ঢাকা ০৯:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

তীব্র গরমে স্বস্তি মিলছে কচি তালশাঁসে

পুলক সরকার-কুষ্টিয়া:
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জুন ২০২৩ ২৩৯ বার পঠিত

সারাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়ার খোকসায় কয়েকদিনের টানা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। গত কয়েকদিন যাবৎ খোকসা ও তার আশপাশের অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রিতে অথবা তার আশেপাশেই অবস্থান করছে। প্রতিনয়তই তাপমাত্রার পারদ ওপরের দিকে উঠছে। তীব্র গরমে কদর বেড়েছে মৌসুমী রসালো ফল তালের শাঁসের। রোদের তাপমাত্রা যত বাড়ছে ততই চাহিদা বাড়ছে এই ফলের।

জানা যায়, এই এলাকায় তাল গাছের বাণিজ্যিক কোন বাগান নেই। মানুষ সাধারণত বসত বাড়ী, রাস্তার পাশে তাল গাছ রোপন করে থাকেন। তবে এ তীব্র গরমে অস্থির পথচারীদের এক মুহুর্তের জন্য হলেও তৃষ্ণায় স্বস্তি এনে দিচ্ছে কচি তালের শাঁস।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ডগুলো, বিভিন্ন জনমুখর মোড় ও অলিতে গলিতে তালের শাঁস বিক্রি করে অনেক হতদরিদ্র মানুষ মৌসুমভিত্তিক জীবিকা নির্বাহ করছেন। নরম তালের শাঁস খেতে যেহেতু অনেক সুস্বাদু ও মিষ্টি তাই প্রথম দিকে মৌসুমভিত্তিক ব্যবসায়ীরা একটু চড়া দামে বিক্রি করছেন। বর্তমানে চারটি তালের শাঁস কেউ ২০ টাকা আবার কেউ ১৫ টাকা করে বিক্রি করছেন।

উপজেলার তালশাঁস বিক্রেতা আব্দুল সালাম জানান, তিনি প্রতিবছরই এই সময়ে তালের শাঁস বিক্রি করে সংসার চালান। গ্রাম অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে তালফল ক্রয় করে গাছ থেকে পেরে এনে শাঁস বিক্রি করেন। বৈশাখ মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ এই দুই মাস চলবে তালের শাঁস বিক্রির কাজ। এতে তার প্রায় প্রতিদিন সাত’শ থেকে আট’শ টাকা লাভ হয়। তালের শাঁস বিক্রি করে চারজনের সংসার ভালোই চলছে।

তালশাঁসের গুণাগুণ সম্পর্কে ডা. খোন্দকার আরাফুজ্জামান লিপ্টন জানান, তালের শাঁস শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি ফল। গরমের দিনে তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ পানিশূন্যতা দূর করে। এ ছাড়া ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-সি, এ, বি কমপ্লেক্সসহ নানা ধরনের ভিটামিন রয়েছে। তালে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কচি তালের শাঁস রক্তশূন্যতা দূর করে। চোখের দৃষ্টিশক্তি ও মুখের রুচি বাড়ায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সবুজ কুমার সাহা বলেন, এই এলাকায় তালগাছের বাণিজ্যিক কোনো বাগান নেই। তবে বাণিজ্যিকভাবে তাল বাগানের উদ্দ্যোগ নেয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, তালগাছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে বজ্রপাত প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে এবং মৌসুমভিত্তিক তালশাঁসের জন্য তালফল বিক্রি করেও অনেক টাকা আয় করা সম্ভব।

ট্যাগস :

তীব্র গরমে স্বস্তি মিলছে কচি তালশাঁসে

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জুন ২০২৩

সারাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়ার খোকসায় কয়েকদিনের টানা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। গত কয়েকদিন যাবৎ খোকসা ও তার আশপাশের অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রিতে অথবা তার আশেপাশেই অবস্থান করছে। প্রতিনয়তই তাপমাত্রার পারদ ওপরের দিকে উঠছে। তীব্র গরমে কদর বেড়েছে মৌসুমী রসালো ফল তালের শাঁসের। রোদের তাপমাত্রা যত বাড়ছে ততই চাহিদা বাড়ছে এই ফলের।

জানা যায়, এই এলাকায় তাল গাছের বাণিজ্যিক কোন বাগান নেই। মানুষ সাধারণত বসত বাড়ী, রাস্তার পাশে তাল গাছ রোপন করে থাকেন। তবে এ তীব্র গরমে অস্থির পথচারীদের এক মুহুর্তের জন্য হলেও তৃষ্ণায় স্বস্তি এনে দিচ্ছে কচি তালের শাঁস।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ডগুলো, বিভিন্ন জনমুখর মোড় ও অলিতে গলিতে তালের শাঁস বিক্রি করে অনেক হতদরিদ্র মানুষ মৌসুমভিত্তিক জীবিকা নির্বাহ করছেন। নরম তালের শাঁস খেতে যেহেতু অনেক সুস্বাদু ও মিষ্টি তাই প্রথম দিকে মৌসুমভিত্তিক ব্যবসায়ীরা একটু চড়া দামে বিক্রি করছেন। বর্তমানে চারটি তালের শাঁস কেউ ২০ টাকা আবার কেউ ১৫ টাকা করে বিক্রি করছেন।

উপজেলার তালশাঁস বিক্রেতা আব্দুল সালাম জানান, তিনি প্রতিবছরই এই সময়ে তালের শাঁস বিক্রি করে সংসার চালান। গ্রাম অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে তালফল ক্রয় করে গাছ থেকে পেরে এনে শাঁস বিক্রি করেন। বৈশাখ মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ এই দুই মাস চলবে তালের শাঁস বিক্রির কাজ। এতে তার প্রায় প্রতিদিন সাত’শ থেকে আট’শ টাকা লাভ হয়। তালের শাঁস বিক্রি করে চারজনের সংসার ভালোই চলছে।

তালশাঁসের গুণাগুণ সম্পর্কে ডা. খোন্দকার আরাফুজ্জামান লিপ্টন জানান, তালের শাঁস শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি ফল। গরমের দিনে তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ পানিশূন্যতা দূর করে। এ ছাড়া ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-সি, এ, বি কমপ্লেক্সসহ নানা ধরনের ভিটামিন রয়েছে। তালে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কচি তালের শাঁস রক্তশূন্যতা দূর করে। চোখের দৃষ্টিশক্তি ও মুখের রুচি বাড়ায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সবুজ কুমার সাহা বলেন, এই এলাকায় তালগাছের বাণিজ্যিক কোনো বাগান নেই। তবে বাণিজ্যিকভাবে তাল বাগানের উদ্দ্যোগ নেয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, তালগাছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে বজ্রপাত প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে এবং মৌসুমভিত্তিক তালশাঁসের জন্য তালফল বিক্রি করেও অনেক টাকা আয় করা সম্ভব।