ঢাকা ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

খানসামা ফিলিং স্টেশনে প্রকাশ্য জালিয়াতি—১০০০ টাকায় মিলছে ৮০০ টাকার জ্বালানি

মোঃ লায়ন ইসলাম,খানসামা (দিনাজপুর):
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ৯৯ বার পঠিত

Oplus_131072

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় খানসামা ফিলিং স্টেশন–এ ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) উপজেলার হলদিপাড়ায় অবস্থিত পাম্পে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অকটেন নিতে এসে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মোটরসাইকেল চালকরা।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, ১০০০ টাকা দিয়ে তেল নিতে গেলে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৮০০ টাকার সমপরিমাণ তেল; একইভাবে ৬০০ টাকার তেলের বদলে দেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকার তেল। অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে মাইলেজ কমে যাওয়া এবং তেলের পরিমাণে স্পষ্ট গরমিল দেখে প্রতারণার বিষয়টি টের পাচ্ছেন।

স্থানীয়দের দাবি, ফিলিং স্টেশনটিতে এ ধরনের অনিয়ম চললেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি বা দৃশ্যমান অভিযান চোখে পড়ছে না; ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মোস্তাফিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল কিনি; কিন্তু ১০০০ টাকা দেওয়ার পরও আমাকে ৮০০ টাকার তেল দেওয়া হয়েছে। এটা সরাসরি প্রতারণা।”
আরেক ভুক্তভোগী সোহান আলী বলেন, “আমার ছেলে ৪১৯০ টাকার ডিজেল কিনেছে। পাম্পের কর্মচারীকে ৪৫০০ টাকা দিলে ১৫০ টাকা ফেরত দেয়; বাকি ১৬০ টাকা চাইতে গেলে বলে—‘মহাজনকে বলেন’। পরে মহাজনের কাছে গেলে বাকি টাকাও ফেরত দেয়। এই হলো এই পাম্পের অবস্থা।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “ওই পাম্পের মালিকদের ব্যবহার প্রচণ্ড খারাপ; তারা গ্রাহকদের সঙ্গে মোটেও ভালো আচরণ করেন না।”
অভিযোগের বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী অলেমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান বলেন, “এ বিষয়ে কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেনি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম–কে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি দেখতেছি।”
এলাকাবাসীর জোরালো দাবি—অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে; তা না হলে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এই ‘প্রকাশ্য লুটপাট’ চলতেই থাকবে, আর জ্বালানি খাতে অনিয়ম আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

খানসামা ফিলিং স্টেশনে প্রকাশ্য জালিয়াতি—১০০০ টাকায় মিলছে ৮০০ টাকার জ্বালানি

আপডেট সময় : ১১:৩৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় খানসামা ফিলিং স্টেশন–এ ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) উপজেলার হলদিপাড়ায় অবস্থিত পাম্পে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অকটেন নিতে এসে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মোটরসাইকেল চালকরা।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, ১০০০ টাকা দিয়ে তেল নিতে গেলে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৮০০ টাকার সমপরিমাণ তেল; একইভাবে ৬০০ টাকার তেলের বদলে দেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকার তেল। অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে মাইলেজ কমে যাওয়া এবং তেলের পরিমাণে স্পষ্ট গরমিল দেখে প্রতারণার বিষয়টি টের পাচ্ছেন।

স্থানীয়দের দাবি, ফিলিং স্টেশনটিতে এ ধরনের অনিয়ম চললেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি বা দৃশ্যমান অভিযান চোখে পড়ছে না; ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মোস্তাফিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল কিনি; কিন্তু ১০০০ টাকা দেওয়ার পরও আমাকে ৮০০ টাকার তেল দেওয়া হয়েছে। এটা সরাসরি প্রতারণা।”
আরেক ভুক্তভোগী সোহান আলী বলেন, “আমার ছেলে ৪১৯০ টাকার ডিজেল কিনেছে। পাম্পের কর্মচারীকে ৪৫০০ টাকা দিলে ১৫০ টাকা ফেরত দেয়; বাকি ১৬০ টাকা চাইতে গেলে বলে—‘মহাজনকে বলেন’। পরে মহাজনের কাছে গেলে বাকি টাকাও ফেরত দেয়। এই হলো এই পাম্পের অবস্থা।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “ওই পাম্পের মালিকদের ব্যবহার প্রচণ্ড খারাপ; তারা গ্রাহকদের সঙ্গে মোটেও ভালো আচরণ করেন না।”
অভিযোগের বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী অলেমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান বলেন, “এ বিষয়ে কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেনি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম–কে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি দেখতেছি।”
এলাকাবাসীর জোরালো দাবি—অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে; তা না হলে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এই ‘প্রকাশ্য লুটপাট’ চলতেই থাকবে, আর জ্বালানি খাতে অনিয়ম আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।