ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

বি এম স্কুলের কোচিং বানিজ্যের টাকায় প্রধান শিক্ষকের কোটি টাকার বাড়ি

সুজন মাহমুদ,যশোর:
  • আপডেট সময় : ০৭:০৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৮২ বার পঠিত

যশোরের ঝিকরগাছা বদরুদ্দীন মুসলিম (বি এম) হাইস্কুলের কোচিং বানিজ্যের টাকা জোগাতে অভিভাবকেরা হিমশিম খেলেও সেই টাকায় বিলাসী জীবন যাপন করছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ।

মাত্র ৩৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে তিনি ঝিকরগাছা পৌর সদরের উপজেলা মোড়ে যশোর বেনাপোল মহাসড়ক সংলগ্ন জায়গায় কোটি টাকা খরচ করে জমি কিনে ৪ তলা বাড়ি করেছেন।

বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায় প্রতি মাসে সরকারি বেতন বাদে শুধু কোচিং থেকেই লক্ষাধিক টাকা, কমিটির বেতনের নামে ৩০ হাজার টাকা, কন্টিজেন্সি বাবদ ৫ হাজার টাকা স্কুল থেকে নিচ্ছেন।

এছাড়াও বিভিন্ন ইস্যুতে খরচের অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা কাজ না করেই তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে।

জামাত ইসলামের কট্টরপন্থী সমর্থক, সাবেক চারদলীয় জামায়াতের এমপি মুহাদ্দিস আবু সাইদের ঘনিষ্ঠজন, চরম আওয়ামী বিদ্বেষী এই প্রধান শিক্ষক সুযোগ পেলেই সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করে বক্তব্য দেন।

বি এম স্কুলে তার কোচিং বানিজ্যের মুল সহযোগী হিসেবে আছেন ভাইপো বেনজির রহমান এবং বর্তমান স্ত্রীর ছোট বোন তাহমিনা খাতুন। ভাইপো বেনজিরের কাছে যে সমস্ত শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়ে, স্কুলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষক কথা বলতে পারেন না।

সম্প্রতি ইভটিজিং এর বলি হওয়া ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনি রায়কে যারা হেনস্তা করেছিলো তারা বেনজির এর ছাত্র। এ সকল ছাত্রদের কোনো শিক্ষক শাসন করতে গেলে বেনজির তার চাচা প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদকে দিয়ে উক্ত শিক্ষককে শায়েস্তা করান। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অশোভন আচরণ দেখলেও কিছু বলতে পারেন না।

অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকের তৃতীয় পক্ষের আপন শ্যালিকা তহমিনা খাতুন পূর্বে তার স্বামীর সাথে থাকলেও গত ডিসেম্বরে তাকে স্বামীর কাছ থেকে নিজ বাড়িতে এনে রেখে স্কুলে খন্ড কালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তাকে দিয়ে কোচিং এবং অন্য শিক্ষকদের উপর খবরদারী করাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন উক্ত স্কুলেরই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকবৃন্দ। স্কুলে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ইংরেজি শিক্ষিকা থাকলেও তাকে বাদ দিয়ে ৭ম শ্রেণির বি২ গ্রুপের শ্রেণি শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছেন কোনোরকম পেশাদারি প্রশিক্ষণ ছাড়াই আপন শালী তাহমিনা খাতুনকে। প্রথমে শ্যালিকাকে অফিস সহায়ক হিসেবে নিয়োগ দিতে ব্যার্থ হয়ে পরবর্তীতে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ।

বি এম স্কুলের কোচিং বানিজ্যের টাকায় প্রধান শিক্ষকের কোটি টাকার বাড়ি

আপডেট সময় : ০৭:০৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩

যশোরের ঝিকরগাছা বদরুদ্দীন মুসলিম (বি এম) হাইস্কুলের কোচিং বানিজ্যের টাকা জোগাতে অভিভাবকেরা হিমশিম খেলেও সেই টাকায় বিলাসী জীবন যাপন করছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ।

মাত্র ৩৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে তিনি ঝিকরগাছা পৌর সদরের উপজেলা মোড়ে যশোর বেনাপোল মহাসড়ক সংলগ্ন জায়গায় কোটি টাকা খরচ করে জমি কিনে ৪ তলা বাড়ি করেছেন।

বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায় প্রতি মাসে সরকারি বেতন বাদে শুধু কোচিং থেকেই লক্ষাধিক টাকা, কমিটির বেতনের নামে ৩০ হাজার টাকা, কন্টিজেন্সি বাবদ ৫ হাজার টাকা স্কুল থেকে নিচ্ছেন।

এছাড়াও বিভিন্ন ইস্যুতে খরচের অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা কাজ না করেই তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে।

জামাত ইসলামের কট্টরপন্থী সমর্থক, সাবেক চারদলীয় জামায়াতের এমপি মুহাদ্দিস আবু সাইদের ঘনিষ্ঠজন, চরম আওয়ামী বিদ্বেষী এই প্রধান শিক্ষক সুযোগ পেলেই সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করে বক্তব্য দেন।

বি এম স্কুলে তার কোচিং বানিজ্যের মুল সহযোগী হিসেবে আছেন ভাইপো বেনজির রহমান এবং বর্তমান স্ত্রীর ছোট বোন তাহমিনা খাতুন। ভাইপো বেনজিরের কাছে যে সমস্ত শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়ে, স্কুলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষক কথা বলতে পারেন না।

সম্প্রতি ইভটিজিং এর বলি হওয়া ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনি রায়কে যারা হেনস্তা করেছিলো তারা বেনজির এর ছাত্র। এ সকল ছাত্রদের কোনো শিক্ষক শাসন করতে গেলে বেনজির তার চাচা প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদকে দিয়ে উক্ত শিক্ষককে শায়েস্তা করান। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অশোভন আচরণ দেখলেও কিছু বলতে পারেন না।

অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকের তৃতীয় পক্ষের আপন শ্যালিকা তহমিনা খাতুন পূর্বে তার স্বামীর সাথে থাকলেও গত ডিসেম্বরে তাকে স্বামীর কাছ থেকে নিজ বাড়িতে এনে রেখে স্কুলে খন্ড কালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তাকে দিয়ে কোচিং এবং অন্য শিক্ষকদের উপর খবরদারী করাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন উক্ত স্কুলেরই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকবৃন্দ। স্কুলে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ইংরেজি শিক্ষিকা থাকলেও তাকে বাদ দিয়ে ৭ম শ্রেণির বি২ গ্রুপের শ্রেণি শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছেন কোনোরকম পেশাদারি প্রশিক্ষণ ছাড়াই আপন শালী তাহমিনা খাতুনকে। প্রথমে শ্যালিকাকে অফিস সহায়ক হিসেবে নিয়োগ দিতে ব্যার্থ হয়ে পরবর্তীতে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ।