বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য পিসি রায়ের জন্মভিটা অবহেলায় ধ্বংসের পথে
- আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫ ২০৯ বার পঠিত

অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বাঙালির গর্ব, বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জন্মভিটা। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক এই বাড়িটি আজ প্রায় ভুতুড়ে রূপ নিয়েছে। ভাঙা দেয়াল, ঝরে পড়া ছাদ, ঘুণে ধরা কাঠ আর চারদিকে ছড়ানো ময়লা—সব মিলিয়ে ভবনটি হারিয়ে যেতে বসেছে ইতিহাসের পাতা থেকে।
১৮৬১ সালের ২ আগস্ট এই বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেন আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তার পিতা হরিশচন্দ্র রায় ছিলেন একজন জ্ঞানপিপাসু পণ্ডিত এবং বহু ভাষায় দক্ষ। জানা যায়, ১৮৫০ সালে তিনি নিজ হাতে নির্মাণ করেন এই ভবনটি, যা সদর মহল ও অন্দর মহল—দুই ভাগে বিভক্ত। সময়ের ব্যবধানে সদর মহলের কিছু অংশে সংস্কার হলেও অন্দর মহলটি এখনও পড়ে আছে পুরোপুরি অবহেলায়।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর বাড়িটিতে বখাটেদের আনাগোনা বেড়ে যায়, যা উদ্বেগজনক। যদিও নিরাপত্তা প্রহরী আছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়। বাড়িটিকে ঘিরে রয়েছে পিসি রায়ের বাবা-মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও, যা এখনও চালু রয়েছে।
আচার্য পিসি রায় ছিলেন উপমহাদেশের প্রথম বাঙালি, যিনি গিলক্রাইস্ট বৃত্তি পেয়ে ইংল্যান্ডের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ১৮৯২ সালে তিনি নিজ অর্থে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস’। তার আবিষ্কৃত রাসায়নিক উপাদান ‘মারকিউরাস নাইট্রাইট’ ১৮৯৬ সালে বৈজ্ঞানিক বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
স্থানীয় বাসিন্দা অমিত দেবনাথ বলেন, “পিসি রায়ের স্মৃতিকে ঘিরে কিছু করা হলে এটি পাইকগাছাবাসীর জন্য গর্বের বিষয় হবে।” দর্শনার্থীরাও মনে করেন, ভবনটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করলে এটি একটি ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও দেবে ইতিবাচক প্রভাব।
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন জানিয়েছেন, এই স্থাপনাটি বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে এবং এটিকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সচেতন মহল ও স্থানীয়দের দাবি—এই স্মৃতিবিজড়িত ভবনটি অবিলম্বে সংস্কার ও সংরক্ষণ করে সেখানে একটি জাদুঘর, গবেষণাগার এবং পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। এতে একদিকে যেমন নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে এক মহান বিজ্ঞানীর জীবনী, অন্যদিকে সরকারও পাবে রাজস্ব আয়ের সুযোগ। এখন প্রয়োজন দ্রুত পদক্ষেপ ও কার্যকর উদ্যোগ।




















