ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

ফরিদপুরে নির্বাচনী আমেজ, জনতার মুখোমুখি পাঁচ সংসদ সদস্য প্রার্থী

অনিক রায়, ফরিদপুর:
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০৩ বার পঠিত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে ফরিদপুরে ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে নির্বাচনী উত্তাপ। এই প্রেক্ষাপটে ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীদের সরাসরি সংলাপের এক ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে জনতার প্রশ্নের মুখোমুখি হন পাঁচজন সংসদ সদস্য প্রার্থী।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় ফরিদপুর শহরের ঐতিহাসিক অম্বিকা ময়দানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তৌহিদুল ইসলাম স্টালিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই গণসংলাপে শিক্ষক, আইনজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটারসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। উন্মুক্ত পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ভোটারদের সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ থাকায় পুরো আয়োজনটি ছিল প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রার্থীরা তাঁদের রাজনৈতিক দর্শন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরেন। নির্বাচিত হলে ফরিদপুরের সার্বিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব হ্রাস, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন তাঁরা। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রার্থীরা।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব—খোলা প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময় ভোটাররা তাঁদের এলাকার বাস্তব ও দীর্ঘদিনের সমস্যা নিয়ে প্রার্থীদের মুখোমুখি প্রশ্ন করেন। চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা, সরকারি দপ্তরে হয়রানি, কর্মসংস্থানের অভাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানহীনতা এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে উঠে আসে নানা প্রশ্ন। প্রার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা ও অবস্থান স্পষ্ট করেন। করতালি ও পাল্টা প্রশ্নের মধ্য দিয়ে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও গতিশীল করে তোলে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা হলেন—নায়াব ইউসুফ আহমেদ (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি), প্রফেসর মো. আবদুত তাওয়াব (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), মো. কে. এম. ছরোয়ার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), রফিকুজ্জামান লায়েক (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি) এবং মোরশেদুল ইসলাম আসিফ (স্বতন্ত্র প্রার্থী)।

সুজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করা এবং সচেতন ভোটার তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। প্রতিশ্রুতির মোড়কে নয়, বরং যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটারদের উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ভোটাররা বলেন, এ ধরনের সরাসরি সংলাপ নির্বাচনী পরিবেশকে ইতিবাচক করে তোলে এবং ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ট্যাগস :

ফরিদপুরে নির্বাচনী আমেজ, জনতার মুখোমুখি পাঁচ সংসদ সদস্য প্রার্থী

আপডেট সময় : ১১:০৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে ফরিদপুরে ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে নির্বাচনী উত্তাপ। এই প্রেক্ষাপটে ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীদের সরাসরি সংলাপের এক ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে জনতার প্রশ্নের মুখোমুখি হন পাঁচজন সংসদ সদস্য প্রার্থী।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় ফরিদপুর শহরের ঐতিহাসিক অম্বিকা ময়দানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তৌহিদুল ইসলাম স্টালিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই গণসংলাপে শিক্ষক, আইনজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটারসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। উন্মুক্ত পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ভোটারদের সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ থাকায় পুরো আয়োজনটি ছিল প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রার্থীরা তাঁদের রাজনৈতিক দর্শন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরেন। নির্বাচিত হলে ফরিদপুরের সার্বিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব হ্রাস, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন তাঁরা। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রার্থীরা।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব—খোলা প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময় ভোটাররা তাঁদের এলাকার বাস্তব ও দীর্ঘদিনের সমস্যা নিয়ে প্রার্থীদের মুখোমুখি প্রশ্ন করেন। চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা, সরকারি দপ্তরে হয়রানি, কর্মসংস্থানের অভাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানহীনতা এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে উঠে আসে নানা প্রশ্ন। প্রার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা ও অবস্থান স্পষ্ট করেন। করতালি ও পাল্টা প্রশ্নের মধ্য দিয়ে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও গতিশীল করে তোলে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা হলেন—নায়াব ইউসুফ আহমেদ (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি), প্রফেসর মো. আবদুত তাওয়াব (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), মো. কে. এম. ছরোয়ার (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), রফিকুজ্জামান লায়েক (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি) এবং মোরশেদুল ইসলাম আসিফ (স্বতন্ত্র প্রার্থী)।

সুজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করা এবং সচেতন ভোটার তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। প্রতিশ্রুতির মোড়কে নয়, বরং যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটারদের উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ভোটাররা বলেন, এ ধরনের সরাসরি সংলাপ নির্বাচনী পরিবেশকে ইতিবাচক করে তোলে এবং ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।