অবৈধভাবে খাল কাটা চেষ্টা বন্ধ করলো এলাকাবাসী
- আপডেট সময় : ০৯:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৩ ২৪৩ বার পঠিত

ঢাকার ধামরাইয়ে অবৈধভাবে খাল কাটার চেষ্টা এলাকাবাসীর বাধা দিয়ে বন্ধ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে ধামরাই উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে ধামরাই ভূমি অফিসের একজন সার্ভেয়ার বাগমারা গ্রামের খালের সার্ভে করেন। এর কিছুক্ষণ পরই ধামরাই পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কমিশনার মো. আমজাদ হোসেন, সাবেক কমিশনার তোবারক হোসেন কামাল ও বাগমারা এলাকার ইটভাটা মালিক হীরা সেখানে মাটি কাটার ভেকু ও ট্রাকসহ উপস্থিত হন। তারা খাল থেকে দুই ট্রাক মাটি কেটে ফেলেন। খবর পেয়ে এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে খাল কাটার সরকারি অনুমতিপত্র দেখতে চান ও খাল খননের কারণ জানতে চান। তবে তারা জবাব দিতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ট্রাকের মাটি সেখানেই ফেলে তারা চলে যান।
যে কারণে খাল খননে বাঁধা
স্থানীয়রা জানান, বাগমারা গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার খাল বয়ে গেছে। মূল খালের জমি ৫০-৬০ ফুটের মতো। যার ২০-২৫ ফুট খালের গর্ভে ও বাকিটা তীরে। বর্ষাকালে খালে পানি থাকলেও শুকনো মৌসুমে খালে পানি থাকে না। এ কারণে শুষ্ক মৌসুমে খালে ধানের চাষ করেন কৃষকরা। বর্তমানেও ওই জমিতে চাষের ধান রয়েছে। যা কয়েকদিন পরেই কাটা হবে। তবে হঠাৎ করেই খাল খনন করতে আসায় তারা কারণ জানতে চান।
স্থানীয় কৃষক রাহিম আলী বলেন, ‘তারা একটা নোটিশ বা মৌখিক ভাবে বললে আমরা হয়তো কয়েকদিন সময় চাইতাম। যাতে ধানটা কাটার সময় পাই। কিন্তু হঠাৎ করেই তারা ধানের ওপর দিয়ে ভেকু ও ট্রাক তুলে দেয়। তবুও যেহেতু সরকারি খাল তাই আমরা তাদের জিজ্ঞেস করি সরকারিভাবে কাটার অনুমতি আছে কি না। তখন তারা কোনো কাগজপত্র বা অনুমতিপত্র দেখাতে পারেনি। তখন গ্রামের সবাই তাদের বাধা দেয়।’
সাদ্দাম হোসেন নামে আরেকজন বলেন, ‘তারা অবৈধভাবে খাল কাটতে এসেছিল। তখন এলাকার সবাই বাঁধা দেয়। এতেই তারা দ্রুত সরে যায়।’
মাটি কাটার স্বীকার করলেন না কেউই
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে একটি ভেকু ও দুইটি ট্রাক নিয়ে খালের মাটি কাটা হয়েছিল। সে সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেন ধামরাই পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কমিশনার মো. আমজাদ হোসেন, সাবেক কমিশনার তোবারক হোসেন কামাল ও বাগমারা এলাকার ইটভাটা মালিক হীরা।
বিষয়টি নিয়ে জানতে তিনজনের সঙ্গেই যোগাযোগ করা হয়। এরমধ্যে আমজাদ হোসেন মাটি কাটার কথা স্বীকার করেন ও কোনো টেন্ডার হয়নি বলেও জানান।
তিনি বলেন, “ওই খালটি ইউএনও সার্ভে করতে বলেছেন। খালটি খনন করা হবে। আমরা খালের ইজারা নিতে চাই। তাই সার্ভের সময় গিয়ে কিছু মাটি খনন করে পরীক্ষা করে দেখি মাটি ঠিকমতো আছে কি না।”
তবে ইটভাটা ব্যবসায়ী হীরা ও সাবেক কমিশনার তোবারক হোসেন কামাল মাটি কাটার কথা স্বীকার করেননি। এমনকি সরাসরি বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্যও করতে অস্বীকার করেন। এরমধ্যে হীরা বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
সার্ভেয়ার ও ইউএনও যা বললেন
খাল খননের জন্য ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে খালের সার্ভে করতে যান উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মিলন হোসেন।
তিনি বলেন, আমি ইউএনওর নির্দেশে সার্ভে করতে যাই। সার্ভে শেষে চলে আসি। খালটি পরবর্তীতে ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে খনন করা হবে। এখনও কাউকে কাটার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, সার্ভে ও মাটি খনন এর বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন, অনুমতি ছাড়া কেউ খনন কাজ করতে পারবে না।




















