ইতালির প্রলোভনে লিবিয়ায় জিম্মি ও নির্যাতন: সালথায় মানবপাচারকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৯:৪১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ২০ বার পঠিত

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাহিরদিয়া গ্রামের বাদশা মোল্লার ছেলে এনামুল মোল্লা (২৫) ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের কাছ থেকে মোট প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তবে চুক্তি অনুযায়ী কাউকেই ইতালিতে পাঠাতে পারেননি বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, মানবপাচারকারী চক্রটি বিভিন্ন ধাপে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে মাফিয়া চক্রের কাছে তাদের জিম্মি করে আবারও মুক্তিপণের নামে টাকা আদায় করা হয়। এ সময় তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। এখনও কয়েকজনের খোঁজ পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন স্বজনরা।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মনজুরুল মোল্লা এই চক্রের অন্যতম দালাল হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি নানা প্রলোভন দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেন। এছাড়া চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও ভয়ভীতির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী হুসাইন সর্দার বলেন, “এনামুল ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে আমাকে লিবিয়ায় একটি অজানা ঘরে আটকে রাখে। পরে আরও টাকার দাবিতে নির্যাতন চালায়। আমি কান্নাকাটি করে বাড়িতে ফোন দিলে পরিবার অতিরিক্ত টাকা পাঠায়। এরপর দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হই। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
আরেক ভুক্তভোগী ওসমান মোল্লা বলেন, “আমাকে ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে লিবিয়ায় একটি ঘরে আটকে রেখে আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যা করে সাগরে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে।”
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত এবং মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে আইনগত কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দেন তারা।
অভিযুক্ত মঞ্জুরুল মোল্যা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। গ্রাম্য দলাদলির জের ধরে একটি পক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আমাদের কেবল লিবিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে কথা হয়েছিল। বর্তমানে তারা লিবিয়ায় চাকরি করছেন। তবে আমার ছোট ভাই এনামুলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তার সাথে কার কার কি কথা হয়েছে জানিনা।
অভিযুক্ত এনামুল মোল্যা বর্তমা লিবিয়ায় অবস্থান করার তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ বলেন, মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে এটিকে গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। সেই সাথে পুলিশের পক্ষ থেকে এই অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালানো হবে যাতে করে এই পন্থায় কেউ বিদেশে না যায়।




















