ঢাকা ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, আতঙ্কে চৌদ্দগ্রামবাসী

নাঈম ইকবাল-কুমিল্লা (চৌদ্দগ্রাম):
  • আপডেট সময় : ০৮:৪১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫ ২৩৮ বার পঠিত

“আগের ক্ষত শুকায়নি, আবারও আতঙ্কের ছায়া”—এই প্রবাদ যেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাস্তবচিত্র। গত বছরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনো শুকায়নি, এরই মধ্যে চলতি মৌসুমের টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে উপজেলার নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পানি জমে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে অনেক বসতভিটা, আমন বীজতলা, সবজি ক্ষেত,মাছের ঘের ও পোল্ট্রি খামার।

বিশেষত ভারত সীমান্তবর্তী নীচু এলাকাগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে গত বছরের মতো হঠাৎ বন্যার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পৌরসভা ও দক্ষিণাঞ্চলের আলকরা, জগন্নাথদিঘী,চিওড়া ও গুনবতী ইউনিয়নের বহু গ্রামীণ সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সরজমিনে দেখা যায়, গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বালুজুরি খালের ভাঙা অংশ দিয়ে এবারও প্রবল বৃষ্টির পানি আশপাশের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। এতে নিমজ্জিত হয়েছে অনেক কৃষকের আমন বীজতলা।

গোমারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন,“গতবার হঠাৎ করে ঘরে পানি উঠে গিয়েছিল। এবারও ভারত থেকে যেভাবে পানি আসছে, তাতে আমরা দিনরাত দুশ্চিন্তায় আছি।”

একই অবস্থা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত ইউনিয়নগুলোতেও। বিশেষ করে ফেনীর কাছাকাছি এলাকাগুলোর অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন। অনেক মাছচাষি জলাশয়ের চারপাশে জাল ও নেট দিয়ে রক্ষা দেয়াল তৈরিতে ব্যস্ত থাকলেও ইতোমধ্যে অনেক জলাশয়ের মাছ পানির তোড়ে ভেসে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮,১৯০ হেক্টর জমিতে। বন্যা মোকাবেলায় প্রণোদনা হিসেবে ২,৫০০ কৃষককে বিনামূল্যে পাঁচ কেজি বীজ ও বিশ কেজি করে সার বিতরণ করা হয়েছে। তবে চলমান বৃষ্টিতে অনেক বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। বাতিসা ইউনিয়নের পাটানন্দী গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার তিনটি বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি না নামলে সব কিছু নষ্ট হয়ে যাবে।”

এ প্রসঙ্গে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জামাল হোসেন বলেন,“বন্যার সম্ভাব্য ঝুঁকি মাথায় রেখে আমরা আগেই কয়েকটি খাল খনন ও পরিস্কার করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। আমি নিজে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। কোথাও কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান,মানুষের দুর্ভোগ কমাতে খাল, বিল ও জলাশয়ে যেসব স্থানে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, আতঙ্কে চৌদ্দগ্রামবাসী

আপডেট সময় : ০৮:৪১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

“আগের ক্ষত শুকায়নি, আবারও আতঙ্কের ছায়া”—এই প্রবাদ যেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাস্তবচিত্র। গত বছরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনো শুকায়নি, এরই মধ্যে চলতি মৌসুমের টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে উপজেলার নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পানি জমে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে অনেক বসতভিটা, আমন বীজতলা, সবজি ক্ষেত,মাছের ঘের ও পোল্ট্রি খামার।

বিশেষত ভারত সীমান্তবর্তী নীচু এলাকাগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে গত বছরের মতো হঠাৎ বন্যার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পৌরসভা ও দক্ষিণাঞ্চলের আলকরা, জগন্নাথদিঘী,চিওড়া ও গুনবতী ইউনিয়নের বহু গ্রামীণ সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সরজমিনে দেখা যায়, গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বালুজুরি খালের ভাঙা অংশ দিয়ে এবারও প্রবল বৃষ্টির পানি আশপাশের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। এতে নিমজ্জিত হয়েছে অনেক কৃষকের আমন বীজতলা।

গোমারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন,“গতবার হঠাৎ করে ঘরে পানি উঠে গিয়েছিল। এবারও ভারত থেকে যেভাবে পানি আসছে, তাতে আমরা দিনরাত দুশ্চিন্তায় আছি।”

একই অবস্থা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত ইউনিয়নগুলোতেও। বিশেষ করে ফেনীর কাছাকাছি এলাকাগুলোর অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন। অনেক মাছচাষি জলাশয়ের চারপাশে জাল ও নেট দিয়ে রক্ষা দেয়াল তৈরিতে ব্যস্ত থাকলেও ইতোমধ্যে অনেক জলাশয়ের মাছ পানির তোড়ে ভেসে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮,১৯০ হেক্টর জমিতে। বন্যা মোকাবেলায় প্রণোদনা হিসেবে ২,৫০০ কৃষককে বিনামূল্যে পাঁচ কেজি বীজ ও বিশ কেজি করে সার বিতরণ করা হয়েছে। তবে চলমান বৃষ্টিতে অনেক বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। বাতিসা ইউনিয়নের পাটানন্দী গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার তিনটি বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি না নামলে সব কিছু নষ্ট হয়ে যাবে।”

এ প্রসঙ্গে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জামাল হোসেন বলেন,“বন্যার সম্ভাব্য ঝুঁকি মাথায় রেখে আমরা আগেই কয়েকটি খাল খনন ও পরিস্কার করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। আমি নিজে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। কোথাও কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান,মানুষের দুর্ভোগ কমাতে খাল, বিল ও জলাশয়ে যেসব স্থানে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।