ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’, কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে দৌলতদিয়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে চুরি, খোয়া গেল চারটি মাইকের হর্ন আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ- শতাধিক কারখানা বন্ধ দৌলতপুরের পল্লী উন্নয়নের উদ্যোগে এমপি বাচ্চু মোল্লাকে সংবর্ধনা সালথায় জমির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১৫ বাড়ি ভাঙচুর পঞ্চগড়ে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাইকগাছায় ওয়ারিশ সনদ নিয়ে বিরোধ গভীর রাতে রান্নাঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে সালথার নটখোলায় বিশাল ওয়াজ মাহফিল ,হাজারো মানুষের ঢল’ রাজবাড়ীতে স্বামীর অর্থ আত্মসাতের মামলায় নার্স স্ত্রী কারাগারে বাগালির ৫নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের হাওয়া: দিন-রাত গণসংযোগে ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমরান হোসেন

অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে

মোঃ মাহমুদুল হাসান বাবু, পঞ্চগড়:
  • আপডেট সময় : ০৭:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ৬০ বার পঠিত

পঞ্চগড়ে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাসদস্যের ভোগদখলে থাকা ১৩ শতক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তাকে প্রাণনাশ ও মারধরের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করার পাশাপাশি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তবে দীর্ঘদিনেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের সামনে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য।
ঘটনাটি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাগজিয়াপাড়া গ্রামের। ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের নাম মশিউর রহমান। অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক একই গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি এনসিপির নেতা হিসেবে পরিচিত।
গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন মশিউর রহমান। পরে সাংবাদিকেরা তার অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে কাগজিয়াপাড়ায় গিয়ে ওই জমি পরিদর্শন করেন।
মশিউর রহমানের অভিযোগ, ২০১০ সালে তিনি ১৩ শতক জমি কিনে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও গাছ লাগিয়ে ভোগদখল করে আসছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে ওই জমিতে পরিবারের লোকজন চাষাবাদ করতে গেলে মোজাম্মেল হক ও তার লোকজন বাধা দেন। এ সময় তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মশিউর রহমান বলেন, এরপর গত বছরের নভেম্বর মাসে জমিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রস্তুতি নিতে গেলে আবারও বাধা দেওয়া হয়। এ সময় নির্মাণশ্রমিকদেরও গালিগালাজ করা হয়। তাকে জমি থেকে উচ্ছেদ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
এ ঘটনায় তিনি আদালতে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। মামলায় মোজাম্মেল হকসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ১ নভেম্বর মোজাম্মেল হক ও তার লোকজন মশিউর রহমানের জমিতে বাড়ি নির্মাণে বাধা দেন। এ সময় নির্মাণশ্রমিকদের বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করার পাশাপাশি মশিউর রহমানকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১৩ শতক জমিটির তিন পাশে ইটের সীমানাপ্রাচীর রয়েছে। এর ওপর বাঁশের বেড়া দেওয়া। জমির বেশির ভাগ অংশ ফাঁকা। সামনের অংশে মালিকানা দাবি করে দুটি সাইনবোর্ড রয়েছে। এ ছাড়া একটি টিনের চালা খুঁটির ওপর স্থাপন করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের সামনে মশিউর রহমান বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছি। এখন মোজাম্মেল হক ও তার লোকজন অন্যায়ভাবে জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে এর বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, আমি মশিউর রহমানের জমি দখলের কোনো চেষ্টা করিনি। তার দাবি, জমি নিয়ে মশিউর রহমান তার বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা করেছেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মোজাম্মেল হক বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সারজিস আলমের শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি পৌর এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত এমন তথ্যও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।

ট্যাগস :

অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৭:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

পঞ্চগড়ে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাসদস্যের ভোগদখলে থাকা ১৩ শতক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তাকে প্রাণনাশ ও মারধরের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করার পাশাপাশি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তবে দীর্ঘদিনেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের সামনে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য।
ঘটনাটি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাগজিয়াপাড়া গ্রামের। ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের নাম মশিউর রহমান। অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক একই গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি এনসিপির নেতা হিসেবে পরিচিত।
গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন মশিউর রহমান। পরে সাংবাদিকেরা তার অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে কাগজিয়াপাড়ায় গিয়ে ওই জমি পরিদর্শন করেন।
মশিউর রহমানের অভিযোগ, ২০১০ সালে তিনি ১৩ শতক জমি কিনে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও গাছ লাগিয়ে ভোগদখল করে আসছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে ওই জমিতে পরিবারের লোকজন চাষাবাদ করতে গেলে মোজাম্মেল হক ও তার লোকজন বাধা দেন। এ সময় তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মশিউর রহমান বলেন, এরপর গত বছরের নভেম্বর মাসে জমিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রস্তুতি নিতে গেলে আবারও বাধা দেওয়া হয়। এ সময় নির্মাণশ্রমিকদেরও গালিগালাজ করা হয়। তাকে জমি থেকে উচ্ছেদ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
এ ঘটনায় তিনি আদালতে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। মামলায় মোজাম্মেল হকসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ১ নভেম্বর মোজাম্মেল হক ও তার লোকজন মশিউর রহমানের জমিতে বাড়ি নির্মাণে বাধা দেন। এ সময় নির্মাণশ্রমিকদের বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করার পাশাপাশি মশিউর রহমানকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১৩ শতক জমিটির তিন পাশে ইটের সীমানাপ্রাচীর রয়েছে। এর ওপর বাঁশের বেড়া দেওয়া। জমির বেশির ভাগ অংশ ফাঁকা। সামনের অংশে মালিকানা দাবি করে দুটি সাইনবোর্ড রয়েছে। এ ছাড়া একটি টিনের চালা খুঁটির ওপর স্থাপন করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের সামনে মশিউর রহমান বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছি। এখন মোজাম্মেল হক ও তার লোকজন অন্যায়ভাবে জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে এর বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, আমি মশিউর রহমানের জমি দখলের কোনো চেষ্টা করিনি। তার দাবি, জমি নিয়ে মশিউর রহমান তার বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা করেছেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মোজাম্মেল হক বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সারজিস আলমের শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি পৌর এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত এমন তথ্যও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।