খানসামায় সংবর্ধনার নামে বাধ্যতামূলক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ,তদন্তে নেমেছে প্রশাসন
- আপডেট সময় : ০৩:৪০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫ ১১৮ বার পঠিত

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সংবর্ধনার নামে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে শিক্ষক মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, আগামী ১৫ জুলাই খানসামা উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে উপজেলার ১৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ৬০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষকরা জানান, ইতিপূর্বে ক্লাস্টার পর্যায়ে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। পুনরায় সংবর্ধনার নামে চাঁদা আদায় অযৌক্তিক। অনেক শিক্ষক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেও কর্মকর্তাদের ভয়ে বাধ্য হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, “ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এটিও স্যার ও কিছু শিক্ষক নেতা বারবার চাপ প্রয়োগ করছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে পরবর্তীতে হয়রানির আশঙ্কা থাকে।”
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন, কাজল চন্দ্র রায় ও হোসনে মোবারক বলেন, “সংবর্ধনার আয়োজক শিক্ষকরা। কে কাকে কি দেবে, বা চাঁদা কত তা আমাদের জানা নেই। এসব জানতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে হবে।”
তবে খানসামার নবাগত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির তালুকদার জানান, “চাঁদা আদায়ের বিষয়ে কেউ এখনো আমাকে কিছু বলেনি। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের সংবর্ধনায় শিক্ষকদের কাছ থেকে জোর করে চাঁদা নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, “আমাকে সংবর্ধনার বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। যদি চাঁদা তুলে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়, তাহলে আমি সেই সভায় যাব না। চাঁদা আদায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষক সমাজের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা প্রশাসনের কাছে তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
























