দৌলতদিয়া ইউপি ভূমি অফিসে চুরি, মিলল বিএনপি নেতার ভাঙারির দোকানে,আটক ১
- আপডেট সময় : ০৪:৪৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ ২৬১ বার পঠিত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় একটি ভাঙারির দোকান থেকে ভূমি অফিসের চোরাইকৃত সরকারি মালামাল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ হালিম নামে একজনকে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী খানের ছোট ছেলে অনিক খানের ভাঙারির দোকান হিসেবে পরিচিত ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সরকারি মালামাল উদ্ধার করা হয়।
দৌলতদিয়া ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মো. জিলাল ও রাজিব জানান, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অফিসের সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। তবে সকালে অফিসে এসে তারা বিদ্যুতের তার কাটা, দরজা ভাঙা এবং জানালার গ্রিল ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে অফিসের বিভিন্ন মালামাল চুরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
খবর পেয়ে গোয়ালন্দ থানা পুলিশ তদন্তে নামে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চুরির ঘটনার পরপরই বিভিন্ন ভাঙারির দোকানে খোঁজ শুরু করা হয়। একপর্যায়ে তথ্যের ভিত্তিতে দৌলতদিয়ার ওই দোকানে অভিযান চালিয়ে ভূমি অফিসের চোরাইকৃত মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, একইসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলার ব্যাপারীপাড়া এলাকার এসপি আহাদের বাসা থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরও উদ্ধার করা হয়েছে। দোকানটিতে বিভিন্ন মোটর, ফ্যান, পাইপ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ, দরজা-জানালার গ্রিল, টিউবওয়েল, যানবাহনের যন্ত্রাংশ, সাইকেল-রিকশার চাকা, তামা-অ্যালুমিনিয়ামের সামগ্রী, লোহার পাইপ, রড এবং অন্যান্য মূল্যবান ব্যবহৃত সামগ্রী পাওয়া যায়।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানে বিভিন্ন উৎস থেকে আনা পুরাতন ও সন্দেহজনক মালামাল কেনাবেচা হয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “একটি ভাঙারির দোকানে সাধারণত প্লাস্টিক, টিন বা পুরোনো লোহালক্কড় থাকার কথা। কিন্তু এখানে মোটর, ফ্যান, পাইপ, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম পাওয়া গেছে, যা সন্দেহের উদ্রেক করে।”
তিনি আরও জানান, ভূমি অফিস থেকে হারিয়ে যাওয়া ১১টি মালামালের মধ্যে ৯টি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি দুটি সামগ্রী, বিশেষ করে কম্পিউটার উদ্ধার করে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে দোকান সিলগালা করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযানের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।




















