ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু নাগেশ্বরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন ফরিদপুর‌ পৌরসভার ‌ সাবেক ১ নং ‌ প্যানেল মেয়র মনিরুল ইসলাম মনির গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রবীণ সাংবাদিক নুরুননবী বাবু সালথায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা যাত্রীবাহি বাসে আগুন  নাগেশ্বরীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির প্রতিবাদ সভা দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১জন আসামি গ্রেপ্তার খালের ইজারা বাতিল ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন নওগাঁয় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী নি-হ-ত

আগুনে পুড়ে ছাই মোশারফের স্বপ্ন, পাশে দাঁড়াল উপজেলা প্রশাসন

আজিজুর রহমান দুলাল-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর):
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২৩০ বার পঠিত

ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার নতুন বাজারের এক কোণে ছোট্ট একটি ভ্রাম্যমাণ দোকানে প্রতিদিন সিঙ্গারা, পুরি আর চপ বিক্রি করতেন মোশারফ হোসেন। এটাই ছিল তাঁর পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। কিন্তু হঠাৎ ঘটে যাওয়া এক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায় তাঁর সেই স্বপ্ন, ভেঙে পড়ে জীবিকার মূল অবলম্বন।
ঘটনার বিবরণ

Oplus_131072

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে নতুন বাজারে ঘটে এক অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ড। আগুনে পুড়ে যায় কয়েকটি ছোট দোকান, তার মধ্যে মোশারফ হোসেনের ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানটিও সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়। ছোট্ট এই দোকান দিয়েই মোশারফ দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালিয়ে আসছিলেন।

আগুনের ভয়াবহতায় দোকানটির সামান্য চালান, টেবিল-চেয়ার থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম—সবকিছুই মুহূর্তেই ছাই হয়ে যায়। নিঃস্ব মোশারফ তখন দাঁড়িয়ে ছিলেন অসহায়ভাবে, চোখে শুধুই অন্ধকার।

এমন দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতা—এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঘটনাটি জানার পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। তিনি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মোশারফের অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন এবং পরে তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এনে তাঁর হাতে প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, “একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি পরিবার নয়,একটি ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়া। আমরা চেষ্টা করছি যাতে মোশারফ হোসেন আবার দ্রুত ব্যবসা শুরু করতে পারেন।”

উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা বলেন, “ইউএনও স্যারের মতো দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমাদের দুর্দিনে পাশে থাকেন বলেই আমরা সাহস পাই। মোশারফের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এ ধরনের সহযোগিতা খুবই জরুরি।”
মোশারফ হোসেন চোখে জল নিয়ে বলেন, “সব কিছু হারিয়ে ফেলেছিলাম। ভাবছিলাম কীভাবে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেব। ইউএনও স্যার পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেই আবার নতুন করে শুরু করার সাহস পাচ্ছি। আমি কৃতজ্ঞ।”
সম্মিলিত সহায়তার আহ্বান মোশারফের মতো আরও অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিনিয়ত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হন। প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

এই ঘটনা শুধু একটি সাহায্যের নয়,বরং একটি বার্তা—কোনো মানুষই একা নয়, আমরা সবাই মিলেই একে অপরের ভরসা হতে পারি।
এই সময়টিতে মোশারফের মতো মানুষদের পাশে দাঁড়ানো মানেই মানবিক মূল্যবোধের বিজয়। প্রশাসনের এই উদ্যোগ যেমন প্রশংসনীয়,তেমনি এটি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক আমাদের সকলের জন্য।

আগুনে পুড়ে ছাই মোশারফের স্বপ্ন, পাশে দাঁড়াল উপজেলা প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার নতুন বাজারের এক কোণে ছোট্ট একটি ভ্রাম্যমাণ দোকানে প্রতিদিন সিঙ্গারা, পুরি আর চপ বিক্রি করতেন মোশারফ হোসেন। এটাই ছিল তাঁর পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। কিন্তু হঠাৎ ঘটে যাওয়া এক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায় তাঁর সেই স্বপ্ন, ভেঙে পড়ে জীবিকার মূল অবলম্বন।
ঘটনার বিবরণ

Oplus_131072

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে নতুন বাজারে ঘটে এক অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ড। আগুনে পুড়ে যায় কয়েকটি ছোট দোকান, তার মধ্যে মোশারফ হোসেনের ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানটিও সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়। ছোট্ট এই দোকান দিয়েই মোশারফ দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালিয়ে আসছিলেন।

আগুনের ভয়াবহতায় দোকানটির সামান্য চালান, টেবিল-চেয়ার থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম—সবকিছুই মুহূর্তেই ছাই হয়ে যায়। নিঃস্ব মোশারফ তখন দাঁড়িয়ে ছিলেন অসহায়ভাবে, চোখে শুধুই অন্ধকার।

এমন দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতা—এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঘটনাটি জানার পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। তিনি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মোশারফের অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন এবং পরে তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এনে তাঁর হাতে প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, “একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি পরিবার নয়,একটি ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়া। আমরা চেষ্টা করছি যাতে মোশারফ হোসেন আবার দ্রুত ব্যবসা শুরু করতে পারেন।”

উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা বলেন, “ইউএনও স্যারের মতো দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমাদের দুর্দিনে পাশে থাকেন বলেই আমরা সাহস পাই। মোশারফের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এ ধরনের সহযোগিতা খুবই জরুরি।”
মোশারফ হোসেন চোখে জল নিয়ে বলেন, “সব কিছু হারিয়ে ফেলেছিলাম। ভাবছিলাম কীভাবে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেব। ইউএনও স্যার পাশে দাঁড়িয়েছেন বলেই আবার নতুন করে শুরু করার সাহস পাচ্ছি। আমি কৃতজ্ঞ।”
সম্মিলিত সহায়তার আহ্বান মোশারফের মতো আরও অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিনিয়ত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হন। প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

এই ঘটনা শুধু একটি সাহায্যের নয়,বরং একটি বার্তা—কোনো মানুষই একা নয়, আমরা সবাই মিলেই একে অপরের ভরসা হতে পারি।
এই সময়টিতে মোশারফের মতো মানুষদের পাশে দাঁড়ানো মানেই মানবিক মূল্যবোধের বিজয়। প্রশাসনের এই উদ্যোগ যেমন প্রশংসনীয়,তেমনি এটি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক আমাদের সকলের জন্য।