ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

আজ রাজবাড়ী হানাদারমুক্ত দিবস

রাজবাড়ী প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭৭ বার পঠিত

আজ ১৮ ডিসেম্বর—রাজবাড়ী হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর অবাঙালি বিহারিদের কবল থেকে মুক্ত হয় রাজবাড়ী জেলা।
রেলওয়ে শহর হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজবাড়ীতে অবাঙালি বিহারি ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি গড়ে ওঠে।
পাকিস্তানি বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিহারিরা পুরো শহর দখলে নিয়ে নির্বিচারে জ্বালাও-পোড়াও, লুটপাট ও গণহত্যা চালাতে থাকে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বরের পর তারা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং দীর্ঘ সময় ধরে শহর দখল করে রাখে।
৯ ডিসেম্বর শহরের লক্ষ্মীকোল এলাকায় বিহারিদের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিহারিদের গুলিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক, শফিক ও সাদিক শহীদ হন। এরপর ১৩ ডিসেম্বর শহরের বিনোদপুর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা এক প্রহরীকেও হত্যা করে বিহারিরা।
১৬ ডিসেম্বর সারাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করলেও রাজবাড়ী শহর তখনও অবাঙালি বিহারিদের দখলে ছিল। এ অবস্থায় জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুক্তিযোদ্ধারা রাজবাড়ী শহর মুক্ত করার লক্ষ্যে সংগঠিত হতে থাকেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজবাড়ীর বীর মুক্তিযোদ্ধা
আব্দুল মন্ডল জানান, “সারা দেশে ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পতাকা উড়লেও রাজবাড়ী হানাদারমুক্ত হয় ১৮ ডিসেম্বর। পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটলেও বিহারিরা রেলওয়ে কলোনি, নিউ কলোনি ও লোকোসেডসহ বিভিন্ন এলাকায় শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলে এবং আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিরোধ চালায়।”
১৬, ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর টানা তিন দিন মাগুরা, পাংশা, গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বিহারিদের তুমুল যুদ্ধ হয়। এসব যুদ্ধে রফিক, শফিক ও সাদিকসহ মোট সাতজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। অভিযানের সময় বিহারি ক্যাম্প থেকে উদ্ধার করা হয় ১৯ জন নির্যাতিত নারীকে।
অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিকেলে পরাজয় মেনে আত্মসমর্পণ করে অবাঙালি বিহারিরা। এর মধ্য দিয়ে রাজবাড়ী জেলা হানাদারমুক্ত হয় এবং বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ পায় এ জনপদ।

ট্যাগস :

আজ রাজবাড়ী হানাদারমুক্ত দিবস

আপডেট সময় : ০৮:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

আজ ১৮ ডিসেম্বর—রাজবাড়ী হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর অবাঙালি বিহারিদের কবল থেকে মুক্ত হয় রাজবাড়ী জেলা।
রেলওয়ে শহর হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজবাড়ীতে অবাঙালি বিহারি ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি গড়ে ওঠে।
পাকিস্তানি বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিহারিরা পুরো শহর দখলে নিয়ে নির্বিচারে জ্বালাও-পোড়াও, লুটপাট ও গণহত্যা চালাতে থাকে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বরের পর তারা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং দীর্ঘ সময় ধরে শহর দখল করে রাখে।
৯ ডিসেম্বর শহরের লক্ষ্মীকোল এলাকায় বিহারিদের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিহারিদের গুলিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক, শফিক ও সাদিক শহীদ হন। এরপর ১৩ ডিসেম্বর শহরের বিনোদপুর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা এক প্রহরীকেও হত্যা করে বিহারিরা।
১৬ ডিসেম্বর সারাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করলেও রাজবাড়ী শহর তখনও অবাঙালি বিহারিদের দখলে ছিল। এ অবস্থায় জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুক্তিযোদ্ধারা রাজবাড়ী শহর মুক্ত করার লক্ষ্যে সংগঠিত হতে থাকেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজবাড়ীর বীর মুক্তিযোদ্ধা
আব্দুল মন্ডল জানান, “সারা দেশে ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পতাকা উড়লেও রাজবাড়ী হানাদারমুক্ত হয় ১৮ ডিসেম্বর। পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটলেও বিহারিরা রেলওয়ে কলোনি, নিউ কলোনি ও লোকোসেডসহ বিভিন্ন এলাকায় শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলে এবং আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিরোধ চালায়।”
১৬, ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর টানা তিন দিন মাগুরা, পাংশা, গোয়ালন্দ ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বিহারিদের তুমুল যুদ্ধ হয়। এসব যুদ্ধে রফিক, শফিক ও সাদিকসহ মোট সাতজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। অভিযানের সময় বিহারি ক্যাম্প থেকে উদ্ধার করা হয় ১৯ জন নির্যাতিত নারীকে।
অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিকেলে পরাজয় মেনে আত্মসমর্পণ করে অবাঙালি বিহারিরা। এর মধ্য দিয়ে রাজবাড়ী জেলা হানাদারমুক্ত হয় এবং বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ পায় এ জনপদ।