ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

তথ্য গোপন করে ডিলারশিপ,বরাদ্দ স্থগিত

আজিজুর রহমান,আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর):
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫ ১৬৮ বার পঠিত

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে তথ্য গোপন করে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার পর ডিলারশিপের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে।

উপজেলা কার্যালয় ও অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে লটারির মাধ্যমে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল।

এ সময় উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ১২টি বিক্রয়কেন্দ্রের জন্য ২৩ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে ১১ জনকে চূড়ান্তভাবে ডিলার হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর মধ্যে গোপালপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ইউনিট (কুচিয়াগ্রাম বটতলা বাজার) থেকে মনোনীত হন মো. অনিক শেখ।

তবে এই নিয়োগ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন একই কেন্দ্রের অপর আবেদনকারী কুচিয়াগ্রামের মো. আরিফুজ্জামান। তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে অনিক শেখের ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানান।

অভিযোগে আরিফুজ্জামান উল্লেখ করেন, অনিক শেখ প্রকৃতপক্ষে কোনো ব্যবসায়ী নন। ডিলারশিপের জন্য যেই গুদামের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন সেটি ইউনিয়নের বাইরে পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত এবং আকারে ছোট, যেখানে ১৫ মেট্রিক টন চাল সংরক্ষণ সম্ভব নয়।

এছাড়া অনিক শেখ নিজের নামে কোনো বৈধ সম্পত্তি দেখাতে পারেননি; বরং বাবার নামে থাকা সম্পত্তির দলিল দাখিল করেছেন, যা নীতিমালার পরিপন্থী। একইসঙ্গে, পৌর এলাকায় অবস্থিত গুদামের জন্য পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার বিধান থাকলেও তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে দাখিল করেছেন।

এ বিষয়ে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে। তিনি গত ৬ অক্টোবর সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা মো.রফিকুল ইসলাম বলেন, “গোপালপুর ইউনিয়নের মধ্যেও অনিক শেখের একটি ঘর রয়েছে। তবে যে গুদামের কথা তিনি দেখিয়েছেন, সেটি পৌরসভার অন্তর্গত।

আগামী সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”অভিযুক্ত ডিলার অনিক শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তথ্য গোপনের অভিযোগ সঠিক নয়। আমার বড় একটি ঘর গোপালপুর ইউনিয়নে রয়েছে। তবে ভুলবশত পৌরসভার জায়গার দলিল জমা দেওয়া হয়েছে। এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল। তদন্তে বিষয়টি প্রমাণ হবে। আমার একটি রাইস মিলও রয়েছে। আমি একজন ব্যবসায়ী।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের দায়িত্ব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। তিনি এখনো প্রতিবেদন জমা দেননি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত ডিলারের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।”

তথ্য গোপন করে ডিলারশিপ,বরাদ্দ স্থগিত

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে তথ্য গোপন করে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার পর ডিলারশিপের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে।

উপজেলা কার্যালয় ও অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে লটারির মাধ্যমে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল।

এ সময় উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ১২টি বিক্রয়কেন্দ্রের জন্য ২৩ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে ১১ জনকে চূড়ান্তভাবে ডিলার হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর মধ্যে গোপালপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ইউনিট (কুচিয়াগ্রাম বটতলা বাজার) থেকে মনোনীত হন মো. অনিক শেখ।

তবে এই নিয়োগ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন একই কেন্দ্রের অপর আবেদনকারী কুচিয়াগ্রামের মো. আরিফুজ্জামান। তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে অনিক শেখের ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানান।

অভিযোগে আরিফুজ্জামান উল্লেখ করেন, অনিক শেখ প্রকৃতপক্ষে কোনো ব্যবসায়ী নন। ডিলারশিপের জন্য যেই গুদামের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন সেটি ইউনিয়নের বাইরে পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত এবং আকারে ছোট, যেখানে ১৫ মেট্রিক টন চাল সংরক্ষণ সম্ভব নয়।

এছাড়া অনিক শেখ নিজের নামে কোনো বৈধ সম্পত্তি দেখাতে পারেননি; বরং বাবার নামে থাকা সম্পত্তির দলিল দাখিল করেছেন, যা নীতিমালার পরিপন্থী। একইসঙ্গে, পৌর এলাকায় অবস্থিত গুদামের জন্য পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার বিধান থাকলেও তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে দাখিল করেছেন।

এ বিষয়ে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে। তিনি গত ৬ অক্টোবর সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা মো.রফিকুল ইসলাম বলেন, “গোপালপুর ইউনিয়নের মধ্যেও অনিক শেখের একটি ঘর রয়েছে। তবে যে গুদামের কথা তিনি দেখিয়েছেন, সেটি পৌরসভার অন্তর্গত।

আগামী সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”অভিযুক্ত ডিলার অনিক শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তথ্য গোপনের অভিযোগ সঠিক নয়। আমার বড় একটি ঘর গোপালপুর ইউনিয়নে রয়েছে। তবে ভুলবশত পৌরসভার জায়গার দলিল জমা দেওয়া হয়েছে। এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল। তদন্তে বিষয়টি প্রমাণ হবে। আমার একটি রাইস মিলও রয়েছে। আমি একজন ব্যবসায়ী।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের দায়িত্ব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। তিনি এখনো প্রতিবেদন জমা দেননি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত ডিলারের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।”