ঢাকা ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

ফরিদপুরে কোটি টাকা মূল্যবান কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার

অনিক রায়,ফরিদপুর:
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১২৬ বার পঠিত

Oplus_131072

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় প্রায় দুর্লভ প্রত্নতাত্ত্বিক কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেছে র‍্যাব-১০। এ সময় আন্তঃজেলা পাচারকারী চক্রের প্রধান আসাদুজ্জামান ওরফে সাদ্দাম শেখ (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়।

১৮ জানুয়ারি (রবিবার) বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার বুরাইচ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-১০ এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক কষ্টিপাথরের মূর্তি সংগ্রহ করে সুবিধাজনক স্থানে মজুদ ও পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।এরই ধারাবাহিকতায় গত (রোববার) বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার বুরাইচ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আনুমানিক এক কোটি টাকা মূল্যমানের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধারসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন মো. আসাদুজ্জামান ওরফে সাদ্দাম শেখ (৩৫)। তিনি আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইচ গ্রামের শেখ বাড়ির বাসিন্দা এবং আকবর হোসেন শেখের পুত্র।

র‍্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত কষ্টিপাথরের মূর্তিটির ওজন ১১৮ দশমিক ৬০ কেজি এবং উচ্চতা প্রায় ৪৯ ইঞ্চি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আসামি তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধভাবে প্রত্নতাত্ত্বিক কষ্টিপাথরের মূর্তি সংগ্রহ করে চোরাচালানের মাধ্যমে পাচার করতেন।

ফরিদপুর র‍্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারকৃত মূর্তিটি কালো রঙের কষ্টিপাথরের। এটি অত্যন্ত প্রাচীন বলে ধারণা করছেন। তিনি বলেন, ‘এটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। তবে এর বাজারমূল্য আমাদের জানা নেই। তবে আমরা যাকে আটক করেছি, তিনি ৩০ লাখ টাকায় এটি এক জায়গা থেকে কিনেছেন এবং প্রায় তিন কোটি টাকায় বিক্রির জন্য একটি চক্রের সঙ্গে কথা বলছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে আমাদের জানিয়েছেন।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসানাত বলেন, এ ব্যাপারে র‍্যাব বাদী হয়ে পুরাকীর্তি আইনে থানায় একটি মামলা করেছেন।বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এসে প্রতিমাটি কষ্টিপাথরে নির্মিত কি না এবং কষ্টিপাথরে নির্মিত হলে এর বাজারমূল্য কেমন, তা নির্ধারণ করবেন।

গ্রেফতারকৃত আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মাদক ও চুরিসহ বিভিন্ন থানায় মোট ৯টি মামলা রয়েছে। তিনি একটি মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিও ছিলেন।গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত শত শত বছর পুরোনো এই কষ্টিপাথরের মূর্তি আমাদের অতীত সভ্যতা,ধর্মীয় বিশ্বাস ও শিল্পচেতনার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। প্রত্নতাত্ত্বিক এ ধরনের ঐতিহ্য সংরক্ষণ কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং জাতির ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার রক্ষার একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা বলে সাধারণ জণগণের মত।

ট্যাগস :

ফরিদপুরে কোটি টাকা মূল্যবান কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় প্রায় দুর্লভ প্রত্নতাত্ত্বিক কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেছে র‍্যাব-১০। এ সময় আন্তঃজেলা পাচারকারী চক্রের প্রধান আসাদুজ্জামান ওরফে সাদ্দাম শেখ (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়।

১৮ জানুয়ারি (রবিবার) বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার বুরাইচ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-১০ এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক কষ্টিপাথরের মূর্তি সংগ্রহ করে সুবিধাজনক স্থানে মজুদ ও পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।এরই ধারাবাহিকতায় গত (রোববার) বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার বুরাইচ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আনুমানিক এক কোটি টাকা মূল্যমানের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধারসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন মো. আসাদুজ্জামান ওরফে সাদ্দাম শেখ (৩৫)। তিনি আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইচ গ্রামের শেখ বাড়ির বাসিন্দা এবং আকবর হোসেন শেখের পুত্র।

র‍্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত কষ্টিপাথরের মূর্তিটির ওজন ১১৮ দশমিক ৬০ কেজি এবং উচ্চতা প্রায় ৪৯ ইঞ্চি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আসামি তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধভাবে প্রত্নতাত্ত্বিক কষ্টিপাথরের মূর্তি সংগ্রহ করে চোরাচালানের মাধ্যমে পাচার করতেন।

ফরিদপুর র‍্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারকৃত মূর্তিটি কালো রঙের কষ্টিপাথরের। এটি অত্যন্ত প্রাচীন বলে ধারণা করছেন। তিনি বলেন, ‘এটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। তবে এর বাজারমূল্য আমাদের জানা নেই। তবে আমরা যাকে আটক করেছি, তিনি ৩০ লাখ টাকায় এটি এক জায়গা থেকে কিনেছেন এবং প্রায় তিন কোটি টাকায় বিক্রির জন্য একটি চক্রের সঙ্গে কথা বলছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে আমাদের জানিয়েছেন।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসানাত বলেন, এ ব্যাপারে র‍্যাব বাদী হয়ে পুরাকীর্তি আইনে থানায় একটি মামলা করেছেন।বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এসে প্রতিমাটি কষ্টিপাথরে নির্মিত কি না এবং কষ্টিপাথরে নির্মিত হলে এর বাজারমূল্য কেমন, তা নির্ধারণ করবেন।

গ্রেফতারকৃত আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে মাদক ও চুরিসহ বিভিন্ন থানায় মোট ৯টি মামলা রয়েছে। তিনি একটি মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিও ছিলেন।গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত শত শত বছর পুরোনো এই কষ্টিপাথরের মূর্তি আমাদের অতীত সভ্যতা,ধর্মীয় বিশ্বাস ও শিল্পচেতনার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। প্রত্নতাত্ত্বিক এ ধরনের ঐতিহ্য সংরক্ষণ কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং জাতির ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার রক্ষার একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা বলে সাধারণ জণগণের মত।