অশুভ বিনাশে কৃষ্ণ, প্রেম-সত্যের মহোৎসব আজ
- আপডেট সময় : ১০:১৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫ ২৫৬ বার পঠিত

র কৃষ্ণপক্ষের অষ্টম তিথি—হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার মাহাত্ম্য অপরিসীম। এদিনই পালিত হচ্ছে জন্মাষ্টমী, বিশ্বজনীন ন্যায়, প্রেম ও ধর্মের প্রতীক ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি। তিনি বিষ্ণুর অষ্টম অবতার, যিনি অধর্মের বিনাশ ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী,মথুরার কারাগারে দেবকী ও বাসুদেবের অষ্টম সন্তান হিসেবে জন্ম নেন কৃষ্ণ। অত্যাচারী রাজা কংস, দেবকীর ভাই, ভবিষ্যদ্বাণীর ভয়ে নবজাতককে হত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু অলৌকিক শক্তির প্রভাবে কৃষ্ণকে নিরাপদে গোকুলে পৌঁছে দেন বাসুদেব। পরে যশোদা ও নন্দলাল তাঁকে নিজের সন্তান হিসেবে লালন-পালন করেন।
শৈশবে কৃষ্ণের বাঁশির সুরে গোকুল ভরে উঠত আনন্দে। গোপাল লীলা, রাধার সঙ্গে অমর প্রেমকাহিনি, দুর্বৃত্ত কংস ও অসুর দমন—সবই ভক্তদের হৃদয়ে আজও অনন্ত স্মরণীয়। তাঁর জীবন আমাদের শিক্ষা দেয়, অন্যায় যত প্রবলই হোক না কেন, সত্য ও ন্যায়ের আলো শেষ পর্যন্ত অশুভকে পরাভূত করবেই।
ভগবদ্গীতায় কৃষ্ণের অমর বাণী—“কর্ম করো, ফলের প্রত্যাশা রেখো না”—শুধু ধর্মীয় শিক্ষাই নয়; এটি জীবনদর্শনের চিরন্তন মন্ত্র। কর্মনিষ্ঠা, সততা ও সাহসের পথে এগিয়ে যেতে এই উপদেশ আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
তাই জন্মাষ্টমী কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি প্রেম, দয়া, সত্য ও ন্যায়ের মহোৎসব। শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আত্মশুদ্ধির পথে চলা, মানবতার পতাকা উঁচিয়ে ধরা এবং অশুভকে পরাভূত করার শপথ নেওয়ার এটাই সঠিক মুহূর্ত।




















