সালথায় এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ: আহত ২০
- আপডেট সময় : ০৬:১৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮৩ বার পঠিত

ফরিদপুরের সালথায় এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা এলাকার সালথা-ময়েনদিয়া সড়কের ওপর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে ওই সড়কে অন্তত দুই ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও সোনাপুর ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহিদুল হাসান লাবলু ও সালথা সরকারী কলেজের বাংলা প্রভাষক বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদীন সাখাওয়াতের সঙ্গে সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজিজুল হক মোল্যা এবং বিএনপি নেতা মো. সরোয়ার হোসেনের বিরোধ চলে আসছিল।
এর মধ্যে সরোয়ার হোসেন ও অ্যাটভোকেট জাহিদুল হাসান লাবলু সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী। তারা দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী কয়েকমাস ধরে ওই ইউনিয়নে প্রচার-প্রচারনাও করে আসছেন। যে কারণে তাদের দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়ে উঠে।
তারা আরো জানান, চলমান বিরোধের মধ্যে বিএনপি নেতা সরোয়ার হোসেনের সমর্থক যোগারদিয়া গ্রামের টুকু মাতুব্বরকে দলে ভিড়ানোর চাপ দেন লাবলুর সমর্থকরা। এরই মধ্যে সোমবার বিকেলে টুকু সোনাপুর বাজারে গেলে তাকে মারধর করে লাবলুর লোকজন। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের স্থানীয় কয়েক গ্রামের হাজারো সমর্থক দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ফুকরা এলাকার সালথা-ময়েনদিয়া সড়কে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী চলে ধাওয়া পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও নগরকান্দা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে সংঘর্ষের কারণে সালথা-ময়েনদিয়া সড়কে দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে যানবাহন চালক ও সাধারন যাত্রীরা।
সংঘর্ষের বিষয় সোনাপুর ইউনিয়নের সম্ভব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, আমি এলাকায় দলপক্ষ পরিচালনা করি না। আমাদের সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আজিজুল হক মোল্যা দল পরিচালনা করেন। আমি তার দলের একজন সমর্থক। তবে যতটা শুনেছি, আমাদের দলের লোকজনকে জোরপূর্বক লাবলু ও জয়নাল তাদের দলে ভিড়ানোর চেষ্টা করায় এসব সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
সালথা সরকারী কলেজের বাংলা প্রভাষক বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদীন সাখাওয়াত বলেন, আমি কাউকে দলে ভিড়াতে কোনপ্রকার চাপ দেইনি। উল্টো ফুকরা গ্রামের ফজলু ও টুকু মাতুব্বর আমার চাচাতো ভাই হৃদয়কে সার্টের কলার ধরে, পরে বাজারে থাকা লেকজন তাদের ধাওয়া দেয়। পরে তারা আবার ঢাল সরকি নিয়ে এসে আমাদের লোকজনের উপর হামলা করলে আমদের লোকজন প্রতিহত করে।
তবে বিএনপি নেতা অ্যাটভোকেট লাবলু ও আজিজুল হকের সাথে যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে বড় ধরণের সহিংসতা শুরুর আগেই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। ওই এলাকার এখন শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে।




















