ঢাকা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

খোকসায় গোপগ্রাম-জয়ন্তীহাজরা-আমবাড়িয়ায় ওভারলোডেড ফিডার বিভাজনের কাজ শুরু

পুলক সরকার, খোকসা (কুষ্টিয়া):
  • আপডেট সময় : ০৯:০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৮ বার পঠিত

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গোপগ্রাম, জয়ন্তীহাজরা, আমবাড়িয়া ও নিশ্চিন্তবাড়িয়া এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের লোডশেডিংজনিত সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে ৪ নম্বর ফিডারকে দুটি পৃথক ফিডারে বিভক্ত করার কাজ শনিবার(১২ সেপ্টেম্বর) হতে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির খোকসা সাবজোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ।

কাজটি সম্পন্ন হলে ৪ নম্বর ফিডারের অতিরিক্ত লোড কমে আসবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক বছরে ওই এলাকার বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় ৫ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। ফলে ৫ মেগাওয়াটের কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া গেলে লোডশেডিংয়ের সময় ওই ফিডারে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার পর সরবরাহ চালু হলে অনেক গ্রাহক একই সময়ে তাঁতের মেশিন, পানির মোটরসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু করেন। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে ফিডারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাতীয় গ্রিডের নির্ধারিত সীমার বেশি লোড চলে গেলে নিরাপত্তার কারণে গ্রিড থেকে পুরো উপজেলার প্রধান বিদ্যুৎ লাইনও বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এছাড়া এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জের জন্যও বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

খোকসা সাবজোনাল অফিসের এজিএম প্রকৌশলী মো: আব্দুল কাদের জিলানী জানান, বর্তমান কারিগরি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ৪ নম্বর ফিডারকে দুটি পৃথক অংশে বিভক্ত করা হচ্ছে। ফিডার বিভাজনের পর দুটি ফিডারে লোড ভাগ হয়ে গেলে প্রতিটি ফিডারের ওপর চাপ কমবে এবং লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।

লাইন নির্মাণ ও ফিডার বিভাজনের কাজ সম্পন্ন করতে আনুমানিক তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে। কাজটি দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না; জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করে। ফলে বরাদ্দের তুলনায় কোনো এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা বেশি হলে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সবসময় সম্ভব হয় না।

ফিডার বিভাজনের কাজ সম্পন্ন হলে গোপগ্রাম, জয়ন্তীহাজরা, আমবাড়িয়া ও নিশ্চিন্তবাড়িয়া এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহের বর্তমান সমস্যার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

খোকসায় গোপগ্রাম-জয়ন্তীহাজরা-আমবাড়িয়ায় ওভারলোডেড ফিডার বিভাজনের কাজ শুরু

আপডেট সময় : ০৯:০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গোপগ্রাম, জয়ন্তীহাজরা, আমবাড়িয়া ও নিশ্চিন্তবাড়িয়া এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের লোডশেডিংজনিত সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে ৪ নম্বর ফিডারকে দুটি পৃথক ফিডারে বিভক্ত করার কাজ শনিবার(১২ সেপ্টেম্বর) হতে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির খোকসা সাবজোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ।

কাজটি সম্পন্ন হলে ৪ নম্বর ফিডারের অতিরিক্ত লোড কমে আসবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক বছরে ওই এলাকার বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় ৫ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। ফলে ৫ মেগাওয়াটের কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া গেলে লোডশেডিংয়ের সময় ওই ফিডারে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার পর সরবরাহ চালু হলে অনেক গ্রাহক একই সময়ে তাঁতের মেশিন, পানির মোটরসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু করেন। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে ফিডারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাতীয় গ্রিডের নির্ধারিত সীমার বেশি লোড চলে গেলে নিরাপত্তার কারণে গ্রিড থেকে পুরো উপজেলার প্রধান বিদ্যুৎ লাইনও বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এছাড়া এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জের জন্যও বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

খোকসা সাবজোনাল অফিসের এজিএম প্রকৌশলী মো: আব্দুল কাদের জিলানী জানান, বর্তমান কারিগরি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ৪ নম্বর ফিডারকে দুটি পৃথক অংশে বিভক্ত করা হচ্ছে। ফিডার বিভাজনের পর দুটি ফিডারে লোড ভাগ হয়ে গেলে প্রতিটি ফিডারের ওপর চাপ কমবে এবং লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।

লাইন নির্মাণ ও ফিডার বিভাজনের কাজ সম্পন্ন করতে আনুমানিক তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে। কাজটি দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না; জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করে। ফলে বরাদ্দের তুলনায় কোনো এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা বেশি হলে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সবসময় সম্ভব হয় না।

ফিডার বিভাজনের কাজ সম্পন্ন হলে গোপগ্রাম, জয়ন্তীহাজরা, আমবাড়িয়া ও নিশ্চিন্তবাড়িয়া এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহের বর্তমান সমস্যার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।