আলফাডাঙ্গায় শিশু জায়ান মোল্লার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার,এলাকায় শোকের ছায়া
- আপডেট সময় : ০৮:১৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫ ১৯৭ বার পঠিত

আলফাডাঙ্গায় শিশু জায়ান মোল্লার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার,এলাকায় শোকের ছায়া
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর সাত বছর বয়সী শিশু জায়ান মোল্লার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামে বাড়ির পাশে একটি বাগান থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত শিশু জায়ান মোল্লা গ্রিস প্রবাসী পলাশ মোল্লার ছেলে এবং সে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে শিশু শ্রেণিতে পড়তো। শিশুটির পরিবার ও স্বজনদের জোরালো দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
জায়ানের মা সিনথিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, স্কুল থেকে ফিরে তেঁতুল কুড়াতে গিয়ে তার ছেলে নিখোঁজ হয়। পরে খোঁজাখুঁজির সময় বাড়ির অদূরে ‘চান খার বাগানে’ গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার ছেলের মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, “কত নিষ্ঠুরভাবে আমার বাবাকে মারা হয়েছে। তার পরনের প্যান্ট দিয়ে মুখ বেঁধে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।”
স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর আনুমানিক সাড়ে ১২টা থেকে শিশু জায়ানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে আড়াইটার মধ্যে এলাকাবাসী বাড়ির পাশের জঙ্গলের ভেতরে একটি গাছের ডালে জায়ান মোল্লার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে। আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় তার পরনের প্যান্ট দিয়ে মুখমণ্ডল ঢাকা ছিল।”
ওসি আরও জানান, শিশুটির মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এই রহস্যজনক মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।




















