ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

বৈঠার ছন্দে মুখর সালথা, নৌকা বাইচে মাতল হাজারো মানুষ

শরিফুল হাসান,সালথা (ফরিদপুর):
  • আপডেট সময় : ১১:৪০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৫১ বার পঠিত

বিলের পানিতে তখন ছুটে চলছে একের পর এক নৌকা। মাঝিদের হাতে দ্রুত উঠানামা করছে বৈঠা। কার নৌকা আগে পৌঁছাবে এ নিয়ে চলছে টানটান উত্তেজনা। আর বিলের দুইপাড় থেকে করতালি ও হর্ষধ্বনিতে উৎসাহ দিচ্ছেন হাজারো দর্শক। দীর্ঘদিন পর এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের দেখা মিলেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের আষাঢ়ের বিলে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয় গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে ঘিরে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়। নৌকা বাইচের পাশাপাশি বিলের পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলা। ফলে সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের আনাগোনা শুরু হয়।

আয়োজকরা জানান, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ে কয়েকটি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। নৌকাগুলো পানিতে নামার পরপরই শুরু হয় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মাঝিদের সম্মিলিত বৈঠার আঘাতে নৌকাগুলো দ্রুতগতিতে ছুটে যায় সামনের দিকে। প্রতিযোগিতার গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের মধ্যেও তৈরি হয় উত্তেজনা। কেউ মোবাইল ফোনে মুহূর্তগুলো ধারণ করেন, আবার কেউ করতালি ও হর্ষধ্বনিতে প্রিয় নৌকার মাঝিদের উৎসাহ দেন।

বিলের পাড়ে ছিল উৎসবের আরেক আয়োজন। নৌকা বাইচ উপলক্ষে বসানো গ্রামীণ মেলায় দোকানিরা সাজিয়ে বসেন বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও খাবারের দোকান। ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা সামগ্রী। শিশুদের জন্যও ছিল বিনোদনের ব্যবস্থা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেলায় আসা মানুষের ভিড়েও মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন, শরিফুল হাসান, লাবলু ও সাইফুল ইসলাম মারুফ বলেন, নৌকা বাইচ গ্রামবাংলার বহু পুরোনো ঐতিহ্যের অংশ। একসময় বর্ষাকালে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত এমন আয়োজন হলেও বর্তমানে নানা কারণে তা কমে গেছে। এ ধরনের আয়োজন হলে একদিকে মানুষ আনন্দ পায়, অন্যদিকে নতুন প্রজন্ম দেশের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন বলেন, খাল-বিলে আগের মতো পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ আয়োজন দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক জায়গায় এ আয়োজন প্রায় হারিয়ে গেছে। তবে খোয়াড় গ্রামের এ আয়োজন ব্যতিক্রম। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো রয়েছে।

বিশেষ অতিথি সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান বলেন, বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের স্লোগান এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে আষাঢ়ের বিল যেন ফিরে পেয়েছিল তার পুরোনো রূপ। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, জেলা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. জাহিদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ,
আটঘর ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ মুরাদুর রহমান,বিএনপি নেতা ডাঃ কামরুল মিয়া প্রমূখ। নৗকা বাইচ শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

বৈঠার ছন্দে মুখর সালথা, নৌকা বাইচে মাতল হাজারো মানুষ

আপডেট সময় : ১১:৪০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

বিলের পানিতে তখন ছুটে চলছে একের পর এক নৌকা। মাঝিদের হাতে দ্রুত উঠানামা করছে বৈঠা। কার নৌকা আগে পৌঁছাবে এ নিয়ে চলছে টানটান উত্তেজনা। আর বিলের দুইপাড় থেকে করতালি ও হর্ষধ্বনিতে উৎসাহ দিচ্ছেন হাজারো দর্শক। দীর্ঘদিন পর এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের দেখা মিলেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের আষাঢ়ের বিলে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয় গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে ঘিরে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়। নৌকা বাইচের পাশাপাশি বিলের পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলা। ফলে সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের আনাগোনা শুরু হয়।

আয়োজকরা জানান, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ে কয়েকটি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। নৌকাগুলো পানিতে নামার পরপরই শুরু হয় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। মাঝিদের সম্মিলিত বৈঠার আঘাতে নৌকাগুলো দ্রুতগতিতে ছুটে যায় সামনের দিকে। প্রতিযোগিতার গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের মধ্যেও তৈরি হয় উত্তেজনা। কেউ মোবাইল ফোনে মুহূর্তগুলো ধারণ করেন, আবার কেউ করতালি ও হর্ষধ্বনিতে প্রিয় নৌকার মাঝিদের উৎসাহ দেন।

বিলের পাড়ে ছিল উৎসবের আরেক আয়োজন। নৌকা বাইচ উপলক্ষে বসানো গ্রামীণ মেলায় দোকানিরা সাজিয়ে বসেন বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও খাবারের দোকান। ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা সামগ্রী। শিশুদের জন্যও ছিল বিনোদনের ব্যবস্থা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেলায় আসা মানুষের ভিড়েও মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন, শরিফুল হাসান, লাবলু ও সাইফুল ইসলাম মারুফ বলেন, নৌকা বাইচ গ্রামবাংলার বহু পুরোনো ঐতিহ্যের অংশ। একসময় বর্ষাকালে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত এমন আয়োজন হলেও বর্তমানে নানা কারণে তা কমে গেছে। এ ধরনের আয়োজন হলে একদিকে মানুষ আনন্দ পায়, অন্যদিকে নতুন প্রজন্ম দেশের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন বলেন, খাল-বিলে আগের মতো পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ আয়োজন দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক জায়গায় এ আয়োজন প্রায় হারিয়ে গেছে। তবে খোয়াড় গ্রামের এ আয়োজন ব্যতিক্রম। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো রয়েছে।

বিশেষ অতিথি সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান বলেন, বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের স্লোগান এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে আষাঢ়ের বিল যেন ফিরে পেয়েছিল তার পুরোনো রূপ। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, জেলা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. জাহিদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ,
আটঘর ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ মুরাদুর রহমান,বিএনপি নেতা ডাঃ কামরুল মিয়া প্রমূখ। নৗকা বাইচ শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।