ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

উদ্বোধন আগে, প্রস্তুতি পরে, প্রশ্নের মুখে খানসামা পাবলিক লাইব্রেরি

মোঃ লায়ন ইসলাম,খানসামা (দিনাজপুর):
  • আপডেট সময় : ০৪:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৮২ বার পঠিত

Oplus_131072

জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি। ভবনের কিছু নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ, নেই কোনো বই খালি তাক আর অর্ধসমাপ্ত কাজ নিয়ে হতাশ স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।

প্রায় ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত লাইব্রেরিটি গত ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা একে উপজেলার তরুণ প্রজন্মের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তবে উদ্বোধনের তিন মাস পরও ভবনের ভেতরে রয়ে গেছে অসম্পূর্ণ কাজ, শুরু হয়নি নিয়মিত কার্যক্রম।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি জানালায় এখনো চূড়ান্ত রঙের কাজ শেষ হয়নি। বৈদ্যুতিক সংযোগের অংশও অসম্পূর্ণ। ভেতরে নির্মাণসামগ্রীর চিহ্ন রয়ে গেছে। পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় লাইব্রেরি চালু করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “জানালার চূড়ান্ত রঙ এবং ইলেকট্রিকের কাজ বাকি আছে। এগুলো শেষ হলেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।” বই না আসার বিষয়ে তিনি জানান, “বইয়ের জন্য আলাদা বরাদ্দ প্রয়োজন। নির্মাণ বাজেটের সঙ্গে বই কেনার অর্থ যুক্ত নয়।”

প্রকল্পের ঠিকাদার বেলাল হোসেন বলেন, “ইউএনও স্যার ফোন দিয়ে বলেছেন, এ মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে। আমরা দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। আশা করছি খুব দ্রুত কাজ শেষ হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “ঠিকাদারকে ডাকা হয়েছে। গুণগত মান ঠিক রেখে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়া করে নিম্নমানের কাজ গ্রহণ করা হবে না।”

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন উদ্বোধনের আগে কেন কাজ সম্পূর্ণ করা হলো না? এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা লাইব্রেরি চালুর অপেক্ষায় আছি। পড়াশোনার জন্য একটি ভালো পরিবেশ দরকার। কিন্তু তিন মাসেও কাজ শেষ না হওয়ায় হতাশ লাগছে।”

সচেতন মহলের মতে, একটি পাবলিক লাইব্রেরি শুধু ভবন নয়; এটি একটি সামাজিক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান। সেখানে বই, আসবাব, আলো-বিদ্যুৎ ও পাঠকের উপস্থিতিই প্রাণ সঞ্চার করে। এসব প্রস্তুতি ছাড়া উদ্বোধন করায় মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

উদ্বোধন আগে, প্রস্তুতি পরে, প্রশ্নের মুখে খানসামা পাবলিক লাইব্রেরি

আপডেট সময় : ০৪:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি। ভবনের কিছু নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ, নেই কোনো বই খালি তাক আর অর্ধসমাপ্ত কাজ নিয়ে হতাশ স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।

প্রায় ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত লাইব্রেরিটি গত ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা একে উপজেলার তরুণ প্রজন্মের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তবে উদ্বোধনের তিন মাস পরও ভবনের ভেতরে রয়ে গেছে অসম্পূর্ণ কাজ, শুরু হয়নি নিয়মিত কার্যক্রম।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি জানালায় এখনো চূড়ান্ত রঙের কাজ শেষ হয়নি। বৈদ্যুতিক সংযোগের অংশও অসম্পূর্ণ। ভেতরে নির্মাণসামগ্রীর চিহ্ন রয়ে গেছে। পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় লাইব্রেরি চালু করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “জানালার চূড়ান্ত রঙ এবং ইলেকট্রিকের কাজ বাকি আছে। এগুলো শেষ হলেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।” বই না আসার বিষয়ে তিনি জানান, “বইয়ের জন্য আলাদা বরাদ্দ প্রয়োজন। নির্মাণ বাজেটের সঙ্গে বই কেনার অর্থ যুক্ত নয়।”

প্রকল্পের ঠিকাদার বেলাল হোসেন বলেন, “ইউএনও স্যার ফোন দিয়ে বলেছেন, এ মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে। আমরা দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। আশা করছি খুব দ্রুত কাজ শেষ হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “ঠিকাদারকে ডাকা হয়েছে। গুণগত মান ঠিক রেখে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়া করে নিম্নমানের কাজ গ্রহণ করা হবে না।”

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন উদ্বোধনের আগে কেন কাজ সম্পূর্ণ করা হলো না? এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা লাইব্রেরি চালুর অপেক্ষায় আছি। পড়াশোনার জন্য একটি ভালো পরিবেশ দরকার। কিন্তু তিন মাসেও কাজ শেষ না হওয়ায় হতাশ লাগছে।”

সচেতন মহলের মতে, একটি পাবলিক লাইব্রেরি শুধু ভবন নয়; এটি একটি সামাজিক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান। সেখানে বই, আসবাব, আলো-বিদ্যুৎ ও পাঠকের উপস্থিতিই প্রাণ সঞ্চার করে। এসব প্রস্তুতি ছাড়া উদ্বোধন করায় মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।