ঢাকা ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

ইউটিউব পাল্টে দিয়েছে গ্রামের নাম

পুলক সরকার, বিশেষ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৩ ২২৩ বার পঠিত

কুষ্টিয়া শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে খোকসা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম শিমুলিয়া। নিজেদের অসাধারণ কার্যক্রমের কারণে গ্রামটি পৃথিবীজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে ‘ইউটিউব ভিলেজ’ নামে।

২০১৬ সালের জুন মাসে শিমুলিয়া গ্রামের প্রকৌশলী লিটন খান ও স্থানীয় স্কুল শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন যৌথভাবে ‘অ্যারাউন্ড মি বিডি’ নামে একটি ইউটিউবের জন্য ভিডিও বানানো শুরু করেন। নিজেদের গ্রামকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী রান্না করে বিনামূল্যে গ্রামবাসীর মধ্যে বিতরণ করছে এই ইউটিউব চ্যানেল। প্রথম দিকে রান্না খুব একটা সাদা মাটা হলেও এখন যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। এতে প্রতি বছর আয় হচ্ছে অন্তত: ৬০ লাখ টাকা। কর্মসংস্থান হয়েছে শতাধিক মানুষের। উদ্দ্যোগতারা বলছেন, দেশীয় খাবারের ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতেই এমন আয়োজন।

এক এক দিন এক এক রান্নার আয়োজন থাকে এখানে। সেই খাবার বিনামূল্যে দেয়া হয় গ্রামবাসীকে। আর রান্নার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভিডিও চিত্রে তুলে ধরা হয় শৈল্পিক ভাবে। সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন চলে এই মহাযজ্ঞ।

এরই মধ্যে শিমুলিয়া গ্রামের গল্প ছড়িয়ে পরেছে আশ-পাশের জেলায়। ব্যতিক্রমী এই উদ্দ্যোগ দেখতে ছুটে আসছেন অনেকেই। তাদের জন্য ৪০ বিঘা জমিতে নির্মিত হয়েছে মনোমুগ্ধকর ইউটিউব পার্ক।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় ৭ বছর আগে গ্রামীণ সব কৃষ্টি-কালচার ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে তুলে যায় কিনা, তা নিয়ে আমি আর আমার ভাগ্নে লিটন খান আলোচনা করি। পরে আমরা চিন্তা করি, গ্রামের মানুষদের নিয়ে খাবার রান্না করে ভিডিও করব। সেসব খাবার গ্রামবাসীকে খাওয়ানো হবে। পরে আমরা আস্তে আস্তে সে কার্যক্রম শুরু করি। ‘অ্যারাউন্ড মি বিডি’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে আমরা সেখানে রান্নার ভিডিও করে আপলোড শুরু করি। তারপর আর আমাদের ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন আমাদের পাঁচটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। সাবস্ক্রাইব প্রায় ৬৮ লাখ।

তিনি আরও বলেন, এক একটি চ্যানেলে এ এক এক ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সবগুলোই আমাদের গ্রাম নির্ভর। শুরুর দিকে আমাদের এ কাজ অনেকেই বাঁকা চোখে দেখতেন, নানা কথা বলতেন। তবে এখন গ্রামবাসী আমাদের উৎসাহ দেন। আমরা সবাই মিলেমিশে আনন্দ করে কাজ করি।

গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে উন্নত হয়েছে এ গ্রাম। ইউটিউব চ্যানেল ‘অ্যারাউন্ড মি বিডি’র দৌলতে প্রায় অর্ধ শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি গ্রামের মানুষ হরেক রকমের সুস্বাদু আইটেমের খাবার খেতে পারেন।

ইউটিউব পাল্টে দিয়েছে গ্রামের নাম

আপডেট সময় : ০৫:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৩

কুষ্টিয়া শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে খোকসা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম শিমুলিয়া। নিজেদের অসাধারণ কার্যক্রমের কারণে গ্রামটি পৃথিবীজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে ‘ইউটিউব ভিলেজ’ নামে।

২০১৬ সালের জুন মাসে শিমুলিয়া গ্রামের প্রকৌশলী লিটন খান ও স্থানীয় স্কুল শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন যৌথভাবে ‘অ্যারাউন্ড মি বিডি’ নামে একটি ইউটিউবের জন্য ভিডিও বানানো শুরু করেন। নিজেদের গ্রামকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী রান্না করে বিনামূল্যে গ্রামবাসীর মধ্যে বিতরণ করছে এই ইউটিউব চ্যানেল। প্রথম দিকে রান্না খুব একটা সাদা মাটা হলেও এখন যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। এতে প্রতি বছর আয় হচ্ছে অন্তত: ৬০ লাখ টাকা। কর্মসংস্থান হয়েছে শতাধিক মানুষের। উদ্দ্যোগতারা বলছেন, দেশীয় খাবারের ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতেই এমন আয়োজন।

এক এক দিন এক এক রান্নার আয়োজন থাকে এখানে। সেই খাবার বিনামূল্যে দেয়া হয় গ্রামবাসীকে। আর রান্নার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভিডিও চিত্রে তুলে ধরা হয় শৈল্পিক ভাবে। সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন চলে এই মহাযজ্ঞ।

এরই মধ্যে শিমুলিয়া গ্রামের গল্প ছড়িয়ে পরেছে আশ-পাশের জেলায়। ব্যতিক্রমী এই উদ্দ্যোগ দেখতে ছুটে আসছেন অনেকেই। তাদের জন্য ৪০ বিঘা জমিতে নির্মিত হয়েছে মনোমুগ্ধকর ইউটিউব পার্ক।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় ৭ বছর আগে গ্রামীণ সব কৃষ্টি-কালচার ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে তুলে যায় কিনা, তা নিয়ে আমি আর আমার ভাগ্নে লিটন খান আলোচনা করি। পরে আমরা চিন্তা করি, গ্রামের মানুষদের নিয়ে খাবার রান্না করে ভিডিও করব। সেসব খাবার গ্রামবাসীকে খাওয়ানো হবে। পরে আমরা আস্তে আস্তে সে কার্যক্রম শুরু করি। ‘অ্যারাউন্ড মি বিডি’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে আমরা সেখানে রান্নার ভিডিও করে আপলোড শুরু করি। তারপর আর আমাদের ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন আমাদের পাঁচটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। সাবস্ক্রাইব প্রায় ৬৮ লাখ।

তিনি আরও বলেন, এক একটি চ্যানেলে এ এক এক ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সবগুলোই আমাদের গ্রাম নির্ভর। শুরুর দিকে আমাদের এ কাজ অনেকেই বাঁকা চোখে দেখতেন, নানা কথা বলতেন। তবে এখন গ্রামবাসী আমাদের উৎসাহ দেন। আমরা সবাই মিলেমিশে আনন্দ করে কাজ করি।

গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে উন্নত হয়েছে এ গ্রাম। ইউটিউব চ্যানেল ‘অ্যারাউন্ড মি বিডি’র দৌলতে প্রায় অর্ধ শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি গ্রামের মানুষ হরেক রকমের সুস্বাদু আইটেমের খাবার খেতে পারেন।