ঢাকা ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

দিনাজপুর বিরামপুরে যমজ তিন ভাই বোন এসএসসিতে পেলো জিপিএ

মোঃওয়াজ কুরনী-দিনাজপুর:
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুলাই ২০২৩ ৩৭১ বার পঠিত

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার পলিপ্রায়াগপুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী (আদিবাসী) যমজ তিন ভাইবোন জিপিএ ৫ পেয়েছে। তাদের এই সাফল্য ইতিমধ্যে এলাকায় আলোচনার ঝড় উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিরামপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী ছিল তারা। তিন ভাইবোন লাসার সৌরভ মুরমু, মেরি মৌমিতা মুরমু ও মারথা জেনিভা মুরমু এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়ায় তারা খুবই খুশি। সেই সাথে সন্তানদের সাফল্যে দেখে আনন্দিত ও খুশির জোয়ারে ভাসছে বাবা জোহানেশ মুরমু ও মা সোহাগিনী হাঁসদা।

২৮ জুলাই, শুক্রবার সারাদেশের ন্যায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের এসএসসির ফল ঘোষণা করা হয়। তিন ভাই বোন একসাথে পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়ায় ওই দিন বিকেলে জোহানেশ-সোহাগিনী দম্পতির বাড়িতে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের ভিড় জমে গেছে।

সবার চোখে মুখে আনন্দের ছাপ। খুশির জোয়ারে ভাসছে তাদের পরিবার। জিপিএ ৫ পাওয়া মেরি মৌমিতা মুরমু বলে, বড় হয়ে সে চিকিৎসক হতে চায়। আরেক বোন মারথা জেনিভাও বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চায়। তবে লাসার সৌরভ প্রকৌশলী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

বাবা জোহানেশ মূরমূ মা সোহাগিনী হাঁসদা বলেন, যে দিন আমাদের পরিবারে যমজ তিন ছেলে মেয়ে জন্ম গ্রহণ করেছিল সে দিন আমাদের বাড়িতে আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। আজ তারা একসাথে পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়ায় অনেক দিন পর আজ বাড়িতে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আমাদের তেমন লেখা পড়া নাই।

সামান্য জ্ঞান দিয়ে আমার তিন ছেলে মেয়েকে সাধ্যমতো পড়ানোর চেষ্টা করেছি। আমি একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করি। আমার সামান্য আয়ে সংসার চলে। ছেলেমেয়েরা বড় হচ্ছে, তাদের খরচ বাড়ছে। তাদের স্বপ্ন পূরণে ভালো প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করাতে অনেক খরচ লাগবে। তাই দেশের সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের পরিবারের জন্য এগিয়ে এলে হয়তো আমাদের সন্তানদের স্বপ্ন পূরণ হবে।

বিরামপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত (ইউএনও) সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুরাদ হোসেন বলেন, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী পরিবার থেকে তিন যমজ ভাই বোন এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পাওয়া খুবই আনন্দের খবর। কৃতী তিনজনের বিষয়ে নতুন ইউএনও এর সঙ্গে কথা বলে অবশ্যই উদ্যোগ নেয়া হবে।

ট্যাগস :

দিনাজপুর বিরামপুরে যমজ তিন ভাই বোন এসএসসিতে পেলো জিপিএ

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুলাই ২০২৩

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার পলিপ্রায়াগপুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী (আদিবাসী) যমজ তিন ভাইবোন জিপিএ ৫ পেয়েছে। তাদের এই সাফল্য ইতিমধ্যে এলাকায় আলোচনার ঝড় উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিরামপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী ছিল তারা। তিন ভাইবোন লাসার সৌরভ মুরমু, মেরি মৌমিতা মুরমু ও মারথা জেনিভা মুরমু এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়ায় তারা খুবই খুশি। সেই সাথে সন্তানদের সাফল্যে দেখে আনন্দিত ও খুশির জোয়ারে ভাসছে বাবা জোহানেশ মুরমু ও মা সোহাগিনী হাঁসদা।

২৮ জুলাই, শুক্রবার সারাদেশের ন্যায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের এসএসসির ফল ঘোষণা করা হয়। তিন ভাই বোন একসাথে পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়ায় ওই দিন বিকেলে জোহানেশ-সোহাগিনী দম্পতির বাড়িতে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের ভিড় জমে গেছে।

সবার চোখে মুখে আনন্দের ছাপ। খুশির জোয়ারে ভাসছে তাদের পরিবার। জিপিএ ৫ পাওয়া মেরি মৌমিতা মুরমু বলে, বড় হয়ে সে চিকিৎসক হতে চায়। আরেক বোন মারথা জেনিভাও বড় হয়ে চিকিৎসক হতে চায়। তবে লাসার সৌরভ প্রকৌশলী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

বাবা জোহানেশ মূরমূ মা সোহাগিনী হাঁসদা বলেন, যে দিন আমাদের পরিবারে যমজ তিন ছেলে মেয়ে জন্ম গ্রহণ করেছিল সে দিন আমাদের বাড়িতে আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। আজ তারা একসাথে পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়ায় অনেক দিন পর আজ বাড়িতে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। আমাদের তেমন লেখা পড়া নাই।

সামান্য জ্ঞান দিয়ে আমার তিন ছেলে মেয়েকে সাধ্যমতো পড়ানোর চেষ্টা করেছি। আমি একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করি। আমার সামান্য আয়ে সংসার চলে। ছেলেমেয়েরা বড় হচ্ছে, তাদের খরচ বাড়ছে। তাদের স্বপ্ন পূরণে ভালো প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করাতে অনেক খরচ লাগবে। তাই দেশের সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের পরিবারের জন্য এগিয়ে এলে হয়তো আমাদের সন্তানদের স্বপ্ন পূরণ হবে।

বিরামপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত (ইউএনও) সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুরাদ হোসেন বলেন, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী পরিবার থেকে তিন যমজ ভাই বোন এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পাওয়া খুবই আনন্দের খবর। কৃতী তিনজনের বিষয়ে নতুন ইউএনও এর সঙ্গে কথা বলে অবশ্যই উদ্যোগ নেয়া হবে।