ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

খানসামায় ভার্মিকম্পোস্ট মাঠ দিবস: মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নতুন আশার আলো

মোঃ লায়ন ইসলাম,খানসামা (দিনাজপুর):
  • আপডেট সময় : ১২:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৭৯ বার পঠিত

Oplus_131072

মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে দিনাজপুরের খানসামায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ভার্মিকম্পোস্ট প্রদর্শনীর মাঠ দিবস। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের রবি মৌসুমে ভাবকী ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামে এ আয়োজন করা হয়। মাঠ দিবসটি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর–এর উদ্যোগে এবং দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষকরা হাতে–কলমে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেন।

প্রদর্শনী প্লটটি স্থাপন করা হয় মুন্সিপাড়া গ্রামের তরুণ কৃষক জুনাইদ ইসলাম (২৩)–এর জমিতে। অল্প বয়সেই আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণ করে তিনি এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার জমিতে কেঁচো সার বা ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহারে ফসলের উন্নত বৃদ্ধি ও মাটির গুণগত মান বৃদ্ধির দৃশ্যমান ফলাফল দেখে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
জুনাইদ ইসলাম জানান, বর্তমানে তার কাছে প্রায় ৭০–৮০ কেজি কেঁচো রয়েছে। এগুলো থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪ হাজার কেজি ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন হয়। প্রতি কেজি ১২ টাকায় বিক্রি করে তিনি মাসে প্রায় ১৫–২০ হাজার টাকা আয় করছেন। একই সঙ্গে ফসল উৎপাদন ভালো হওয়ায় খরচও কমছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে এই পদ্ধতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মাঠ দিবসে ‘মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি’ বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার। তিনি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন—কীভাবে স্বল্প খরচে বাড়িতেই ভার্মিকম্পোস্ট তৈরি করা যায় এবং সঠিকভাবে জমিতে প্রয়োগ করলে কীভাবে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহার মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট করে। জৈব সার ব্যবহারে মাটির গঠন উন্নত হয়, পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন স্থিতিশীল থাকে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, দিনাজপুরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, মাটিকে বাঁচাতে এখনই সচেতন হতে হবে। জৈব সারের ব্যবহার বাড়ালে কৃষি হবে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব। তরুণ কৃষকদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ কৃষি খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। বিশেষ অতিথি ছিলেন টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক কৃষিবিদ আবুরেজা মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের হাতে–কলমে শেখানো গেলে তারা দ্রুত নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করেন। এতে একদিকে উৎপাদন বাড়ে, অন্যদিকে মাটির দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষাও নিশ্চিত হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খামারবাড়ি, দিনাজপুরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) আবু জাফর মোহাম্মদ সাদেক, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. আল মুক্তাদির, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তমিজুল ইসলাম, পল্লী উন্নয়ন সঞ্চয় কর্মকর্তা আতোয়ার রহমানসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।

খানসামায় ভার্মিকম্পোস্ট মাঠ দিবস: মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নতুন আশার আলো

আপডেট সময় : ১২:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে দিনাজপুরের খানসামায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ভার্মিকম্পোস্ট প্রদর্শনীর মাঠ দিবস। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের রবি মৌসুমে ভাবকী ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামে এ আয়োজন করা হয়। মাঠ দিবসটি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর–এর উদ্যোগে এবং দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষকরা হাতে–কলমে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেন।

প্রদর্শনী প্লটটি স্থাপন করা হয় মুন্সিপাড়া গ্রামের তরুণ কৃষক জুনাইদ ইসলাম (২৩)–এর জমিতে। অল্প বয়সেই আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণ করে তিনি এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার জমিতে কেঁচো সার বা ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহারে ফসলের উন্নত বৃদ্ধি ও মাটির গুণগত মান বৃদ্ধির দৃশ্যমান ফলাফল দেখে আশপাশের কৃষকদের মধ্যেও নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
জুনাইদ ইসলাম জানান, বর্তমানে তার কাছে প্রায় ৭০–৮০ কেজি কেঁচো রয়েছে। এগুলো থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪ হাজার কেজি ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন হয়। প্রতি কেজি ১২ টাকায় বিক্রি করে তিনি মাসে প্রায় ১৫–২০ হাজার টাকা আয় করছেন। একই সঙ্গে ফসল উৎপাদন ভালো হওয়ায় খরচও কমছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে এই পদ্ধতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মাঠ দিবসে ‘মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি’ বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার। তিনি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন—কীভাবে স্বল্প খরচে বাড়িতেই ভার্মিকম্পোস্ট তৈরি করা যায় এবং সঠিকভাবে জমিতে প্রয়োগ করলে কীভাবে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহার মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট করে। জৈব সার ব্যবহারে মাটির গঠন উন্নত হয়, পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন স্থিতিশীল থাকে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, দিনাজপুরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, মাটিকে বাঁচাতে এখনই সচেতন হতে হবে। জৈব সারের ব্যবহার বাড়ালে কৃষি হবে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব। তরুণ কৃষকদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ কৃষি খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। বিশেষ অতিথি ছিলেন টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক কৃষিবিদ আবুরেজা মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের হাতে–কলমে শেখানো গেলে তারা দ্রুত নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করেন। এতে একদিকে উৎপাদন বাড়ে, অন্যদিকে মাটির দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষাও নিশ্চিত হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খামারবাড়ি, দিনাজপুরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) আবু জাফর মোহাম্মদ সাদেক, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. আল মুক্তাদির, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তমিজুল ইসলাম, পল্লী উন্নয়ন সঞ্চয় কর্মকর্তা আতোয়ার রহমানসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।