ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

ভোলায় শিশু নিউমোনিয়ার প্রকোপ চাপ সামলাতে হিমসিম সদর হাসপাতাল

আশিকুর রহমান শান্ত-ভোলা:
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অক্টোবর ২০২৩ ৩৫৮ বার পঠিত

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ আর দিনে গরম রাতে শীত অনুভূত হওয়ায় উপকূলীয় জেলা ভোলায় বেড়েছে শিশুদের নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। এতে রোগীদের চাপ বেড়েছে ভোলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে। চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও ডাক্তাররা।

বর্তমানে এ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দুই শতাধিক, যাদের মধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্ত দেড় শতাধিক। হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট, চিকিৎসা নিতে মেঝেতেও ঠাঁই মিলছেনা রুগীদের, এতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগীর স্বজনরা।

ভোলা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, বেডগুলোতে গড়ে দুই থেকে তিনজন করে রোগী অন্যদিকে মেঝেতে তিল ধারনের ঠাঁই নেই। শিশু ওয়ার্ড চত্বর, সিঁড়ি ও লিফটসহ পুরো চত্বর জুড়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। যেখানে ফাঁকা পাচ্ছেন সেখানেই বিছানা পেতে সেবা নিচ্ছেন। তবে রোগীদের অভিযোগ, বেড না থাকায় এভাবে গাদাগাদি করে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাদের। এর মধ্যে আবার প্রয়োজনীয় সংখ্যক নেই নার্স। ৮৯ জন নার্সের মধ্যে অর্ধশতাধিক নার্সের পদ শূন্য থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছে না রুগীরা।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন মোহাম্মদ আলী, বকুল বেগম ও আরিফ সহ একাধিক অভিভাবক জানান, হঠাৎ করেই এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের নিয়ে চিন্তায় পরেছে তারা। রোগীকে চিকিৎসা করাতে এসেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বেডে তো জায়গা হচ্ছেই না, মেঝেতেও গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তার উপর হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতা ও ভোটকা দুর্গন্ধে বিষিয়ে উঠেছে পরিবেশ।

জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ডের একটি বেডে গড়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিন থেকে চারজন রোগী। গত এক সপ্তাহে পুরো জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪ শতাধিক। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর।

ভোলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তায়েবুর রহমার জানান, টানা বৃষ্টি, দিনের গরম এবং রাতে ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় আবহাওয়ার পরিবর্তন কারণে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। তবে রোগীর চাপ বেশি থাকলেও আমরা প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

ভোলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে, গত এক মাসে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দেড় হাজারের অধিক। এক সপ্তাহে আক্রান্ত ৪০০ জন। মৃত্যু হয়েছে একজনের।

তারা জানান, ভোলার জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ২২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিল, যাদের মধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্ত ১৭৫ জন।

এ হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সের অর্ধশতাধিক পদ শূন্য থাকায় রোগী সামাল দেওয়া কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্টদের। তবে, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ অবস্থার উন্নতি হবে।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, সংক্রমণ রোধে শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের আরও বেশী যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।

ট্যাগস :

ভোলায় শিশু নিউমোনিয়ার প্রকোপ চাপ সামলাতে হিমসিম সদর হাসপাতাল

আপডেট সময় : ০৯:০০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অক্টোবর ২০২৩

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ আর দিনে গরম রাতে শীত অনুভূত হওয়ায় উপকূলীয় জেলা ভোলায় বেড়েছে শিশুদের নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। এতে রোগীদের চাপ বেড়েছে ভোলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে। চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও ডাক্তাররা।

বর্তমানে এ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দুই শতাধিক, যাদের মধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্ত দেড় শতাধিক। হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট, চিকিৎসা নিতে মেঝেতেও ঠাঁই মিলছেনা রুগীদের, এতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগীর স্বজনরা।

ভোলা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, বেডগুলোতে গড়ে দুই থেকে তিনজন করে রোগী অন্যদিকে মেঝেতে তিল ধারনের ঠাঁই নেই। শিশু ওয়ার্ড চত্বর, সিঁড়ি ও লিফটসহ পুরো চত্বর জুড়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। যেখানে ফাঁকা পাচ্ছেন সেখানেই বিছানা পেতে সেবা নিচ্ছেন। তবে রোগীদের অভিযোগ, বেড না থাকায় এভাবে গাদাগাদি করে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাদের। এর মধ্যে আবার প্রয়োজনীয় সংখ্যক নেই নার্স। ৮৯ জন নার্সের মধ্যে অর্ধশতাধিক নার্সের পদ শূন্য থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছে না রুগীরা।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন মোহাম্মদ আলী, বকুল বেগম ও আরিফ সহ একাধিক অভিভাবক জানান, হঠাৎ করেই এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের নিয়ে চিন্তায় পরেছে তারা। রোগীকে চিকিৎসা করাতে এসেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বেডে তো জায়গা হচ্ছেই না, মেঝেতেও গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তার উপর হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতা ও ভোটকা দুর্গন্ধে বিষিয়ে উঠেছে পরিবেশ।

জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ডের একটি বেডে গড়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিন থেকে চারজন রোগী। গত এক সপ্তাহে পুরো জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪ শতাধিক। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর।

ভোলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তায়েবুর রহমার জানান, টানা বৃষ্টি, দিনের গরম এবং রাতে ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় আবহাওয়ার পরিবর্তন কারণে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। তবে রোগীর চাপ বেশি থাকলেও আমরা প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

ভোলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে, গত এক মাসে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দেড় হাজারের অধিক। এক সপ্তাহে আক্রান্ত ৪০০ জন। মৃত্যু হয়েছে একজনের।

তারা জানান, ভোলার জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ২২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিল, যাদের মধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্ত ১৭৫ জন।

এ হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সের অর্ধশতাধিক পদ শূন্য থাকায় রোগী সামাল দেওয়া কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্টদের। তবে, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ অবস্থার উন্নতি হবে।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, সংক্রমণ রোধে শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের আরও বেশী যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।