বাগেরহাটের ছাত্রনেতা মামুন: মানবিকতার বাতিঘর, পরিবর্তনের অঙ্গীকার
- আপডেট সময় : ০৪:৪৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫ ৪৬১ বার পঠিত

বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, মামুন। শুধু একজন ছাত্রনেতাই নন, তিনি একাধারে অসহায় মানুষের বন্ধু, পরিবেশের রক্ষক এবং তারুণ্যের প্রতীক। স্কুলজীবন থেকে রাজনীতির সাথে যুক্ত এই তরুণ নেতা ২০১১ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছেন। বিগত সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে ছিলেন নির্ভীক সৈনিক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন আন্দোলনের বার্তা,উদ্বুদ্ধ করেছেন সাধারণ মানুষকে।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আহ্বান ছাত্রদল নেতা শেখ আল মামুনের, একজন ভালো পিতা যেমন পারেন একটা আদর্শ পরিবার গড়ে তুলতে, তেমনি একজন সৎ, নির্ভীক রাষ্ট্রনেতা পারেন তার দেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে। তিনিই পারেন একটি অনুন্নত, দরিদ্র সমাজকে আর্থিক ও সামাজিক উন্নতির উচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে। আধুনিক গণতান্ত্রিক সমাজে যে কেউ তার যোগ্যতা, ত্যাগ আর দেশপ্রেম দিয়ে একজন সাধারণ মানুষ থেকে মহান রাষ্ট্রনায়ক হয়ে উঠতে পারেন।
গত জুলাই-২৪ এর আন্দোলন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে সাধারণ মানুষের অসাধারণ আচরণগুলো কিভাবে জালিম, ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থাকে উৎখাত করতে পারে। অন্যায়, জুলুম, অত্যাচারের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতা ঠিক একইভাবে দাঁড়িয়েছিল ১৯৭১ সালে। তখনও পরাজিত হতে বাধ্য হয়েছিল পাকিস্তানি জঙ্গীরা। কিন্তু আমরা দেশটাকে গঠন করতে পারিনি যোগ্য, দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের অভাবে। চোর, বাটপারগুলো লুটে নিয়েছে জনগণের সর্বস্ব।
জুলাই-২৪ পরবর্তী বাংলাদেশ যেন আবার বেহাত না হয়, জনগণের স্বপ্ন ভঙ্গ না হয়, আর কোনদিন যেন এ রাষ্ট্র ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজন যোগ্য, শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সকল ছাত্রদের মধ্য থেকে এমন নেতৃত্বই তৈরি করতে চায়, যাদের হাতে থাকবে আগামীর বাংলাদেশ। যাদের চোখে থাকবে বৈষম্যহীন ’৭১-এর স্বপ্ন – সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফ ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।
মানবিকতার স্পর্শ: গভীর রাতে শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া, তরুণদের সাথে সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া, রক্তদান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন – বাগেরহাটে ছাত্রনেতা মামুনের এমন মানবিক কার্যক্রম জেলার সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিএনপির উচ্চপদস্থ নেতারাও তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, মাদকমুক্ত, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাগেরহাট গড়তে মামুনের মতো তরুণ যুবকদের এগিয়ে আসা অপরিহার্য।
পরিবর্তনের স্বপ্ন: বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে বাগেরহাটের উন্নয়ন থমকে গেছে, উন্নয়নের নামে হয়েছে লুটপাট। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব অপরিহার্য। বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আগামীতে দেশরত্ন তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলা হবে এবং দুর্নীতিবাজদের বিচার করা হবে। তিনি মনে করেন, মামুনদের মতো সৎ ও চরিত্রবান যুবকরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
জেলা ছাত্রদল নেতা শাহরুখ হায়দার দৃঢ়ভাবে বলেন, মামুন ভাইয়ের নেতৃত্বেই তারা সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, হামলা-মামলার শিকার নেতাকর্মীদের সমর্থন জুগিয়েছেন এবং বাগেরহাটের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতেও ভূমিকা রেখেছেন। তারা তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামোর ৩১ দফা সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং আগামীতে মামুনের নেতৃত্বেই জেলা ছাত্রদল এগিয়ে যেতে চায়।
সাধারণ মানুষের কৃতজ্ঞতা: বাগেরহাট শহরের ভ্যানচালক সিদ্দিক শেখ শীতে কাতর হয়ে একটি কম্বল পেয়েছিলেন ছাত্রদলের কর্মীদের কাছ থেকে। মিঠাপুকুর এলাকার বাসিন্দা আলতাফ হাওলাদার জানান, যখন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কর্মবিরতিতে ছিলেন, তখন ছাত্রদলের ছেলেরাই এসে এলাকার আবর্জনা পরিষ্কার করে দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তারা মনে করেন, মামুনের মতো তরুণরাই ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে।
শিক্ষার্থীদের পাশে: সম্প্রতি শুরু হওয়া এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য মামুন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছেন এবং অভিভাবকদের বসার সুনির্দিষ্ট স্থান তৈরি করেছেন, যা তার মানবিক কার্যক্রমের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এই ছাত্রনেতা শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন, তিনি একজন সমাজসেবক, একজন মানবিক মানুষ। বাগেরহাটের তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি এক অনুপ্রেরণার উৎস, পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা। তার সততা, সাহস ও মানবতাবোধ তাকে আগামী দিনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করছে। বাগেরহাটবাসী তাকিয়ে আছে এই তরুণ নেতার দিকে, যিনি শুধু দলের নয়, সাধারণ মানুষেরও হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।




















