ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

তীব্র গরমে স্বস্তি মিলছে কচি তালশাঁসে

পুলক সরকার-কুষ্টিয়া:
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জুন ২০২৩ ২৪৪ বার পঠিত

সারাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়ার খোকসায় কয়েকদিনের টানা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। গত কয়েকদিন যাবৎ খোকসা ও তার আশপাশের অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রিতে অথবা তার আশেপাশেই অবস্থান করছে। প্রতিনয়তই তাপমাত্রার পারদ ওপরের দিকে উঠছে। তীব্র গরমে কদর বেড়েছে মৌসুমী রসালো ফল তালের শাঁসের। রোদের তাপমাত্রা যত বাড়ছে ততই চাহিদা বাড়ছে এই ফলের।

জানা যায়, এই এলাকায় তাল গাছের বাণিজ্যিক কোন বাগান নেই। মানুষ সাধারণত বসত বাড়ী, রাস্তার পাশে তাল গাছ রোপন করে থাকেন। তবে এ তীব্র গরমে অস্থির পথচারীদের এক মুহুর্তের জন্য হলেও তৃষ্ণায় স্বস্তি এনে দিচ্ছে কচি তালের শাঁস।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ডগুলো, বিভিন্ন জনমুখর মোড় ও অলিতে গলিতে তালের শাঁস বিক্রি করে অনেক হতদরিদ্র মানুষ মৌসুমভিত্তিক জীবিকা নির্বাহ করছেন। নরম তালের শাঁস খেতে যেহেতু অনেক সুস্বাদু ও মিষ্টি তাই প্রথম দিকে মৌসুমভিত্তিক ব্যবসায়ীরা একটু চড়া দামে বিক্রি করছেন। বর্তমানে চারটি তালের শাঁস কেউ ২০ টাকা আবার কেউ ১৫ টাকা করে বিক্রি করছেন।

উপজেলার তালশাঁস বিক্রেতা আব্দুল সালাম জানান, তিনি প্রতিবছরই এই সময়ে তালের শাঁস বিক্রি করে সংসার চালান। গ্রাম অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে তালফল ক্রয় করে গাছ থেকে পেরে এনে শাঁস বিক্রি করেন। বৈশাখ মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ এই দুই মাস চলবে তালের শাঁস বিক্রির কাজ। এতে তার প্রায় প্রতিদিন সাত’শ থেকে আট’শ টাকা লাভ হয়। তালের শাঁস বিক্রি করে চারজনের সংসার ভালোই চলছে।

তালশাঁসের গুণাগুণ সম্পর্কে ডা. খোন্দকার আরাফুজ্জামান লিপ্টন জানান, তালের শাঁস শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি ফল। গরমের দিনে তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ পানিশূন্যতা দূর করে। এ ছাড়া ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-সি, এ, বি কমপ্লেক্সসহ নানা ধরনের ভিটামিন রয়েছে। তালে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কচি তালের শাঁস রক্তশূন্যতা দূর করে। চোখের দৃষ্টিশক্তি ও মুখের রুচি বাড়ায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সবুজ কুমার সাহা বলেন, এই এলাকায় তালগাছের বাণিজ্যিক কোনো বাগান নেই। তবে বাণিজ্যিকভাবে তাল বাগানের উদ্দ্যোগ নেয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, তালগাছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে বজ্রপাত প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে এবং মৌসুমভিত্তিক তালশাঁসের জন্য তালফল বিক্রি করেও অনেক টাকা আয় করা সম্ভব।

ট্যাগস :

তীব্র গরমে স্বস্তি মিলছে কচি তালশাঁসে

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জুন ২০২৩

সারাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়ার খোকসায় কয়েকদিনের টানা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। গত কয়েকদিন যাবৎ খোকসা ও তার আশপাশের অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রিতে অথবা তার আশেপাশেই অবস্থান করছে। প্রতিনয়তই তাপমাত্রার পারদ ওপরের দিকে উঠছে। তীব্র গরমে কদর বেড়েছে মৌসুমী রসালো ফল তালের শাঁসের। রোদের তাপমাত্রা যত বাড়ছে ততই চাহিদা বাড়ছে এই ফলের।

জানা যায়, এই এলাকায় তাল গাছের বাণিজ্যিক কোন বাগান নেই। মানুষ সাধারণত বসত বাড়ী, রাস্তার পাশে তাল গাছ রোপন করে থাকেন। তবে এ তীব্র গরমে অস্থির পথচারীদের এক মুহুর্তের জন্য হলেও তৃষ্ণায় স্বস্তি এনে দিচ্ছে কচি তালের শাঁস।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ডগুলো, বিভিন্ন জনমুখর মোড় ও অলিতে গলিতে তালের শাঁস বিক্রি করে অনেক হতদরিদ্র মানুষ মৌসুমভিত্তিক জীবিকা নির্বাহ করছেন। নরম তালের শাঁস খেতে যেহেতু অনেক সুস্বাদু ও মিষ্টি তাই প্রথম দিকে মৌসুমভিত্তিক ব্যবসায়ীরা একটু চড়া দামে বিক্রি করছেন। বর্তমানে চারটি তালের শাঁস কেউ ২০ টাকা আবার কেউ ১৫ টাকা করে বিক্রি করছেন।

উপজেলার তালশাঁস বিক্রেতা আব্দুল সালাম জানান, তিনি প্রতিবছরই এই সময়ে তালের শাঁস বিক্রি করে সংসার চালান। গ্রাম অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে তালফল ক্রয় করে গাছ থেকে পেরে এনে শাঁস বিক্রি করেন। বৈশাখ মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ এই দুই মাস চলবে তালের শাঁস বিক্রির কাজ। এতে তার প্রায় প্রতিদিন সাত’শ থেকে আট’শ টাকা লাভ হয়। তালের শাঁস বিক্রি করে চারজনের সংসার ভালোই চলছে।

তালশাঁসের গুণাগুণ সম্পর্কে ডা. খোন্দকার আরাফুজ্জামান লিপ্টন জানান, তালের শাঁস শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি ফল। গরমের দিনে তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ পানিশূন্যতা দূর করে। এ ছাড়া ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-সি, এ, বি কমপ্লেক্সসহ নানা ধরনের ভিটামিন রয়েছে। তালে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কচি তালের শাঁস রক্তশূন্যতা দূর করে। চোখের দৃষ্টিশক্তি ও মুখের রুচি বাড়ায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সবুজ কুমার সাহা বলেন, এই এলাকায় তালগাছের বাণিজ্যিক কোনো বাগান নেই। তবে বাণিজ্যিকভাবে তাল বাগানের উদ্দ্যোগ নেয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, তালগাছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে বজ্রপাত প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে এবং মৌসুমভিত্তিক তালশাঁসের জন্য তালফল বিক্রি করেও অনেক টাকা আয় করা সম্ভব।