেই বেড়িবাঁধের উপরে ছোট ঘর বানিয়ে যাযাবর জীবনযাপন করছেন।

একসময় যাদের বাড়ী এবং ফসলি জমি ছিল, তারা এখন কোনোভাবে বসতি স্থাপন করেছেন রাস্তা কিংবা বেড়িবাঁধের মতো জায়গায়। প্রতিনিয়তই ভাঙ্গনের কবলে পড়ছে এলাকাটি। ওই এলাকার মানুষগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে। প্রতিবছর ভাঙ্গন দেখা দিচ্ছে এলাকাটিতে।
২০২৩ সালে বগী সাতঘর সংলগ্ন এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা মুহুর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে পানিউন্নয়ন বোর্ড নদীশাসন ব্যবস্থা করলেও বাস্তবে তা সম্পুর্নরুপে কার্যকর হয়নি। সম্প্রতি বগী গ্রামের তেরাবেকা নামক এলাকায় থাকা রিং বেড়িবাধটি ভেঙ্গে গেলে নদীর পানি মুহুর্তেই ঢুকে পড়ে এলাকাটিতে প্লাবিত হয় কৃষি জমি ও মানুষের ঘরবাড়ি।

এলাকাবাসীদের মতে, বহুবছর ধরেই ভাঙ্গন কবলিত অবস্থায় আছে এলাকাটি। পর্যাপ্ত নদীশাান ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় প্রতিনিয়ত তারা তাদের জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এখনই যদি যথাযথ উদ্যোগ গ্রহনের মাধ্যমে নদীশাসন ব্যবস্থা কার্যকর না করা হয় তাহলে কয়েক বছরের মধ্যেই বগী গ্রামটি বলেশ্বর নদীতে বিলীয় হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুদীপ্ত কুমার সিংহ বলেন, বিভিন্ন সময়ে ওই এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের নিয়ে নদীশাসন ব্যবস্থার জন্য কাজ করছেন। এবছর ভাঙ্গন দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিভিন্ন এনজিও এর সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে কিভাবে নদীশাসন ব্যবস্থা কার্যকর করে ভাঙ্গন রোধ করা যায় সেই লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে।

মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পুরো একটি গ্রাম

আপডেট সময় : ০১:০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫

প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়ন এর সুন্দরবন ঘেষা বগী গ্রামটি ধীরে ধীরে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

ভৌগোলিকভাবে বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী হওয়ায় ইতোমধ্যেই বগী গ্রামের তিন ভাগের দুই ভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বলেশ্বর নদী গ্রাস করে নিয়েছে গ্রামটির মানুষের ভিটেমাটি ও শেষ সম্বলটুকুও।

একসময় সাউথখালী ইউনিয়ন এর অন্যতম একটি বড় গ্রাম হিসেবে থাকলেও বর্তমানে এটি রুপ নিয়েছে সাউথখালী ইউনিয়ন এর সবচেয়ে ছোট গ্রামে।

ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে ওই গ্রামের জনসংখ্যাও। বাস্তুহারা হয়ে কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন পার্শ্ববর্তী গ্রামে৷ আবার অনেকেই বেড়িবাঁধের উপরে ছোট ঘর বানিয়ে যাযাবর জীবনযাপন করছেন।

একসময় যাদের বাড়ী এবং ফসলি জমি ছিল, তারা এখন কোনোভাবে বসতি স্থাপন করেছেন রাস্তা কিংবা বেড়িবাঁধের মতো জায়গায়। প্রতিনিয়তই ভাঙ্গনের কবলে পড়ছে এলাকাটি। ওই এলাকার মানুষগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে। প্রতিবছর ভাঙ্গন দেখা দিচ্ছে এলাকাটিতে।
২০২৩ সালে বগী সাতঘর সংলগ্ন এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা মুহুর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে পানিউন্নয়ন বোর্ড নদীশাসন ব্যবস্থা করলেও বাস্তবে তা সম্পুর্নরুপে কার্যকর হয়নি। সম্প্রতি বগী গ্রামের তেরাবেকা নামক এলাকায় থাকা রিং বেড়িবাধটি ভেঙ্গে গেলে নদীর পানি মুহুর্তেই ঢুকে পড়ে এলাকাটিতে প্লাবিত হয় কৃষি জমি ও মানুষের ঘরবাড়ি।

এলাকাবাসীদের মতে, বহুবছর ধরেই ভাঙ্গন কবলিত অবস্থায় আছে এলাকাটি। পর্যাপ্ত নদীশাান ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় প্রতিনিয়ত তারা তাদের জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এখনই যদি যথাযথ উদ্যোগ গ্রহনের মাধ্যমে নদীশাসন ব্যবস্থা কার্যকর না করা হয় তাহলে কয়েক বছরের মধ্যেই বগী গ্রামটি বলেশ্বর নদীতে বিলীয় হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুদীপ্ত কুমার সিংহ বলেন, বিভিন্ন সময়ে ওই এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের নিয়ে নদীশাসন ব্যবস্থার জন্য কাজ করছেন। এবছর ভাঙ্গন দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিভিন্ন এনজিও এর সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে কিভাবে নদীশাসন ব্যবস্থা কার্যকর করে ভাঙ্গন রোধ করা যায় সেই লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে।